Home / এক্সক্লুসিভ / গাজীপুরে বহু পুরুষের সংসার ধ্বংসকারী হাসিনা আক্তার লিজা

গাজীপুরে বহু পুরুষের সংসার ধ্বংসকারী হাসিনা আক্তার লিজা

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : কথায় আছে সংসার সুখের হয় রমনীর গুনে, সংসার ধ্বংস হয় নারীর কারনে। আবার কবির ভাষায়, “কোন কালে একা হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারী, শক্তি দিয়েছে সাহস দিয়েছে বিজয়া লক্ষী নারী। কিন্তু কিছু নারী আছে যারা পুরুষকে করে দেয় সর্বশান্ত। ভেঙ্গে ফেলে সাজানো সংসার। নষ্ট করে দেয় শত শত পুরুষের জীবন। তেমনী এক গুনী নারী গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার পলাশুনার মোঃ মোন্তাজ মিয়ার মেয়ে হাসিনা আক্তার । ডাক নাম লিজা। আইনগতভাবে এ পর্যন্ত ৭ টি বিয়ের খোজ পাওয়া গেছে। এছাড়াও আর বিয়ে আছে কি না একমাত্র স্বয়ং তিনিই বলতে পারেন। প্রায় প্রতিটা স্বামিকে পথে বসিয়ে ছেড়েছে এই দুরদর্শী নারী। যে কোন উপায়ে শুধু একবার বিয়ে করতে পারলেই হয়, সেই পুরুষের অর্থ সম্পদ লুট করে নিস্ব করে ছেড়ে দেয়। প্রায় প্রতিটা স্বামীর নামেই করা আছে মিথ্যা মামলা গাজীপুরের কোর্ট এবং জয়দেবপুর থানায়। কখনো বা নারী নির্যাতন কখনো বা যৌতুক আবার কখনো বা ভরন পোষন না দেয়ার অভিযোগ করে মামলা করেন এই ছলনাময়ী নারী (লিজা)। তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে এবং হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকী দেয়ায় তার প্রক্তন প্রেমীক তোফাজ্জল হোসেন ১৬/১০/২০১৭ তে জয়দেবপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছিলেন। শুধুযে স্বামী নিয়ে থাকত তা নয়, প্রতিটা স্বামীর ঘরে থাকতেই অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলত অন্য পুরুষদের সাথে। আর স্বামী যখনই এটার আপত্তি করত তখনই শুরু হতো স্বামীর সাথে সংসার ভাঙ্গার ঝগড়া। আর বাধ্য করত স্বামীকে তালাক দিতে। তালাকের সময় দাবী করত বড় অঙ্কের অর্থ। না দিতে চাইলে এটা নিয়ে শুরু হতো মামলা মোকদ্দমা। প্রায় প্রতি রাতেই দরকার হতো তার ভিন্ন ভিন্ন পুরুষ সঙ্গী। খোঁজ নিয়ে জানা যায় হাসিনা আক্তারের মা নিজেই জোগাড় করে দেয় কাস্টমার মেয়ের জন্য। কখনো বা দুলাভাই আবার কখনো বা ভাগ্নির জামাই বলে ঘরে তুলে কাস্টমার। তাঁর স্বামীদেরকে ব্লাকমেইল করে টাকা আতœসাৎ করে ছেড়ে দেয়াই এই নারীর প্রধান বৈশিষ্ট। তাঁর সর্বশেষ স্বামী আমজাদ হোসেন। সে আমজাদকে বিয়ে করার আগে কুমারী ছিল বলে দাবী করে। অথচ আমজাদ তার সাত নম্বর স্বামী। সে আমজাদকে বিয়ে করে জোর করে। সে দাবী করে আসছিল তার পেটে আমজাদের সন্তান। এবং সমাজের গণ্যমান্য মানুষদেরও এই কথা জানায় আর আশেপাশের বাড়ি মহল্লাতেও এই কথা ছড়িয়ে দেয় ঐ নারী নিজেই। আমজাদের আগে থেকেই স্ত্রী সন্তান ছিল। এবং খুব সুখেই দিন কাটতো। কিন্তু হঠাৎ জীবনে এই হাসিনার আবির্ভাব হওয়ায় তছনছ হয়ে যায় সব কিছু। ঘরে স্ত্রী সন্তান থাকা সত্ত্বেও অনেক চাপের মুখে আমজাদ বিয়ে করতে বাধ্য হয় গর্ভবতী হাসিনাকে। এরপর যখন বাচ্চা জন্ম নেয় আমজাদের সাথে ডিএনএ টেস্ট করলে সত্যতা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ডিএনএ টেস্টে পরিস্কার হয়ে যায় যে, এই সন্তান আমজাদের না। অথচ এই সন্তান আমজাদের বলে দাবী করে জোর করে আমজাদকে বিয়ে করে। আবার আমজাদ ও তার স্ত্রী সাবিনাসহ পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে অপহরন মামলা করে। আমজাদের জীবন থেকে চলে যাবে বলে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় কিন্তু তারপরও আমজাদকে ব্লাকমেইল করে আসছে। এই নারীর জন্য এখন আমজাদের পুরো পরিবার ধ্বংসের দিকে। শুধু আমজাদ নয় তার পপূর্ববর্তী স্বামীগণ তোফাজ্জল (প্রেমিক), মামুন, নাসির উদ্দিন ও ওয়াহিদ রহমান সহ আরও অনেক কে এভাবে পথে বসিয়েছে। খোজ নিয়ে জানা যায় হাসিনার পুরো পরিবারটাই প্রতারক প্রকৃতির। তাঁর প্রতিটা স্বামীই তাকে অনেক ভালবাসতো কিন্তু সে সবসময়ই পরোকিয়ায় জড়িয়ে থাকে। ভিন্ন ভিন্ন পুরুষ সঙ্গীর নেশাও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। আর কিছু বলতে গেলেই মামলা নামক সহজ অস্ত্র দিয়ে থামিয়ে রাখে স্বামীদের। একজনের টাকা শেষ হলে আরেকজনের কাছে যাওয়াই নিয়মিত কাজ এই দুরদর্শী মহিলা হাসিনা আক্তার লিজার।

