Home / সাহিত্য / ওরা কথা বলতে জানে : সাবিনা ইয়াসমিন রত্না

ওরা কথা বলতে জানে : সাবিনা ইয়াসমিন রত্না

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : গাঢ় অন্ধকার, রাত অনেকটা গভীর। বাঁশ বাগানের মধ্যে জোনাকীর আলো দেখা যাচ্ছে। ঝি ঝি পোকার অস্বাভাবিক ডাকের মাঝেও শোনা যাচ্ছে মানুষের গুনজন।

কারা; কারা, ওহানে? জয়নাল আবেদীন, সবাই ডাকে জয়নাল বলে।জয়নালের এক হাতে বদনা, আর এক হাতে হারিকেন নিয়ে এগিয়ে এল। জয়নালের কণ্ঠস্বর ওদের হৃৎপিণ্ড কাঁপিয়ে দিল। এটাই বাস্তব। অসৎ লোকেরা যতোই শক্তিশালী হোক ভিতরে ভিতরে তারা খুব দুর্বল। ওরা পালিয়ে গেলে জয়নাল বাগানের ভেতরে প্রবেশ করলো না।

চারদিক তখন ৭১-এর কালো থাবা। কে জানে ঐ গভীর জঙ্গলে কারা ছিল! কি করছিল ওরা? ওরা বাগান থেকে বেরিয়ে যেন হাফ ছেঁড়ে বাঁচল। দ্রুত গাড়ি ছেড়ে শহরের দিকে ছুটে চলল।

এদিকে জয়নালও ভেতরে ভেতরে খুব ভয় পেয়ে গেছে। তবু জয়নাল সাহস করে যে, এগিয়ে গেছে এটাই বড়। ওরা যে পালিয়ে না গিয়ে জয়নালকে মারতে আসেনী। এটাই সৌভাগ্য।

কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে ডাকল। রহির মা ও রহির মা। ঘুম জড়ানো চোখে হাতে লন্ঠন, বেরিয়ে এলো জবেদা। অর্থাৎ রহিমার মা। তখনও জয়নাল কাঁপছিল লণ্ঠনের আলোয় বেশ দেখা গেল, জয়নালের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে আছে। জবেদার ঘুম ভাবটা কেটে গেলো।
কি হইছে তোমার?
কই গেছিলা একলা একলা?
জয়নাল চুপ।কি হইল কথা কও না ক্যান?
আমারে ঘরে নিয়া চল। পরে কইতাছি।
জবেদা স্বামীর শরীর স্পর্শ করে অনুভব করলো জয়নাল খুব ঘেমে গেছে। বেশ শীত এই শীতে ঘামতে দেখে জবেদা অস্থির হয়ে পড়ল বার বার জিজ্ঞেস করল কি হইছে? খড় বিছানো বিছানায় বসে আরাম বোধ করলো। এবার সঙ্গিনীর কাছে বললঃ আইজ বাইচা গেছিরে রহির মা, বাইছা গেছি। ক্যান কিডা মারতি আইছিল তোমারে?
আহে নাই তয় আইত। বাগানের মইধ্যে কারা য্যান কি করতাছিল, আমার হাক শুইনা পালাই গ্যাছে। জবেদা চোখ বড় করে বলল, ক্যান গেছিলা, ক্যান গেছিলা তুমি বাহাদুরী দেহাইতে? দ্যাশের যা হাল, তোমারে যদি কিছু একটা কইরা ফেলাইত। জবেদা কেঁদে ফেলল। সে যে, সুখে দুঃখে এই মানুষটার উপরেই নির্ভর করে। জগৎ সংসারে স্বামীই যে তার সম্পদ।
জবেদার বড় মেয়ে রাজাকারের ভয়ে চলে গেছে। বাড়িতে যারা থাকে তারা ছোট, তাদের ওপরে ভরসা করা যায় না। তাই স্বামীর কোন অমঙ্গল জবেদা ভাবতেই পারে না। কানতাছস ক্যান? মাইরা ফেলাইলে কি হরতি? অলক্ষ্যনা কথা কইবা না। জবেদার একটা ভাল গুণ আছে। স্বামী ভক্তি, স্বামীর সান্তনা তার কাছে বড় পাওয়া।
ভোরের আলো দেখা দিয়েছে। রাত হলে একদিক দিয়ে ভাল হয়, রাত হলে ২৫শে মার্চের ধ্বংস লীলা বেশি চোখে পড়েনা। তবু নিজ চাহিদা মেটাবার জন্য সবাইকে এসব দৃশ্য আড়াল করে বের হতে হয়।
আজ কুসুমপুর গ্রামের রাস্তায় দু’’চারজন লোকের সমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক দিন হল পথে ঘাটে লোকজন ভয়ে জড় হয় না।
কিন্তু অনেক দিন নিরব থাকার পর কাল রাতে গাড়ির শব্দ পেয়েছে অনেকে। কিন্তু ওরা কারো কোন ক্ষতি করেনি। তবে ওরা কেন এসেছিল? সবার মনে একই পশ্ন। জয়নাল কে দেখে একজন ডাকল। ও জয়নাল ভাই এদিক আস। জয়নাল কাছে এলে কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, কাল রাইতে গাড়ির শব্দ শুনছ নাকি?
না, তয় কাল রাইতে একটা জিনিস দেখছি। সবাই জয়নালের দিকে এগিয়ে এল, কি, কি দেখছ? আমাগো জলিল তালুকদারের বাঁশ বাগানের মধ্যে কারা য্যান কি করতাছিল। আমার হাক শুইনা পালাই গ্যাছে। সবাই এক সুরে বলল তা হইলে ওরা গাড়ি চালাইয়া আইছিল। ওরা কি করতাছিল ওই বাগানে?
ওই বাগানে ভয়ে দিনের বেলায় তাই মানুষ ঢোকে না। তাছাড়া তালুকদারের বাগান ওখানে ঢুকে খুঁজে দেখার কারো সাহস নাই।
শীলা ডাকলঃ বাবা তোমার সাথে কয়েক জন লোক দেখা করতে এসেছে।
বসতে বল আমি আসছি, উপর থেকে সাড়া এল।
সুন্দর পোশাক পড়া চশমা পড়তে পড়তে সিঁড়ি দিয়ে নিচে এল জলিল তালুকদার। সাঙ্গ পাঙ্গ উঠে দাঁড়াল।
কি খবর?
সবাই একবার ভাল করে তাকিয়ে নিল চারদিক। শীলা কি বা শায়লা কেউ নিচে নামে না তালুকদারের সাথে কেউ দেখা করতে এলে। একজন বললঃ বস কাল কাজটা বেশি ভাল হয়নি। পুরো ঢাকতে পারিনি।
কি বলছ, কেন?
কাজ করছিলাম হঠাৎ কে যেন চিৎকার করল। সারা গ্রাম জানাজানি হয়ে যাবে বলে পালিয়ে এসেছি। তালুকদারের মাথা গরম হয়ে গেল। চোখ দুটো বড় করে বললঃ
কার এত বড় সাহস বাগানের কাছে এসেছে? তোমরা চিনতে পেরেছ তাকে?
না বস দেখতে পাইনি।
যাও তোমাদের দিয়ে কিছুই হবে না।
শোন, কাল আমি গ্রামে যাব। তোমরা বাড়িতে এসোনা। ওখানে থেকো। ওদের যেন কোন অসুবিধা না হয়। ঠিক আছে?
তালুকদার হঠাৎ গ্রামে যেতে চায় কেন?
শায়লা ডিজ্ঞেস করল। শায়লা যথেষ্ট ভদ্র এবং শিক্ষিতা তালুকদারকে প্রথম থেকেই বেশি পছন্দ করে না। অনেক টাকা আছে বলেই হয়তো তার বাবা তাকে এমন একটা লোকের সাথে বিয়ে দিয়েছে। তবু শায়লা সে সময়ের মেয়ে নিজের থেকে মেনে নিয়ে সংসার করছে। তাছাড়া তার মেয়ে এখন অনেক বড় হয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছায় মেয়ে তার মায়ের স্বভাব পেয়েছে।
তালুকদারকে কোন প্রশ্ন করে বরাবর যেমন উত্তর পায়, আজও তার ব্যতিক্রম হল না। দেখ আমার অনেক কাজ। শহরে ব্যবসা, গ্রামের লোকজনের খবর নেওয়া। আমার কাজের কি কোন শেষ আছে? আমার কাজের হিসাব চেওনা। এটা আমার পছন্দ নয়। শায়লা আর কিছু বলল না। বলতেও চায় না। কারণ সে জানে মানুষটা রহস্যময়। এ রহস্য আজও সে খুঁজে বের করতে পারেনি। ওদের কথার মাঝখানে শীলা এলো। বাবার সাজ পোশাক দেখে বলল ঃ
বাবা কোথায় যাচ্ছো?
আমি অনেকদিন গ্রামে যাইনা, আমাকে নিয়ে চল না।
তালুকদার গম্ভীরভাবে উত্তর দিল। এখন না পরে যেও। তালুকদার গ্রামে এলে তালুকদার বাড়ীতে ভীড় জমে, তালুকদারের সাথে দেখা করার জন্য। কেউ আসে তোষামত করতে, আর যাদের বেশি যাওয়া আসা, তারা হলো বর্গা চাষী। তালুকদার ইচ্ছা করলে তার জমি অনাবাদি রাখতে পারে। তাছাড়া গ্রামের মানুষের এক মাত্র ভরসা তো তালুকদার। গ্রামের জোয়ান মেয়েগুলোকে নিয়ে তালুকদার শহরে রেখেছে যাতে তাদের কোন ক্ষতি না হয়। আগেও অনেক মেয়ে নিয়ে চাকরি দিয়েছে শহরে।
অতীতের কথা ভুলে গেছে সবাই বর্তমান তালুকদার সবার সাথে ভাল ব্যবহার করে। ভাল করে কথা বলে। যারা কোনদিন তালুকদারের বাড়ির সামনে ভয়ে যায়নী, তাদেরও ডেকে বাড়ির ভেতরে নেয়। যেমন জয়নাল।
তালুকদার গ্রামের সবাইকে ডেকে খোঁজ খবর নিল। শহরের বিভিন্ন কথা বলল। কথা শেষে সবাই যখন চলে গেল। দেখা গেল কি যেন হাতে জয়নাল জড় সড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তালুকদার হাসি হাসি মুখে বলল ঃ
কি ব্যাপার কিছু বলবে ?
হ-তালুকদার সাব। এসো এদিকে এসো।
আমার মাইয়া ক্যামন আছে?
ভাল আছে। খুব ভাল আছে। শুধু তোমার মেয়ে নয়, গ্রাম থেকে যাদের নিয়ে গেছি ওরা সবাই ভাল আছে। ওরা তো আমার বাড়িতেই থাকে। আমার মেয়ে শীলা আছে না? হ-মা জিরে কবে দেখছি-একবার নিয়া আইবেন। দেখুম। হ্যা, আনব।
জয়নাল আবার ভয়ে ভয়ে কয় তালুকদার সাব। ঐ রহির মা, কয়ডা পিডা বানাই দিছে। কত কইলাম, আপনি খাইবেন না। হে হুনলোনা।
না, না, খাব না কেন? রেখে যাও পরে খাব। তালুকদার সাব রহিরে কইবেন। আমরা ভাল আছি। আমাগো লাইগা য্যান চিন্তা না হরে।
আচ্ছা বলব।
তয় যাই তালুকদার সাব। জয়নাল বের হতেই চাকরকে ডেকে পিঠাগুলো ফেলে দিতে বলল। গরীবের কষ্টের ধন বড় লোকের কাছে মূল্যহীন।
জয়নাল কিছুদূর গিয়ে আবার ফিরে এল। কি ব্যপার ফিরে এলে যে, তালুকদার সাব, সেদিন.. কি হলো বল, কি বলবে?
মাইনে সেদিন রাইতে আপনার বাঁশ বাগানে কারা য্যান কি করতাছিল। আমার কথা শুইনা ভাইগা গ্যাছে। গ্রামের মানসে গাড়ির শব্দ হুনছে।
তুমি দেখেছিলে ওদের।
হ আমি শব্দ হুইনা আগাইয়া গেছিলাম। তালুকদারকে বেশ নার্ভাস দেখাচ্ছে। তড়িঘড়ি করে বলল। আর কাউকে বলনা যাও। তালুকদারের এমন মূর্তি দেখে আসল জিনিস বোঝার ক্ষমতা জয়নালের নাই।
তালুকদার ‘ত’ এই কথাটা শোনার জন্য গ্রামে এসেছিল সে জানে গ্রামের কোন বিষয় গ্রামবাসীরা তাকে না বলে পারবে না।
সকালে হঠাৎ জয়নালের বউয়ের কান্নার শব্দ শোনা গেল। লোকজন ভীড় করল। কি হয়েছে? কি হয়েছে? জয়নালের মরা দেহটা পড়ে আছে উঠানে। কি হয়েছিল জয়নালের, এমন হঠাৎ করে মরে গেল। এসব খুঁজে দেখার মতো যোগ্যতা নাই জবেদার। স্বামীর মৃত্যু নীরবে সহে নিতে হলো।
সেদিন তালুকদার বাড়ি খবর নিতে গিয়ে জানা গেল, কয়েকজন লোকের সাথে ঢাকা চলে গেছে। কিন্তু তালুকদার তো একা এসেছিলো। জবেদা মেয়ের কাছে খবর দিবে, তার বাবা আর নেই। কিন্তু কার কাছে খবর পাঠাবে। কে যাবে তার মেয়ের কাছে?
তালুকদার শহরে ফিরে বেশ চিন্তিত সময় কাটাচ্ছেন। কারো সাথে ভাল কথা বলেনা। কিন্তু ঐ সব লোক এলে খুব ব্যস্তভাবে নিচে নেমে যায়। আজও তেমনী ব্যস্তভাবে নেমে গেল। শীলা বাবার পেছন পেছন গেল।
কি খবর ঠিকমত কাজ হয়েছে তো?
হ্যাঁ বস, কিন্তু সমস্যা হয়ে গেছে। জায়গা আর খালি নাই। আজ ওটাকে রাখার জায়গা পাচ্ছিলাম না। আস্তানায় আরও একটা মরেছে। এদিকে ওরা নতুন মেয়ে চাচ্ছে। ভীষণ অস্থির হয়ে পড়েছে। ঠিক আছে গ্রাম থেকে নতুন মেয়ের ব্যবস্থা করছি। যাও ওটার ব্যবস্থা কর। তালুকদার ধীরে ধীরে উপরে উঠে আসছে।
শীলা বজ্র কণ্ঠে বলল দাড়াও বাবা। তালুকদার চমকে উঠলো। তুমি! এখানে কি করছিলে? মানুষের এত বড় সর্বনাশ তুমি করতে পারলে? গ্রাম থেকে আর নতুন মেয়ে আনতে হবে না। আমাকে নিয়ে চল তোমার আস্তানায়।
তুমি চুপ কর।
কেন চুপ করবো। আমি তোমার মেয়ে তাইনা? যাদের সর্বনাশ করেছ। তারাও তো তোমার মত কোন বাবার মেয়ে। তাদের জীবনটা ধ্বংস করেছ। তবে আমার ক্ষতি করতে পারবে না কেন? আমি তোমাকে পুলিশে দেব। কাল গ্রামে গিয়ে যাদের মেয়ের জীবন ধ্বংস করেছ তাদের নিয়ে তোমার ফাঁসি চাইব। শীলার চিৎকার আর কান্নার শব্দে শায়লা উপর থেকে নেমে এলো।
কি হয়েছে? তালুকদার দিশেহারা। কাঁপতে কাঁপতে বলল, তোমার মেয়েকে আস্তে কথা বলতে বল। ওকে ঘরে নিয়ে যাও। শায়লা শীলার হাত ধরল।
মা, আমাকে ছাড়, এ নরকে আমি আর থাকবো না। তুমি বাবাকে পঁচিশ বছরে চিনতে পারনি। আমি আজ চিনেছি। আমি আজ চিনেছি। কি হয়েছে আমাকে বল?
শীলা মাকে তার বাবার কুকীর্তির কথা সব বলল। তালুকদার ভীষণ উত্তেজিত। ইচ্ছে করছে মেয়েটাকে মেরে ফেলতে। কিন্তু নিজ রক্তকে হত্যা করতে হয়তো পারবেনা।
তাছাড়া মেয়েটা যে সব কথা বলেছে, তার কোন উত্তর তালুকদার দিতে পারবে না। অন্যায় সব সময় ন্যায়ের সামনে এলে নির্বাক হয়ে যায়। শায়লা মেয়ের মুখ চেপে ঘরে নিয়ে যেতে চাইল। শীলা মায়ের হাত সরিয়ে বলল, বাবা একটা কথা মনে রেখ মানুষ মরে গেলেও আত্মা মরে না। ওরা কথা বলতে জানে। জীবিত মানুষ তোমাকে ছাড়লেও ওরা তোমাকে ছাড়বে না। ওদের হাত থেকে রক্ষা পাবে না।
শীলা বিছানায় শুয়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ল। আর শায়লা সে তো সারা জীবন তার স্বামীর রহস্য খুঁজে পায়নি। আজ তার সন্তান তার স্বামীর আসল রূপটা খুঁজে পেল। এমন রহস্য বুঝি না জানলেই ভাল হতো। শায়লার মুখে কোন কথা নাই। চোখ দিয়ে পানি পরছে।
তালুকদার খুব শান্তভাবে স্ত্রীর পাশে এসে বসল। আমাকে ক্ষমা কর। শীলাকে বুঝিয়ে বল। আমি এমন কাজ আর করব না। স্বামীর এমন শান্ত রূপ শান্তভাব আজ শায়লা প্রথম দেখল। তেমন কোন কথা বলল না। শুধু বলল আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও।
রাত গভীর হল্ োশায়লার চোখ বন্ধ দেখে মনে হচ্ছে ঘুমিয়ে পড়েছে। তালুকদার আস্তে আস্তে নিচে নেমে এলো। মুখে চোখে বিষণœতা। নিজের পাপ যেন তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। মাথার পেছনে হাত দিয়ে হেলান দিয়ে বসল।
হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। ঘরের ভেতরে অস্বাভাবিক শব্দ বাতাসে ভেসে আসছে। চোখের সামনে যেন দেখতে পেল। তালুকদার চিৎকার দেয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। কি দেখছে তালুকদার? একদল মেয়ে পরনে সাদা শাড়ী। যেন স্বর্গের দার বেয়ে এসেছে তারা।
অস্বাভাবিক আনন্দের হাসি তাদের চোখে মুখে সাথে জয়নাল। জয়নাল, আর সে সাধারন মানুষ নয়! আজ সে তালুকদারকে ছাড়িয়ে গেছে। আর তার সাথে যে সব মেয়েরা এসেছে, সে সব মেয়েদের সাথে তার মেয়ে রহিমাও আছে। আজ রহিমা যেন তার একটা মেয়ে নয়, আজ একজন বাবা, তার এক দল মহিয়ষী মেয়েদের নিয়ে, জগতের এসব ঘৃণ্য মানুষদের শাস্তি দিতে এসেছে। তালুকদার ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নীরব হয়ে গেল। ক্ষমার ভঙ্গিতে হাত দুটো বাঁধা ছিল।
সকালে শায়লা এ দৃশ্য দেখে চিৎকার দিয়ে শীলাকে ডাকল। শীলার চোখে জ্বল অথচ সে হাসছে। বলেছিলাম না মা! ওরা বাবাকে ছাড়বে না।
অনেকদিন পর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংগ্রহ করছে। মাটি খুঁড়ে অনেক উপাদান পাওয়া যাচ্ছে। কে যেন তালুকদারের সেই বাগানে নিয়ে গেল। সেখানে আগের মত বাগান নাই। মাটি খুঁড়ে অনেক হাড় আর মেয়েদের ব্যবহারিত কিছু অলংকার পাওয়া গেল। সবাই বুঝল এটা তালুকদারের কাজ।
কিন্তু পৃথিবীর মানুষ শাস্তি দেওয়ার আগেই নির্যাতিতরা শাস্তি দিয়েছে তাদের নির্যাতককে।

লেখক: সাবিনা ইয়াসমিন রত্না, কবি, সাহিত্যিক ও গীতিকার।

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 66
    Shares
x

Check Also

চরমভাবে হারতে চাই : সাবিনা ইয়াসমিন রত্না

চরমভাবে হারতে ...