Home / ক্রাইম প্রতিদিন / গোপালগঞ্জে চাচা কর্তৃক ৪র্থ শ্রেনীর স্কুল ছাত্রী ধর্ষন

গোপালগঞ্জে চাচা কর্তৃক ৪র্থ শ্রেনীর স্কুল ছাত্রী ধর্ষন

ক্রাইম প্রতিদিন, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় প্রাইভেট পড়তে গিয়ে শিক্ষিকার স্বামী কর্তৃক ধর্ষনের স্বীকার হলো চতুর্থ শ্রেনীর (৯) বছরের কিশোরী । অভিযোগের সুত্রে জানা যায়,কোটালীপাড়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফ শেখের মেয়ে মদনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রী ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা ফেরদাউসীর কাছে প্রাইভেট পড়ে। গত ৮ আগষ্ট ওই স্কুল ছাত্রী (৯)শিক্ষিকার বাড়ি পড়তে যায়,সকাল সাড়ে ৮টার সময় ফেরদাউসী স্কুলে চলে যায়, এমন সময় বৃষ্টি নামার কারনে তাকে একটু পরে যেতে বলে শিক্ষিকার স্বামী।পরে ছাত্রীকে একা পেয়ে তার সর্বনাশ করে। অত্যাচারের স্বীকার (৯) এর বাবা আরিফ শেখ বলেন,আমি সেদিন ঢাকায় আমার একটা কাজে ছিলাম,সকাল নয়টার দিকে আমার স্ত্রী ফোন করে বলে, আমার মেয়েকে সর্বনাশ করেছে। আমি এসে আমার মেয়ের কাছে জানতে পারি, ফেরদাউসী ম্যাডামের স্বামী এ সর্বনাশ করেছে। তিনি আরো বলেন, ওই ধর্ষকের বড় ভাই মুজিবুল হক মুন্সি, ছোট ভাই মুকুল মুন্সি, এবং তার স্ত্রী আমার মায়ের হাতে পায়ে ধরে বলেন, আপনারা কোন মামলা কইরেন না, যে বিচার চান, সেই বিচার আমরা মাথা পেতে নিবো। এছাড়া আমাকে মোবাইলেও বার বার একই কথা বলে যাচ্ছে, যা আমার মোবাইলে ধারন করা আছে। নির্যাতনের স্বীকার ওই মেয়ের মা (৩৫) বলেন, আমার মেয়েকে ফেরদাউসী ম্যাডামের পড়ানোর কথা,কিন্তু আমার মেয়ে মাঝে মাঝে এসে আমাকে বলতো, মা আজ ম্যাডাম পড়াননি, ম্যাডামের স্বামী পড়িয়েছেন। ঘটনার দিন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয়েছিলো, মেয়ে প্রাইভেট পড়ে এসে স্কুলে যাবে, কিন্তু মেয়ের ফিরতে দেরি দেখে আমি আমার মেয়েকে এগিয়ে আনতে যাই, যেয়ে দেখি, পড়ানোর ঘরে আমার মেয়ে নেই, তারপর তাদের থাকার ঘরের দিকে যেতেই ওই নরপিশাচ ঘর থেকে বের হয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়, আর আমার মেয়ে বিছানার উপরে মুখ ও হাত বাধাঁ, বিবস্ত্র অবস্থায় চিৎকার করছে, আমি আমার মেয়েকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করতে থাকি, আমার চিৎকারে পাশের কয়েক জন লোকের সহাযোগিতায় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। হাসপাতালে নিলে লোকে নানান কথা বলবে, সেজন্য গোপালগঞ্জ কুয়াডাঙ্গা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে মেয়ের চিকিৎসা করি। এখনও আমার মেয়ে সম্পূর্ন সুস্থ্য না। আমার মেয়েকে যে নরপিশাচ এই সর্বনাশ করেছে, তার বিচার চাই। নির্যাতনের স্বীকার ওই স্কুল ছাত্রীর (৯) বাবা গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উপযুক্ত বিচার চেয়ে একটি লিখিত আবেদন করেছে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, কোটালীপাড়া পৌরসভার এক বাসিন্দা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,এমন একটি শিশু বাচ্চাকে ওই কুলাঙ্গার সর্বনাশ করলো, আইনে আওতায় এনে সঠিক বিচার করা দরকার। এ বিষয়ে অভিযুক্তের স্ত্রী ফেরদাউসী বলেন, এটা একটা চক্রান্ত, সামাজিক ভাবে আমাদেরকে হেয় করার জন্য এগুলো করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্তের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। জানা যায়, ঘটনার পর থেকে তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে তাকে এলাকায় কেউ দেখতে পাননি । কোটলীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন,আমি ছুটিতে আছি ,ছুটি থেকে এসে আইনী প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 59
    Shares
x

Check Also

গোপালগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে আহত ১০

ক্রাইম প্রতিদিন, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে জমি নিয়ে ...