এ বিষয় সরেজমিনে গিয়ে যা জানা যায়,

হাসিনা আক্তার লিজির ব্যপারে সরেজমিনে গিয়ে সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের গন্যমান্য মানুষের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, সে এবং তার মা একজন পেশাদার দেহব্যবসায়ী । শুধু যে দেহব্যবসা করত তা নয়, বিয়ের নাটক করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় এই মা আর মেয়ে ।

হাসিনার আপন চাচাত বোন শিল্পী খাতুন বলেন, “সে খুলনার সাজিদ নামে এক ছেলেকে নিয়ে আমার বাড়িতে বেড়াতে আসছিল, এবং ওর সাথে ওর মাও আসছিল, মোট দুইবার আসছিল। তাঁর মা নিজেই ঐ ছেলেকে তাঁর স্বামী বলে পরিচয় দিয়েছিল । কিন্তু আমি তাঁর বাসায় একদিন বেড়াতে গেলে উত্তরা রাজলক্ষী এলকায় আর এক পুরুষকে তাঁর বাসায় তাঁর সাথে রাত কাটাতে দেখতে পাই। এর আগে  তাঁর মামুন নামের একজন স্বামী ছিল সে তাকে ছেড়ে চলে যায়, কারণ মাইশা নামের বাচ্চাটার বাবা হাসিনা মামুনকে দাবী করলেও মামুনের সাথে মায়শার ডিএনএ টেস্ট মেলে না। ওর মাও ছিল ওর মত । তাই আমার চাচা দশ থেক বারো বছর আগে লিজিরর মাকে ছেড়ে দিয়েছিল। “এদিকে তার আপন ভাই মোতালিবও তাকেসহ তার মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এই সমস্ত অনৈতিক কাজের জন্য ।

হাসিনা আক্তার লিজা নাবালক থাকা অবস্থায় তোফাজ্জল  সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়ায় এবং সেই ব্যক্তির সাথে সব স্বামীর ঘরে থাকা অবস্থায় পরকিয়া চালিয়ে যায়। হাসিনার মা তোফাজ্জলকে বলেছিল “তুমি হাসিনাকে ৫ কাঠা জমি দাও আর বাড়ি করে দাও । তাহলে  তুমি হাসিনার কাছে আসা যাওয়া কর আমার কোন আপত্তি নাই । আবার এই তোফাজ্জলই হাসিনার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত ১৬/১০/২০১৭ ইং এ জয়দেবপুর থানায় হাসিনার বিরুদ্ধে একটি সাধারন ডায়েরি করে ।

এছাড়াও আর একজনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সম্পর্ক চলে আসছে বলে জানা যায় । তিনি হলেন গাজীপুর নান্দুয়াইন এর উপেন্দ্র চন্দ্র বর্মণ এর ছেলে সুবাস চন্দ্র বর্মণ । যাকে হাসিনা দাদা বলে ডাকে । তিনি একজন ৪র্থ পর্যায়ের সরকারী কর্মচারী এবং হাসিনার অনেক মামলার সাক্ষী  বলে জানা যায়।

গাজিপুর মৈরান এর মোঃ ইদ্রিস আলী মাতব্বর, সম্পর্কে হাসিনার নানা। তিনি বলেন, “ওর মা এবং ওরা দুজনেই খুবই খারাপ চরিত্রের । ওরা মানুষের টাকা পয়সা আত্মসাৎ করে মানুষের সংসার শেষ করে দিচ্ছে। যে কারনে আমরাও আমাদের বাড়িতে  জায়গা দেই না।”

হাসিনার আপন খালাতো ভাই  গাজীপুর ৩২ নং ওয়ার্ডের আক্কাসকে তাঁর বোনের ব্যপারে জানতে চাইলে বলে; আমার হাসিনাদের সাথে কোন সম্পর্ক নাই। ওকি করে না করে আমি সে সব কিছু জানিনা । আমি তাদের কোন খোজ রাখিনা । ওর কয়টা বিয়ে কয়টা বাঁচ্চা তাও কিছু জানি না । আপনার সাথে কোন সম্পর্ক না থাকলে তাঁর বিভিন্ন মামলার সাক্ষী আপনাকে কিভাবে করল প্রশ্ন করলে আক্কাস বলে , “সাক্ষী  হিসেবে নাম দেয়ার জন্য সে আমার কাছ থেকে কোন প্রকার অনুমতী নেয় না। সে তার খেয়াল খুশি মত আমার নাম দিয়েছে । অথচ সরেজমিনে খোজ নিয়ে চায়ের দোকানদার হোসেনসহ আরো অনেক ব্যক্তির কাছ থেকে  জানা যায়, আক্কাস কয়েকটি মামলার সাক্ষী দিতে আদালতেও গিয়েছে । এবং হাসিনার সাথে আক্কাসের একটি গভীর সম্পর্কও রয়েছে ।

এ ব্যপারে গাজীপুরের  ৩১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলহাজ্ব মোঃ রফিক উজ্জামান বলেন- আমি অনেক আগে থেকেই জানি যে ওরা খারাপ চরিত্রের। আমার কাছেও আসছিল এ সমস্ত খারাপ কাজের বিচার নিয়ে। আমি তাড়িয়ে দিয়েছি । হাসিনার মোট চার সন্তান। দুই ঘরে দুইজন । আর বাকি দুইজনের  পিতা অজ্ঞাত , যেটা আমজাদের এবং মামুনের বলে দাবি করছে হাসিনা । সন্তানদের নাম , তন্ময় , ওয়ালিদ , মাইশা এবং অহির শাহরিয়ার ।

হাসিনার সাথে ৭ নং স্বামীর  পরিচয় হয় বিয়ের তিন মাস আগে অথচ যে বাচ্চার বাবা আমজাদ বলে হাসিনা দাবী করে আসছে। সেই বাচ্চার জন্মই হয় ৭নং স্বামীর সাথে বিয়ের এক মাস পর। চার মাসে কিভাবে একটা বাচ্চার জন্ম হয় ? আর কে এই বাচ্চার বাবা ? ৭নং স্বামীকে ৫ দিন অপহরণ করে রাখে লিজা  বাচ্চার  স্বীকার উক্তির জন্য । এখন প্রতিনিয়ত বাচ্চাকে মেরে ফেলে আমজাদকে খুনের মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি সব সময় দিয়ে যাচ্ছে  লিজা। এদিকে আমজাদের বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষী  হতে না চাওয়ায় আপন চাচাতো বোন শিল্পী খাতুনকে হাসিনা আক্তার হুমকি দিয়ে বলে “তুই যদি আমার পক্ষে সাক্ষী না দিস তাহলে তুইও তোর স্বামীর সাথে কি করে সংসার করিস আমিও দেখে নিব ।  তোর সংসার আমি ভেঙ্গে দিব  মনে রাখিস।”

গাজীপুর জেলার কৃষকলীগের  যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এবং আমজাদের সাথে বিয়ের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও উকিল বাপ মোঃ লিটন মোল্লা বলেন,“ তাঁর মা এবং মে দুজনেই দুশ্চরিত্রা । আর এ কারনেই তাঁর বাবা তাদের ছেড়ে চলে যায়। সব কিছু জানা সত্ত্বেও আমরা এক প্রকার চাপে পড়ে এবং সামাজিক অবস্থান ও মানসম্মানের বিবেচনা করে আমজাদের সাথে বিয়ে দিতে বাধ্য হই । হাসিনার সাথে কিছু লোক আছে যারা তার পেছনে থেকে হাসিনাকে চালাচ্ছে।”

এদিকে হাসিনার বড় বোনের শশুর বাড়ির এলাকা গাজিপুর ২৯ নং ওয়ার্ডে খোজ নিলে হাসিনার বোন জামাইয়ের প্রতিবেশী হজরত আলী বলেন, হাসিনার বড় বোনও ছিল হাসিনার মত পরোকিয়ায় আসক্ত। যেটা সহ্য করতে না পেরে ওর বোন জামাই আত্মহত্যা করে মারা যায়। ওদের পুরো পরিবারই খারাপ চরিত্রের। এছাড়াও  গাজীপুর ৩১ নং ওয়ার্ডের  সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্জ মোঃ জাকির হোসেন, গাজীপুর ৩১ নং ওয়ার্ডের কৃষকলীগের সেক্রেটারী মোঃ স্বপন মিয়া, আমজাদের বিয়ের সাক্ষী মোঃ ওয়াহিদুল্লহসহ স্থানীয়  অনেকেই বলেন হাসিনার মা এবং হাসিনা নিজেই মানুষের জীবন-সংসার শেষ করে মানুষকে পথে বসিয়ে দিচ্ছে । হাসিনা আক্তার লিজির সাথে মোবাইলে কথা বললে কথার মাঝে তিনি অনেক সত্য কথা বলে দেন। এ বিষয় বেশী জানতে চাইলে লিজা সাংবাদিককে জীবনের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেয়।

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 1.4K
    Shares
x

Check Also

সালিশে জোরপূর্বক তালাক, ২ মাতব্বর গ্রেফতার

ক্রাইম প্রতিদিন : বগুড়ার আদমদীঘিতে অসামাজিক কাজে জড়িত ...