Home / এক্সক্লুসিভ / জনতা ব্যাংক ‘লুটকারী’ বারকাতের অনুষ্ঠান বর্জন অর্থমন্ত্রীর

জনতা ব্যাংক ‘লুটকারী’ বারকাতের অনুষ্ঠান বর্জন অর্থমন্ত্রীর

ক্রাইম প্রতিদিন, ঢাকা : জনতা ব্যাংকের ৫ হাজার কোটি টাকা ‘লুটের হোতা’ আবুল বারকাতের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বিরোধের বিষয়টি নানা সময় গণমাধ্যমে এসেছে। সম্প্রতি জনতা ব্যাংকের করুণ অবস্থার জন্য ব্যাংকটির তৎকালিন চেয়ারম্যান আবুল বারকাতকে দায়ী করে সরাসরি বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী। সেই আবুল বারকাতের একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অতিথি করে আনতে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল অর্থমন্ত্রীকে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি আসেননি।

বাংলাদেশে অর্থনীতি সমিতির আয়োজনে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শনিবার আবুল বারকাত রচিত ‘বাংলাদেশে মৌলবাদ: জঙ্গিবাদের বাজনৈতিক অর্থনীতির অন্দর-বাহির’ গবেষণাগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান ছিল। এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভাষা সৈনিক আহমদ রফিক।

জানা গেছে, বেলা ৩টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ছয়টার পরে শেষ হলেও অনুষ্ঠানে আসেননি অর্থমন্ত্রী। যদিও একই সময়ে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে আরেকটি অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘জনতা ব্যাংক একক গ্রাহককে ঋণসীমা অতিক্রম করে ব্যাংকের মূলধনের দ্বিগুণ ঋণ দিয়েছে। এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাতই ব্যাংকটিকে শেষ করে দিয়েছেন।’

জনতা ব্যাংকের বর্তমান মূলধন অনুযায়ী একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৭৪৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সীমা অতিরিক্ত অর্থ একক গ্রাহককে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়ে এখন বিপদে পড়েছে জনতা ব্যাংক। বারাকাত চেয়ারম্যান থাকাকালে আওয়ামী লীগের এক ব্যক্তিতে এ ঋণ দেয়া হয়। যা আবুল বারাকাতের একক সুপারিশিতেই তার দায়িত্ব পালনকালে দেয়া হয়। এর জন্য অর্থমন্ত্রীও দায়ী করেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাতকে। এননটেক্স নামের স্বল্প পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছেন তিনি।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বিকেল চারটা ৪০ মিনিটে বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী ও আবুল বারকাতের মধ্যে দারুণ মতাদর্শগত পার্থক্য আমরা দেখতে পাই। তাদের ভেতরে কথা চালাচালালি আমাদের নাড়া দিয়েছে। আমরা কোনো না কোনো পক্ষ অবলম্বন করার চেষ্টা করছি। কিন্তু আজকে যখন দেখলাম আবুল বারকাতই বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রীকে আনছেন, তখন মনে হলো এর চাইতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আর কী হতে পারে।’

তবে বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম জানান, অর্থমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী ডেকেছেন তাই তিনি এই অনুষ্ঠানে আসতে পারছেন না। এ সময় দর্শক সারি থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়- ‘অর্থমন্ত্রী আসবেন না, সেটা আমরা আগেই বুঝতে পেরেছি। ’

এদিকে শনিবার বিকাল ৩টায় রাজধানী শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী। এই অনুষ্ঠান থেকে তিনি বের হন সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে। তখনও আবুল বারকাতের বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান চলছিল। তাছাড়া শাহবাগ থেকে কাকরাইলের দূরত্বও খুব বেশি না। মন্ত্রী চাইলে এই অনুষ্ঠানে আসতে পারতেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু একজন ‘ব্যাংক লুটকারীর’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অর্থমন্ত্রী বিতর্কিত হতে চাননি বলেই তিনি ওই অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন বলে মন্ত্রীর ঘনিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

Print Friendly, PDF & Email

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 14
    Shares
x

Check Also

ভল্টের স্বর্ণ বদল তেমন কিছু নয়, প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অর্থমন্ত্রী

ক্রাইম প্রতিদিন, ঢাকা : শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত ...