Home / সাহিত্য / ছিনতাই করার অাগে একবার ভাবুন : সাবিনা ইয়াসমিন রত্না

ছিনতাই করার অাগে একবার ভাবুন : সাবিনা ইয়াসমিন রত্না

ক্রাইম প্রতিদিন : অাপনি জন্ম নিয়েছিলেন অাপনার মায়ের গর্ভে,যেখানে কোন অালো ছিলনা,বাতাস ছিলনা,একদম ই অচেনা পরিবেশ। মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় অামরা মায়ের মাধ্যমে অালো বাতাস খাবার পেয়েছিলাম সেই অন্ধকার গহব্বরে। তারপর নিদৃষ্ট দিনে কোমল শিশু হয়ে অামরা পৃথিবীতে এসেছিলাম মাতা পিতা অাত্মীয় স্বজনের খুশির কারন হয়ে। কিন্তু সেই খুশি কে কেউবা অামরা অামাদের কর্ম দ্বারা দিগুন করে তুলি,অার কেউবা সীমাহীন কষ্টের কারন করে তুলি।
সন্তান যদি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজের বুকে প্রতিষ্ঠিত মানুষ হতে পারে, স্বার্থক হয় তার মায়ের কষ্ট। সফল হয় তার পিতার পরিশ্রম, অাত্মীয় স্বজনের মুখ উজ্জ্বল হয়, দেশ সমাজ তাকে নিয়ে অহংকার করে, প্রতিবেশীরা ও তার পরিচয় দিতে গর্ববোধ করে।
কিন্তু কোন সন্তান যদি অসৎ কাজের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তার মা হয় জনম দুখী, ছিনতাইকারীকে সন্তান বলে পরিচয় দিতে পিতার মাথা লজ্জায় নত হয়ে যায়। অাত্মীয় স্বজন প্রতিবেশীরা বলে ওকে চিনিই না ।অসৎ কাজের সাথে জড়িত মানুষ কে কেউ ভালবাসেনা। অাপনার স্ত্রী কখনো লোকের সামনে গর্ব করে বলবে না যে হ্যাঁ অামি গর্ব করে বলছি অামার স্বামী জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে ছিনতাই করে অামাকে সুখে রাখার জন্যে। সন্তান কখনো অাপনাকে নিয়ে অহংকার করে বলবে না যে অামার পিতা শ্রেষ্ঠ পিতা এতবেশি ঝুকিঁ নিয়ে ছিনতাই করে অামার মুখে একফোটা হাসি ফোটাতে।কেউ ভালবাসে না অাপনাকে, কেউ অহংকার করেনা অাপনাকে নিয়ে।
অাপনি যদি সৎ পথের রোজগার দিয়ে অাপনার পরিবারের রুটি রুজির ব্যবস্থা করেন তাতে অাপনার পরিবার যেমন শান্তি পাবে, তেমনি সৃষ্টিকর্তা ও অাপনার প্রতি সদয় হবে। অাপনার সন্তান বলবে অামার পিতাই শ্রেষ্ঠ পিতা গায়ের রক্ত পানি করে সৎ পথে রোজগার করে অামাকে বড় করে তুলেছে।
তখন অাপনার প্রতিটি ফোটা ঘাম মুক্তার মত দামী হয়ে উঠবে।অার অসৎ পথে রোজগার করে পরিবারের মুখে অন্ন জোগালে তাদের কোন ভাল হবেনা,অার অাপনি হবেন পাপ বহনকারী, অাপনার অর্জিত অর্থ সবাই ভোগ করবে কিন্তু অাপনার পাপের ভাগ কেউ নেবেনা।তাই বলছি সৎ পথে রোজগার করে পরিবারের মুখে ডালভাত তুলে দেন, অসৎ পথে রোজগার করে কোরমা পোলাও নয়।
একটিবার ভাবুন তো?
অাপনি যে হঠাৎ করে কারো হাত থেকে মোবাইল ফোন,পকেট থেকে ম্যানি ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছেন,ভেবেছেন কি তাদের অবস্থাটা কি হবে?
হতে পারে ঐ মুহুর্তে কারো অাপনজন বিপদে পড়েছে ফোন করে সাহায্য পেতে পারত , পেলনা। হয়তো কারো বিপদের কথা শুনে ছুটে যাচ্ছিল ফোন করে ই ঠিকানা বের করতে হবে, ফোনটা তো নিয়ে গেলেন কিভাবে পৌছাবে বিপদগ্রস্ত মানুষটির কাছে,? সীম কার্ডটি তুললে ও তো নাম্বার খুজে পাবেনা। কিভাবে সাহায্য করবে বিপদগ্রস্ত মানুষটি কে?
পকেট থেকে ম্যানি ব্যাগ টা নিয়ে যাচ্ছেন, হতে পারে কোন চাকুরীজীবি মানুষ সারা মাস পরিবার নিয়ে বাকি বাজার করেছে, বাচ্চাদের স্কুলের মাইনে বাকি অাছে,বাসা ভাড়া বাকি পড়ে অাছে,বেতন পেয়ে বাসায় ফিরছে অার মনে মনে হিসাব করছে কোথায় কত দেবে, অাপনি তো একবারে নিয়ে গেলেন, ঐ মানুষটির সারা মাসের রোজগার একবার ভাবলেন একটা মাসের ঘাটতি কিভাবে পূরন করবে বেচারা?
মা বোনের ব্যাগ হাত থেকে ছোঁও মেরে নিয়ে গেলেন, হতে পারে ঐ মা বা বোনটি গ্রাম থেকে খুব কষ্ট করে কিছু টাকা জোগাড় করে এনেছে শহরে ডাক্তার দেখাতে,হয়তো নিজের জন্যে বা অাপন জনের জন্যে।
অার ও কত অসুবিধায় পড়তে পারে সেই সম্পর্কে কোন ধারনা ই নেই অাপনার, অাইডি কার্ড, পাসপোর্ট, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারিয়ে দিশেহারা হয়ে যায় ছিনতাইয়ের কবলে পড়া মানুষটি।
অাপনি যে ছিনতাই করে পালাচ্ছেন, হতে ও তো পারে ঐ গুলো নিয়ে অার ঘরে ফেরা হলনা অাপনার।পথেই জীবন প্রদীপ নীভে গেল অাপনার।কারো অভিশাপ দীর্ঘশ্বাস অার পাপের বোঝা নিয়ে চিরবিদায় নিতে হল অাপনাকে।
তাই বলছি ছিনতাই করার অাগে একটিবার ভাবুন অাপনার কৃতকর্মের জন্য সেই মানুষটি কতটা কষ্টের মধ্যে পড়বে। ছিনতাই করবেন না প্লিজ, সৎ পথে রোজগার করুন। সৎ পথের রোজগারে বরকত অাছে, শান্তি অাছে, তৃপ্তি অাছে, স্বাধীনতা অাছে।
ঝামেলামুক্ত জীবন বড় অানন্দের, বড় সুখের। সদা সৎ পথে চলুন, ঝামেলামুক্ত জীবন গড়ুন।

লেখক:- সাবিনা ইয়াসমিন রত্না, কবি, সাহিত্যিক, ছড়াকার ও গীতিকার

Print Friendly, PDF & Email

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 159
    Shares