Home / লিড নিউজ / ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থীকে হল ছাড়া করল ছাত্রলীগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থীকে হল ছাড়া করল ছাত্রলীগ

ক্রাইম প্রতিদিন, ইবি : দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ ২২ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগ। তারা সকলেই ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিনের কর্মী বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির দখলে থাকা লালন শাহ হল থেকে বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় তাদেরকে বের করে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় হল সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার সারা দেশের ন্যায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয় প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী। আন্দোলন বাধাগ্রস্থ করার জন্য দলীয় কর্মীদের অংশ গ্রহণ না করার নির্দেশ দেয় ইবি শাখা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক ছাত্রলীগ কর্মী কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে যারা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে তাদের চিহ্নিত করে ১১ ঘন্টার (পরদিন সকাল ১০টার মধ্যে) মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় সভাপতির আস্থাভাজন কর্মী সালাউদ্দিন আহমেদ সজল ও আবুল খায়ের মোল্লা। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীরা লালন শাহ হলের চিহ্নিত ২২ শিক্ষর্থীকে হল থেকে বের করে দেয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের হাবিব, আশরাফুল, মেহেদী, লিমন, ফয়সাল, শাকিল, মেহেদী হাসান, নাইম, শিমুল, একই শিক্ষাবর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিল্লাল হোসাইন, রাসেল মুরাদ, আশিকুর রহমান, আশিক, রহমান, রাশেদ, রবিউল, আশিক, আশানুর মোল্লা, মেহেদী হাসান, রাব্বুল, গোলাম রাব্বী। একই বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আশিক ও নিশাত। আরবী ভাষা সাহিত্য বিভাগের আব্দুর রশিদ। এর মধ্যে বিল্লাল হোসাইন এবং আশানুর মোল্লা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, গতকাল রাত পৌনে ১১টায় ছাত্রলীগ কর্মী সালাহউদ্দিন আহমেদ সজল, মেহেদী, আশরাফুল ইসলাম ও হাবীবসহ ১০-১২ জন তাদেরকে হলের ৩৩৫ নম্বর রুমে ডেকে হুমকি ধামকি দিয়ে (১২ এপ্রিল) সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার আল্টিমেটাম দেয়। এর মধ্যে হল না ছাড়লে জোর পূর্বক তাদের হল থেকে বের করে দেওয়া হবে বলে জানায় তারা। এর আগে সন্ধ্যায় সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন হলে এসে তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলেও জানা যায়।

এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমরা ছাড়াও আরো অনেক কর্মী গতকালের আন্দোলনে ছিল। কিন্তু কেবল আমাদের কয়জনকেই হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে দুঃখ নেই। দলকে ভালবাসি তাই কখনও দল ছাড়বনা। আর আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে কোটা সংস্কারের যৌক্তি আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেছিলাম। এটা আমার অপরাধ নয়।’

এদিকে শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে চলে গেলেও তাদেরকে হাঁসি মুখে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বিল্লাল হোসাইন বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি ছাত্রলীগ করি। আমি ছাত্রলীগকে ভালোবাসি। যৌক্তিক আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে আন্দোলন করেছি। দেশরত্নের ঘোষণায় আমাদের আন্দোলন সফল হয়েছে। হল ছেড়ে চলে যেতে আমার কোন দুঃখ নেই। আমি স্যালুট করি বঙ্গবন্ধুকে। আমি স্যালুট করি আমার ছাত্রলীগ নেতাদেরকে।’

এবিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাঁরা হল থেকে চলে গেছে। তাদেরকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

Print Friendly, PDF & Email

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 23
    Shares