Home / লিড নিউজ / ছাত্রলীগ নেত্রী এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলে আত্মহত্যা

ছাত্রলীগ নেত্রী এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলে আত্মহত্যা

ক্রাইম প্রতিদিন, রাজশাহী :  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইসরাত জাহান এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ কর্মসূচি করে তারা। এ ছাড়া তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করা হলে আত্মহত্যা করা হুমকি দিয়েছেন এক ছাত্রলীগ নেতা।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ছাত্রলীগ নেত্রী এশাকে মিথ্যা অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারকরা হয়েছে। তদন্ত না করে তার বিরুদ্ধে সব পক্ষ মিথ্যা দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। এমনকি কিছু উচ্ছৃঙ্খলশিক্ষার্থী তাকে চরম লাঞ্চিত করেছে। যা তার সামাজিক ও পারিবারিক মর্যাদা চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। তিনি বলেন, আমরা এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং লাঞ্চনাকারীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এর আগে এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার দাবিতে আত্মহত্যার হুমকি দেয় রাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে হুমকি দেয়ার পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি কিছু সময় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অনশনেও বসেন। তবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে সেখান থেকে নিয়ে যায় দলীয় নেতাকর্মীরা।

কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ফেব্রুয়ারি থেকে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতৃত্বে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন।

সর্বশেষ গত রোববার দাবি আদায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে শাহবাগ পর্যন্ত গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেন।

আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড়ে গিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ।

পরে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অবস্থান নিলে রাত ১০টায় সেখানেও অভিযান চালায় পুলিশ। একই সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়। এ নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

আন্দোলন চলাকালেই মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর চালায় অজ্ঞাত মুখোশধারীরা।

পরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের রাতভর সংঘর্ষ হয়। ছাত্রদের আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত পাঁচ ছাত্রী হল থেকে ছাত্রীরা গভীর রাতে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে বেরিয়ে আসেন। পরে ছাত্রছাত্রীরা টিএসসিতে অবস্থান নিলে সেখান হামলা চালিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।

এরপর সোমবার সকালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ এসএম জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে শহীদুল্লাহ হলে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এ সময় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলে আন্দোলনকারী ও সাধারণ ছাত্ররা একযোগে ধাওয়া দিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দোয়েল চত্বর পর্যন্ত নিয়ে আসে।

সেখানে অবস্থানের একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যায়।

এদিকে সোমবার দুপুরে কোটা সংস্কারের পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরর সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হলে আন্দোলনকারীরা ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন।

তবে বৈঠক শেষে বিকালে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে পৌঁছলে সমবেত শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত না করার দাবি জানান।

এদিকে রাতে সংসদ অধিবেশনে আন্দোলন সম্পর্কে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বিরূপ মন্তব্য করেন। এদিন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভ্যাট আদায় করা হবে বলে জানান।

এরপর মঙ্গলবার দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভ্যাট প্রত্যাহার ও কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

এ ছাড়া কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলে।

এদিকে কৃষিমন্ত্রীকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানায় ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

পরে এ দাবি পূরণ না হওয়াকে কেন্দ্র করে বিকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হয় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। তারা কোটা সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানান।

পরে আন্দোলনকারীরা বুধবার থেকে সকাল-সন্ধ্যা বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে হলে ফিরে যান।

এদিকে রাত ১২টার দিকে সুফিয়া কামাল হলে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হল শাখা ছাত্রলীগের সভানেত্রী ইফফাত জাহান এশার নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এশাকে বহিষ্কারের ঘোষণা করেন উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান। ছাত্রলীগ থেকেও তাকে বহিষ্কার করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি।

এদিকে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কোটা সংস্কারের বিষয়ে কথা বলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোনো কোটাই থাকবে না। শতভাগ নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে হবে।

ছাত্রলীগর দুই শীর্ষনেতার কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত অবহিত হয় ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। তবে তারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান।

পরে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন- কোটা নিয়ে যখন এতকিছু, তখন কোটাই থাকবে না। কোনো কোটার দরকার নেই। কোটা পদ্ধতি তুলে দিলাম। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সবাই চাকরিতে আসবে। আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের চাকরির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আন্দোলন অনেক হয়েছে। এবার তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 59
    Shares
x

Check Also

১৯৭১ ফুট আল্পনায় প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করবে ঢাবি

ক্রাইম প্রতিদিন : রোকেয়া হলের ছাত্রীদের জন্য নবনির্মিত ...