Home / ক্রাইম প্রতিদিন / আদালতে চার্জশিট জালিয়াতি, গ্রেফতার ৩

আদালতে চার্জশিট জালিয়াতি, গ্রেফতার ৩

ক্রাইম প্রতিদিন, মহিনুল ইসলাম সুজন, নীলফামারী : নীলফামারীতে আদালতের চার্জশিট জালিয়তি করায় জেলা জজ আদালতের দায়রা সহকারী মো. ইসমাইল হোসেনসহ (৩৩) তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অপর দুই ব্যক্তি হলেন, মামলার আসামী ও প্রধান ডাকঘরের কর্মচারী তছলিম উদ্দিন (৬৪) ও নীলফামারী জজ আদালতের আইনজীবীর সহকারী ও ডিমলা উপজেলার দক্ষিন তিতপাড়া মেডিকেল মোড়ের বাসীন্দা আবুল কাশেম (৫৫)। সোমবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সদর থানা পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করেন।

জানা যায়, নীলফামারী প্রধান ডাকঘরে জালিয়াতি মাধ্যমে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের চার কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় দুদকের দাখিল করা মূল চার্জশিট সরিয়ে ভুয়া চার্জশিট মামলার নথিতে সংযোজন করার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার হয়েছে। এ ছাড়াও ভুয়া ওই চার্জশিট সংযোজনে তিন জন বিচারকের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

মামলার বিবরনে, গত ১৯ এপ্রিল থানায় দায়ের হওয়া প্রধান ডাকঘরে ২০০৫ সালে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের চার কোটি ৩২ লাখ টাকা জালিয়াতি করে আত্মসাতের ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের হয়। পরবর্তীতে মামলাদুটি দুদকে পাঠানো হলে জেষ্ঠ্য বিশেষ জজ আদালতে স্পেশাল কেস হিসেবে চালু হয়। ওই মামলার তদন্ত শেষে দুদক ২০১৬ সালের ২৮ আগাস্ট পাঁচ জনের নামে চার্জশিট দাখিল করেন।

জেলা জজ আদালতের দায়রা সহকারী মো. ইসমাইল হোসেন মামলা দুটির চার্জশিটের নথি গ্রহন করে রহস্যজনকভাবে দুই মাস দুই দিন পর (৩১ অক্টোবর) গ্রহন দেখান। পাশাপাশি দুদকের দাখিল করা মূল চার্জশিট বদলিয়ে একটি ভুয়া চার্জশিট মামলার নথিতে সংযুক্ত করেন। ওই ভুয়া চার্জশিটে তিন জনের নাম রেখে অপর দুই জনের নাম বাদ রাখা হয়।

২০১৭ সালের ৬ই মার্চ মামলা দুটির শুনানী কালে দুর্নীতি দমন কমিশনের সরকারী আইনজীবী নথিতে সংযুক্ত ও দুদকের দাখিল করা চার্জশিটের গরমিল দেখতে পেয়ে আদালতের নজরে আসে।

আদালতের বিচারক ওই চার্জশিট যাচাইয়ের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন সম্বন্বিত জেলা কার্যালয় দিনাজপুরের উপ-পরিচালক বরাবরে পাঠানোর আদেশ দেন। যাচাই বাছাইয়ে মামলার নথিতে ভুয়া চার্জশিট সংযুক্তের বিষয়টি প্রমানিত হয়।

মামলার আরজিতে বলা হয়, ওই জালিয়াতিতে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ মো. নাসিরুল হক, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সামিউল ইসলাম, মুহাম্মদ আকরাম হোসেনের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। মুল আদেশ গুলোতে আদালত পুলিশ কর্মকর্তার হাতের লেখার সঙ্গে সংযুক্ত ভুয়া চার্জশিটে একই কর্মকর্তার হাতের লেখা অমিল পাওয়া যায়।

নীলফামারী সদর ওসি বাবুল আকতার বলেন, ওই নথি জালিয়াতির ঘটনায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির ভারপ্রাপ্ত নাজির সোহেল শাহ্ বাদি হয়ে গত ১৯শে এপ্রিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় জেলা জজ আদালতের দায়রা সহকারী মো. ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে আইনজীবী সহকারী আবুল কাশেম ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক জালিয়াতি মামলার আসামী প্রধান ডাকঘরের কর্মচারী তছলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিকালে তাদেরকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সামিউল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়।

জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অক্ষয় কুমার রায় বলেন, ২০০৫ সালে দায়ের হওয়া মামলাটিতে একটিতে পাঁচ জন আরেকটিতে সাত জন আসামী ছিলেন। দুদুক মামলা দুটি তদন্ত করে পাঁচ জনের নামে চার্জসিট দাখিল করেন।

তিনি বলেন, ওই চক্রটি চার্জসিটের মূল নথি সরিয়ে দুই জনের নাম বাদ দিয়ে তিন জনের নামের ভুয়া একটি চার্জশিট সংযুক্ত করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে ওই জালিয়াতির সঙ্গে জেলা জজ আদালতের দায়রা সহকারী মো. ইসমাইল হোসেন জড়িত রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 27
    Shares
x

Check Also

ফারুক খানের জন্মদিন পালন করেছেন ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদ

ক্রাইম প্রতিদিন : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক ...