Home / লিড নিউজ / অপহরণের ৫ দিন পর শিক্ষার্থীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার, আটক ৩

অপহরণের ৫ দিন পর শিক্ষার্থীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার, আটক ৩

ক্রাইম প্রতিদিন, সালাহ উদ্দিন সুমন, নোয়াখালী : নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ২ নং চরবাটা ইউনিয়নের চরবাটা গ্রাম থেকে কলেজ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম সাগর নিখোঁজ হওয়ার ৫ দিন পর মঙ্গলবার সকালে একই গ্রামের স্থানীয় হাজী মোজাম্মেল হক ও হাজী রফিক উল্লাহ চৌধুরীর বাড়ীর মাঝখানে একটি নালা থেকে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে চর জব্বার থানা পুলিশ।

সকাল ৮ টায় স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক ও ঔষধ ব্যবসায়ী আহছান উল্লাহ্ গরু বাঁধতে গিয়ে নালার মধ্যে একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

নিহত কামরুল ইসলাম সাগর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের মধ্য চরবাটা গ্রামের নূর ইসলাম এর ছেলে এবং এ বছর স্থানীয় চরবাটা খাসের হাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেনিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছিল।

চর জব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

থানায় দায়ের করা মামলার সূত্রে জানা যায়, সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের মধ্য চরবাটা গ্রামের নূর ইসলাম এর ছেলে কামরুল ইসলাম সাগর এর সঙ্গে একই বাড়ীর রহমত উল্যাহর মেয়ে স্থানীয় কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী চাচাতো বোন মমতাজ বেগমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে মমতাজের বাবা রহমত উল্লাহ্ সাগর ও তার পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত ও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠে এবং বিভিন্ন সময় সাগরকে মারধর করে। গত শুক্রবার রাত ১০ টায় রহমত উল্যাহর ভাড়াটিয়া মাস্তান স্থানীয় মনোরঞ্জন দাসের ছেলে মিঠুন চন্দ্র দাসের সঙ্গে সাগরের তুচ্ছ ঘটনাকে নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। রাতে সাগর তার নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েছিল। পাশের ঘরে থাকা তার বড় ভাই নজরুল ইসলাম শিমুল বলেন রাত আনুমানিক ১১ টার পর সাগরের মুঠোফোনে কে বা কারা কল করে তাকে বাড়ির বাহিরে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকে সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের লোকজন তাকে রাতে ও সকালে সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পায়নি। তার ব্যবহৃত ২টি মুঠোফোন ও বন্ধ পায়। এ ঘটনায় তিনি শনিবার রাতে চরজব্বার থানায় রহমত উল্যা, মিঠুন চন্দ্র দাস, কলেজ ছাত্রী মমতাজ ও তার মা হাসিনা আক্তার এবং ছেলে দেলোয়ার হোসেন কিসমতকে আসামী করে চরজব্বর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

এর আগে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মামলার আসামী মিঠুন চন্দ্র দাসের শয়নকক্ষে রক্তমাখা কাপড়চোপড় জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে চরজব্বর থানা ও ডিবি পুলিশ কামরুলের প্রেমিকা কলেজ ছাত্রী মমতাজ ও তার মা হাসিনা আক্তারকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। মমতাজের বাবা রহমত উল্যা ও ছেলে কিসমত শনিবার থেকে পলাতক রয়েছে।

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 6
    Shares
x

Check Also

পাহারা বসিয়েও দুই মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি হাসিবুল

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : দুই মেয়েকে হত্যার পর ...