সংবাদ শিরোনাম
Home / জাতীয় / আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে যা বললেন কাদের

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে যা বললেন কাদের

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : কোটার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ফয়সালা করে দিয়েছেন। কোটা থাকবে না। এরপর এখানে কখন গেজেট হল কি হল না, এখানেতো চিন্তা-ভাবনা আছে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, অনুন্নত জেলা, নারী ও মুক্তিযোদ্ধারা আছে তাই এখানে একটি সুসমন্বিত কিছু করার চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বিদেশেও ছিলেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটা থেমে নেই। এই কোটার আন্দোলন যে কারণে, সেটাইতো বাতিল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে যেটা বলেছেন সেটা আমাদের বিশ্বাস করা উচিত।

রোববার (১৩ মে) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়েরর সভাকক্ষে কোটা সংস্কার ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, উনি (প্রধানমন্ত্রী) কথা দিয়ে কখনও কথা ব্রেক করেন না। সংসদে যা বললেন সেটার গেজেট প্রকাশের জন্য আন্দোলনের জন্য হুমকি, এটা সমীচীন হচ্ছে না। আমি ছাত্র সমাজকে বলব, তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবির ব্যাপারে সরকার খুবই সহানুভূতিশীল এবং সক্রিয়। তাই তাদেরকে বলব, ধৈর্য্য ধরতে। অনতিবিলম্বে তারা সমাধান পেয়ে যাবে। এ নিয়ে আন্দোলন, পরীক্ষা, ক্লাস বর্জন এমনিতেই অনেক ক্ষতি আমাদের হচ্ছে। আশা করি তারা ক্যাম্পাসে ফিরে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথা এদিক-সেদিক হবে না। তবে, এখানে যদি কেউ রাজনীতি করতে চান, সেটা ভিন্ন কথা। গেজেট কখন হল কি হল না, প্রধানমন্ত্রীর মুখের কথায় আস্থা স্থাপন করা উচিৎ, বিশ্বাস করা উচিৎ।

এদিকে কোটা সংস্কার ও প্রজ্ঞাপনের দাবিতে আজ সকাল থেকে সারা দেশের সকল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে বিক্ষোভ মিছিল পালন করছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর আগে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা না পেয়ে আবার কর্মসূচি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা।

গত ৮ এপ্রিল থেকে পাঁচ দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন। পরদিন সচিবালয়ে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনকারীরা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রীর আশ্বাসে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনও ৭ মে পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর ৯ এপ্রিল রাতে আন্দোলন স্থগিত হয়ে যায়। তবে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ১০ এপ্রিল থেকে ফের আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা কোটা সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসার দাবি জানান।

পরে ১২ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোটা পদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করে সব চাকরিতে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেন। এর দুই সপ্তাহ পরে গত ২৬ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি জানান আন্দোলনকারী। না হলে ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন তারা।

পরদিন ২৭ এপ্রিল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। সর্বশেষ গত ২ মে সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের ক্ষোভ থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ছাত্ররা কোটা ব্যবস্থা বাতিল চেয়েছে, বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ ১০ মে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান জানান, কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 12
    Shares