Home / জাতীয় / বিশেষ প্রতিবেদন / অন্ধ মিডিয়ার, বন্ধ গলিতে বেগম জিয়া!

অন্ধ মিডিয়ার, বন্ধ গলিতে বেগম জিয়া!

ক্রাইম প্রতিদিন : হঠাৎ করেই মনে হয়, রাজনীতিতে অলিখিত এক সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। যার প্রতিফলন ইতিমধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি। এটা রাজনীতি, অর্থনীতি তথা দেশের জন্য শুভ সংকেত। আমরা যদি লক্ষ্যকরি বেগম জিয়ার চলতি মাসে দেশে ফেরার দিন বিমান বন্দরে নেতা কর্মীদের কোন বাঁধা না দেওয়া। রোহিঙ্গা শিবিরের চার দিনের কক্সবাজার রোড-শো, তে সরকারী কোন বাধা না দেওয়া, যদিও ফেনিতে অনাকাংখিত গাড়ি ভাংচুর, সর্বশেষ গত, ১২ই নভেম্বর বেগম জিয়ার শান্তি পুর্ন সমাবেশ পালন, সব কিছুই রাজনীতির জন্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আনার একটা প্রচেষ্টা যে, সরকারী মহল থেকেও চাইতেছে তা বুঝা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথায়। “আমরা প্রশ্নবিদ্ধ কোন নির্বাচন চাইনা, কিংবা এবারের নির্বাচন হবে কঠিন প্রতিদন্দিতা মূলক” সব কিছুতেই রাজনৈতিক আবহ বিরাজ করছে।

আসলে আমরা এখনো লেখার শিরোনাম থেকে কিছুটা দুরে রয়ে গেছি। “অন্ধ মিডিয়ার, বন্ধ গলিতে বেগম জিয়া” আসলে কাউকে যদি হাত-পা বেঁধে পানিতে ফেলে সাঁতার কাটতে বলা হয় তাহলে যেমন হয় বিষয় টা। গতকাল বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও অনলাইন মিডিয়াতে দেখলাম সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেছেন কয়জন সাংবাদিক আছে এক লাইন শুদ্ধ বানান লিখতে পারে, কিংবা এখন সাংবাদিকরা, এক জনের লেখা কপি করে সবাই “কপি সাংবাদিকতা করে। আবার বিজ্ঞ সাংবাদিকরাও তা ফলাও করে পত্রিকায় তা প্রকাশ করে বা আমরা করি। কেউ কোন প্রশ্ন করিনা। বেগম জিয়ার ১২ই নভেম্বরের সমাবেশের অনুষ্ঠান কিন্তু কোন টিভি চ্যানেল এবার সরাসরি সম্প্রচার করেনি। বিগত ১৫ বছরের মধ্যে মনে হয় এক ব্যতিক্রমী কর্মশালা। যেখানে গুলশান হামলা কিংবা গাড়ী পোড়ানো, হরতালের মত কর্মসূচি সরাসরি সম্প্রচার করে টিভি চ্যানেল গুলো নিজেদের “টি আর পি” বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে সেখানে তিনবারের, নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি প্রচারে অনিহা, ভাবতেই অবাক লাগে। কোন অন্ধ আবেগে আমাদের বিবেক বন্ধ রাখি, তা হয়তো অনেক সময় নিজেরাও জানিনা। এই হচ্ছে আমাদের স্বাধীন সম্প্রচার কিংবা গনমাধ্যম নীতি।

“১২ই নভেম্বর সমাবেশের দিন আরো একটি লক্ষনীয় বিষয় ছিল, বেলা বাড়ার সাথে-সাথে ঢাকার চারপাশ সহ ঢাকার শহরের ভিতরে হঠাৎ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রী “ বরাবরের মতই বললেন উনি জানেন না কেন যান চলাচল বন্ধ, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন। পরিবহন সংস্থাগুলো বলতেছে আনাকাংকিত পরিস্থিতি এড়াতে যান চলাচল বন্ধ রাখা হলো। কিন্তু সাধারন মানুষের প্রশ্ন হলো ঢাকায় কি শুধু “বিএনপি” সমর্থক লোকজনেরই বসবাস, কিংবা চলাচল। শুধু মাত্র সমাবেশের কারনে রাস্তায় গাড়ি নেই। যার জন্য সারাদিন ব্যাপি সাধারন মানুষের ভোগান্তি হয়েছে। এর দায়ভার কে নিবে? ’সরকার-নাকি বি এন পি’। তবে ঘটনা – যাই ঘটুক বিষয়টা কিন্তু বি এন পির অনুকুলে কাজ করেছে। কারন রাস্তায় যখন মানুষের চলাচল, তখন স্বাভাবিক ভাবেই তারা সবাই সমাবেশের জনগন বলে চালিয়ে দিলো বিএনপি। অগত্যা যানজটের ঢাকায় দেখাগেল শুধু-মানুষের পদচারনা, যা  বিএনপির জন্য সাপে- বর হিসেবে কাজ করেছে। একদিকে গনমাধ্যমের কন্ঠরোধ অন্য দিকে পরিবহন মালিকদের একদিনের গাড়ী বন্ধ, বিষয় টা কিন্তু অলিখিত ভাবে সরকারের বিরুদ্ধেই গেছে। কারন তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয় গুলো অবশ্যই সরকার কিংবা সরকার দলের উপদেষ্ঠা মন্ডলীরা আগামীতে ভেবে দেখবেন বলেই আমরা আশা রাখি।

তবে পরিস্থিতি এখনো ঘোলাটে কারন বেগম জিয়া বলেছেন “ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না ” আবার সরকার দলীয় নেতা কর্মীরা বলেছেন, “ শেখ হাসিনার অধিনেই নির্বাচন হবে ” তবে সব কিছু চাপিয়ে উজ্জিবিত বেগম জিয়া, উজ্জীবিত নেতা – কর্মীরা যে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত তা লক্ষনীয়।

তবে হুদা কমিশনের বেহুদা কথাবার্তা, নিজেকে অতিমাত্রায় নিরপেক্ষ প্রমাণ করতে গিয়ে, আরেকজন সিন্হা বাবু কাহিনি ঘটে যায় কিনা নির্বাচনের আগমুহুর্তে। তা একটি ঐতিহাসিক প্রশ্ন জাতির সামনে।

মোঃ ইসমত দ্দোহা, ঢাকা

Print Friendly, PDF & Email

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 46
    Shares
x

Check Also

উদ্বোধনের অপেক্ষায় গোপালগঞ্জ নতুন রেলপথ

ক্রাইম প্রতিদিন, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে সাড়ে ১২শ’ ...