Home / সারাদেশ / চাঁদপুর সদরে বসছে নিয়মিত মাদকের হাট!

চাঁদপুর সদরে বসছে নিয়মিত মাদকের হাট!

ক্রাইম প্রতিদিন : চাঁদপুর সদরের চান্দ্রা ইউনিয়নটি এখন মাদক বেচা-কেনার নিরাপদ স্থান হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে মাদকের হাট বসে। পুলিশ মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করলেও আইনে ফাঁক ফোকরে এরা বেরিয়ে এসে পূর্বের ন্যায় মাদক ব্যবসা করছে।

ভৌগোলিক কারণে চান্দ্রা এলাকাটি হাইমচর, শরীয়তপুর ও ফরিদগঞ্জের সীমান্তবর্তী হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা এখানে এসে মাদক বেচা-কেনা করে নির্বিঘ্নে নৌপথে সটকে যেতে পারছে। মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক পুরো ইউনিয়নে বিস্তার করেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর এ ইউনিয়নের মেডিকেল রোড, ফরিদ মার্কেট, চান্দ্রা চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক বেচাকেনার হাট বসছে। ইঞ্জিলচালিত নৌকা, ট্রলার, মোটরসাইকেল কিংবা সিএনজি স্কুটারযোগে মাদক ক্রেতা-বিক্রেতারা এখানে আসছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জনপ্রতিনিধি জানান, ফরিদগঞ্জ থেকে সিএনজি স্কুটারযোগে বোরকা পরা নারীদের দিয়ে এখানে মাদক আনা নেয়া করা হয়। এসব নারী অর্ডার ও চাহিদানুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে মাদক পেঁৗছে দেয়।

গত ২/৩ দিন যাবৎ এ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, এলাকার অনেক ভদ্রবেশি ব্যক্তি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের নানাভাবে সহযোগিতা করছে। বিনিময়ে আর্থিকভাবে এরা লাভবান হচ্ছে। বড় দুটি রাজনৈতিক দল তথা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় কতিপয় নেতার ছত্রছায়ায় মাদক সিন্ডিকেট তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। বড় বাবলু, ছোট বাবলু, নার্গিস, মৌসুমী ও নেছার এ অঞ্চলের মাদক সিন্ডিকেটের কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান। নেছার ইতিপূর্বে ইয়াবাসহ ধরাও পড়ে। পরে আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পায়। এখানকার শক্তিশালী ও প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেটের ভয়ে কেউ কোনো প্রতিবাদ বা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। ইতিপূর্বে চান্দ্রায় মাদক বিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট পরিচালনা করায় মাদক ব্যবসায়ীরা ফুটবল রেফারী সাবি্বরকে প্রকাশ্যে মারধর করে বলে স্থানীয়রা জানান।

এসব বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়ালীউল্লাহ অলি বলেন, এ ইউনিয়নে মাদক বিস্তারের বিষয়ে আমাদের জানা নেই। যখন আমরা জানি তখনই অ্যাকশানে যাই। আমার জানা মতে ওই ইউনিয়নে নির্দিষ্ট কোনো মাদক বেচাকেনার স্পট নেই। ভ্রাম্যমাণভাবে কেউ হয়তো বেচাকেনা করতে পারে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খান জাহান আলী কালু এ ব্যাপারে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি নিজের অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করেন।-চাঁদপুর কণ্ঠ

Print Friendly, PDF & Email