Home / সারাদেশ / অবশেষে সন্ধান মিলেছে সেই নবজাতকের মায়ের

অবশেষে সন্ধান মিলেছে সেই নবজাতকের মায়ের

ক্রাইম প্রতিদিন, হুমায়ুন কবীর, কেন্দুয়া : অবশেষে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সাজিউড়ার বানিয়াগাতি গ্রামে ঝোপের ভেতর পাওয়া নবজাতকের মায়ের সন্ধান মিলেছে । অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে বানিয়াগাতি গ্রামের মৃত রহিছউদ্দিনের স্ত্রী বিধবা হোসনা আক্তারের(৩৮) গর্ভজাত সন্তান ওই নবজাতক । হোসনা আক্তারের বাবার নাম তৈয়ব আলী বলে জানা গেছে । ওই বিধবা নারীর রাকিব নামে ১০ বছরের অপর এক পুত্র সন্তানও রয়েছে ।

বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ ‍, একই গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে মামুন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে হোসনা আক্তারের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করে মেলামেশা করে আসছিল । তাদের গোপন মেলামেশার ফলেই এ সন্তান হোসনা আক্তারের গর্ভে আসে ।
সন্তান গর্ভে আসার বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রেখে আসছিল ওই নারী । গত বুধবার গভীর রাতে তার প্রসব ব্যাথা উঠলে মামুনের মা মমতা আক্তার হোসনা আক্তারকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায় । সেখানেই ওই নবজাতক ভূমিষ্ঠ হয়েছে বলে অপর একটি সূত্রে প্রকাশ । পরে গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে পাঁচটায় বানিয়াগাতী গ্রামের শাহজাহান মাস্টারের বাড়ির পেছনে রাস্তার পাশে ঝোঁপের ভেতরে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পায় একই গ্রামের মীনা আক্তার নামে এক নারী । তবে গ্রামের একাধিক সূত্রে জানা যায়- হোসনা আক্তারের গর্ভ থেকে ওই নবজাতককে প্রসব করানোর সাথে মিনা আক্তারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে । ওই নবজাতককে ঝোঁপের ভেতরে কুড়িয়ে পাওয়ার বিষয়টি নিচক একটি নাটক বৈ আর কিছু নয় হুসনা পুলিশ ও গ্রামবাসীকে জানায় ওই সন্তান তিনি গর্ভে ধারন করেছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে একই গ্রামে আবুল হাসেমের স্ত্রী মমতা আক্তার তার সন্তান প্রসব করান। এর পর সন্তান কোথায় নিয়ে যায় তা হুসনা বলতে পারে না। চেতন ফিরে আসলে সন্তানের খোঁজ করতে থাকেন হুসনা।

অনেকেই বলছে একই গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী মিনা আক্তার একটি সন্তান বৃহস্পতিবার সকালে রাস্তার পাশে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। কিন্তু প্রকৃত বিষটি মিনা আক্তার জানার পরও তা তিনি গোপন রেখে নাটক শুরু করেছিলেন । অবশেষে তার সে নাটকের আসল রহস্য বেরিয়ে পড়েছে। এ বিষয়টি হুসনা জানার পর এই সন্তান তার বলে তিনি গ্রামবাসীকে জানান। তিনি গ্রামবাসীকে আরো জানান বানিয়াগাতী গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে মামুন তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে মেলামেশা করেছে এর ফলেই তার গর্ভে সন্তান আসে।

তিনি তার সন্তান ফিরে পেতে চান। কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: সিরাজুল ইসলাম জানান, নবজাতক স্বাধীন আহমেদের মায়ের পরিচয় মিলেছে। তার মায়ের নাম হুসনা আক্তার এটি আমরা প্রাথমিক ভাবে তথ্য পেয়েছি। নবজাতকের উদ্ধারকারী কর্মকর্তা পেমই তদন্ত কেন্দ্রের এস.আই. আবুল হাসেম এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নবজাতকের মায়ের পরিচয় আমরা পেয়েছি বিস্তারিত তদন্ত করে আইনগত ভাবেই সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নবজাতক স্বাধীন আহমেদের সুস্থ্যতা ও চিকিৎসার ব্যায় ভার গ্রহন করেছিলেন কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুকতাদিরুল আহমেদ। উপজেলা সমাজসেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে নবজাতক স্বাধীন আহমেদ নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে শিশু বিভাগে ভর্তি রয়েছে সে সুস্থ্যও আছে।

Print Friendly, PDF & Email

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 10
    Shares