শিরোনাম

চিকিৎসকদের অবহেলাই সাংবাদিক কন্যা রাইফার মৃত্যু!

ক্রাইম প্রতিদিন : চট্টগ্রামের সাংবাদিক রুবেল খানের আড়াই বছর বয়সী শিশু রাইফা খানের মৃত্যুতে ম্যাক্স হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অবহেলা ও গাফিলতি পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

কমিটি বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) রাত ৮টায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নকে। শুক্রবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক হাসান ফেরদৌস সারাবাংলাকে জানান, তদন্তে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

রাইফা খানের মৃত্যুর পর সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে গত ৩০ জুন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সাংবাদিক প্রতিনিধিসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ছিলেন। পাঁচদিন তদন্তের পর বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিবেদন দেয় এই কমিটি।

ঠাণ্ডা ও গলার ব্যাথার কারণে কিছু খেতে না পারায় গত ২৮ জুন বিকেলে রাইফাকে নগরীর মেহেদীবাগের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিশুটির বাবা দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার রুবেল খান জানান, হাসপাতালে ভর্তি রাইফাকে অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এতে শিশুটি ছটফট করতে থাকে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তিনি ইনজেকশনটি বদলে দিতে চিকিৎসকদের অনুরোধ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা একজন নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বলেন। পরে ওই হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডা. সুমন তালুকদারকে রাইফাকে দেখান রুবেল খান। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করা দুটি এক্স-রে পরীক্ষায় খারাপ কিছু ধরা পড়েনি বলেও দাবি করেন রুবেল খান। এর পর ডা. সুমন তালুকদার একজন শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করতে বলেন।

রুবেল খান আরো জানান, হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় চৌধুরীকে অন কলে আনা হয়। তিনি কেবিনে এসে রাইফাকে পর্যবেক্ষণ না করেই কর্তব্যরত চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ লিখে দিয়ে যান বলে দাবি করেন রুবেল খান। তিনি জানান, আগের ব্যবস্থাপত্রের সঙ্গে কেবল একটি ইনজেকশন যোগ করেন ডা. বিধান রায়।

এই চিকিৎসার পর ২৯ জুন শুক্রবার রাতে রাইফার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রচণ্ড খিঁচুনি ওঠে তার। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালেই মারা যায় রাইফা।

এ ঘটনার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন রুবেল খান। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনে নামেন চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা।

তবে, শুরু থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুল চিকিৎসায় মুত্যুর অভিযোগ অস্বীকার করে। ম্যাক্স হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার রঞ্জন প্রসাদ দাশের দাবি, শিশুটির জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শত চেষ্টা করেও বাঁচানো যায়নি রাইফাকে।

এদিকে, ঘটনার পর শুক্রবার রাতেই অভিযুক্ত চিকিৎসকসহ তিনজনকে আটক করে চকবাজার থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে ৩০ জুন শনিবার ভোরে চট্টগ্রাম জেলা বিএমএ’র সাধারন সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 41
    Shares
x

Check Also

চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বন্ধ, রোগীদের চরম দুর্ভোগ

ক্রাইম প্রতিদিন : চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনিস্টিক সেন্টার ...