সংবাদ শিরোনাম
Home / লিড নিউজ / জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এইভাবেই লঞ্চে ওঠানামা করতে হয় যাত্রীদের!

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এইভাবেই লঞ্চে ওঠানামা করতে হয় যাত্রীদের!

ক্রাইম প্রতিদিন : নদীবিধৌত হাইমচর উপজেলায় নৌপথে যাতায়াতের জন্যে রয়েছে একাধিক লঞ্চঘাট। অথচ এসব ঘাটের একটিতেও পন্টুন নেই। নেই কোনো যাত্রী ছাউনিও। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত শত যাত্রীকে লঞ্চে ওঠানামা করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে কয়েকদিন নীলকমল লঞ্চঘাট, হাইমচর লঞ্চঘাট, চরভৈরবী লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা প্রতিরক্ষা বাঁধের সাথে নোঙ্গর করে লঞ্চ ভেড়ানো রয়েছে। লঞ্চ থেকে সরু কাঠের গ্যাংওয়ের ওপর দিয়ে যাত্রীরা নদীর পাড়ে নেমে আসে। এতে করে একদিকে যেমন তীররক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি যাত্রীদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন।

নীলকমল লঞ্চঘাট গিয়ে কথা হয় যাত্রী সীমা আক্তারের সাথে। তিনি বলেন, বাচ্চা কোলে করে লঞ্চ থেকে নামতে হচ্ছে। একহাতে বাঁশ ধরেছি, অন্য হাতে বাচ্চা ধরে লঞ্চ থেকে নেমেছি। একটু এদিক-সেদিক হলেই পানিতে পড়ার সম্ভাবনা ছিলো।

মন্জুমা বেগম নামের এক বৃদ্ধা বলেন, অনেক কষ্টে লঞ্চ থেকে নেমেছি। সদরঘাট থেকে লঞ্চে উঠতে কোনো কষ্ট হয়নি, এখন নামতে গিয়ে দেখি দুর্দশার সীমা নেই।

স্থানীয়রা জানান, হাইমচরে প্রতিদিন এই লঞ্চঘাটগুলোতে প্রায় দেড় হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করে। দীর্ঘদিন পন্টুন না থাকায় যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হলেও পন্টুন করার উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। অনেকে লঞ্চ থেকে নামার সময় পানিতেও পড়ার ঘটনা ঘটছে বলে তারা জানান।

এ ব্যাপারে তাকওয়া লঞ্চের সুপারভাইজার মন্টু পেদা বলেন, পন্টুন ও যাত্রী ছাউনির জন্যে আমরা অনেকবারই লঞ্চ মালিকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত পন্টুন ও যাত্রী ছাউনি করা হয়নি। আশা করছি, খুব দ্রুত যাত্রীদের এসব সমস্যা সমাধান হবে।

পন্টুন না থাকায় হাইমচরের লঞ্চঘাট থেকে যাত্রী ওঠানামা করতে গিয়ে যে কোনো মুহূর্তেই ঘটতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা। তার আগেই যথাযথ কর্তৃপক্ষ পন্টুন ও যাত্রী ছাউনি স্থাপন করবে এমন প্রত্যাশা যাত্রী ও সচেতন মানুষের।

Print Friendly, PDF & Email

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে