Home / লিড নিউজ / এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ারের হাতে মহিলা কর্মকর্তা লাঞ্চিত

এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ারের হাতে মহিলা কর্মকর্তা লাঞ্চিত

ক্রাইম প্রতিদিন, শাহ্ আলম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে এলজিইডি ইঞ্জিনিয়ারের হাতে এক মহিলা কর্মকর্তাকে লাঞ্চিতের অভিযোগ উঠেছে।বিষয়টি নিরসনের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী মাসুক ই-মোহাম্মদ বুধবার(আজ) দুপুরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের সাথে বসেন।কিন্তু সাব:ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান পলাশ ভুক্তভোগী কে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিরসন না করেই ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

সংশ্লিষ্ঠ সুত্রে জানাগেছে,গত বছরের ১০জানুয়ারি নাচোল উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরে একাউন্ট সেকশনে মহিলা কর্মকর্তা হিসাবে শামিমা খাতুন যোগদান করেন।যোগদানের পর থেকেই শামিমা খাতুন কে উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের সাব:ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান পলাশ নানা অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে ডিস্টার্ব করার চেষ্টা করতে থাকে।সাব:ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান পলাশ দিনের পর দিন শামিমা খাতুন কে ডিস্টার্ব করতে থাকলে এক সময় শামিমা খাতুন উপজেলা প্রকৌশলী( সাবেক অব:)রওশান আলী মিঞা কে বিষয়টি অবহিত করলে একাউন্ট কর্মকর্তা শামিমা খাতুন কে ডিস্টার্ব করার অপরাধে পরস্পর সাব:ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান পলাশ কে গত বছরে তিনবার শোকজ করা হয়।কিন্তু তাঁর পরেও থেমে থাকেনী সাব:ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান পলাশ এর অপকৃর্তি।উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের একাউন্ট মহিলা কর্মকর্তা শামিমা খাতুন সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করে বলেন,গত ১৪জুন( রমজান ঈদের আগে)বুধবার সকালে প্রতিদিনের মত অফিসে এসে কাজে করতে থাকি।

বেলা ১২টার দিকে সেদিন সাব:ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান পলাশ আমাদের অফিসের পিয়ন নার্গিস এর মাধ্যমে টেন্ডারের ফাইল রেডি করতে আমাকে বলে।কিন্তু আমি উপজেলা প্রকৌশলীর অনুমতি ছাড়া ফাইল রেডি করতে পারব না বলে সাব:ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান পলাশ কে বিষয়টি আমি অবহিত করি।পরে সাব:ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান পলাশ আমার নম্বরে একাধিকবার ফোন দিতে থাকে।আমি অফিসের কাজে ব্যাস্ত থাকায় ফোনটি ধরতে দেরি হওয়ায় ঐ দিন দুপুরে সাব:ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান পলাশ আমার রুমে প্রবেশ করে বলে আপনি আমার ফোনটি রিসিভ করছেন না কেন।আপনার সাথে আমার কিছু পারসনাল কথা আছে।আমি সার কে বললাম কি কথা আছে সামনা সামনি বলেন,কথা বলার একপর্যায়ে সাব:ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান পলাশ আমাকে চেয়ার তুলে মারতে আসে।পরে অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা সহ ইউপি সদস্য গাফফার আলী এসে আমাকে প্রানে বাঁচায়।তবে শামিমা খাতুনের দাবি সাব:ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান পলাশ দীর্ঘদিন ধরে নাচোল উপজেলায় কর্মরত থাকার ফলে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন।তাঁকে যদি নাচোল উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তর থেকে ট্রান্সফার করা না হয় তাহলে সে আমার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেস্টা করবে এবং প্রাননাসের মত ঘটনা ঘটাবে বলে জানান।

এ বিষয়ে সাব:ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান পলাশের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান মোবাইলে কথা বলা যাবে না।আমি সব সাংবাদিক কে কিনতে পারি বলে ফোনটি কেটে দেন।

এ বিষয়ে সদর ইউপি সদস্য গাফফার আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,গত ১৪জুন দুপুরে আমি উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরে টেন্ডারের কাগজ পত্র জমা দিতে যাই।গিয়ে দেখি সাব:ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান পলাশ একাউন্ট কর্মকর্তা কে চেয়ার তুলে মারতে যাচ্ছে।আমি সাব:ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান পলাশ এর কাছে থেকে চেয়ারটি কেড়ে নিই।কিন্তু পরে সাব:ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান পলাশ আমাকে বলে এ কথা যদি কাউকে বলি তাহলে আমার সব টেন্ডার ফাইল ও বরাদ্ধের বিল বন্ধ করে দিব বলে হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মাসুক ই মোহাম্মদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব ।

Print Friendly, PDF & Email

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 11
    Shares
x

Check Also

চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে এলজিইডির কর্মচারীদের মানববন্ধন

ক্রাইম প্রতিদিন, মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ে ...