Home / রাজনীতি / ‘ঠিকাদার ঘুষ দিতে চেয়েছিল, তাই টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে’

‘ঠিকাদার ঘুষ দিতে চেয়েছিল, তাই টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে’

ক্রাইম প্রতিদিন : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করতে দেয়া কাজের ঠিকাদার অসম্ভব বাজে লোক ছিল। আমাদের (অর্থ মন্ত্রণালয়ের) সচিবকে ঘুষ দিতে চেষ্টার কারণে সেই টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মন্ত্রিত্ব ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় তৃপ্তি নিয়ে বিদায় হতে পারব।

‘আমার তো এখন চলে যাওয়ার সময়। ২০০১ সালে যখন ঠিক করতাম যে আমি রিটায়ার করব। তখন এই রকম তৃপ্তিটা মোটেও ছিল না। আমি এখন অত্যন্ত আনন্দিত। আমার বদ্ধমূল ধারণা, তৃপ্তি হচ্ছে-দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে, যেতেই থাকবে।’

বুধবার বিকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্ট আয়োজিত ‘আগামী সিলেট-উন্নয়নের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী এমপি, ইয়াহিয়া চৌধুরীএমপি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক দুলাল, নাট্যব্যক্তিত্ব পিযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবীর, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পদক ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নুজহাত চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আবদুল মোমেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট এক্সপ্রেসওয়ে করার জন্য একটি কন্ট্রাক্ট করেছিলাম। তারপরে ছেলেটা অসম্ভব বাজে লোক। চাইনজি। সে কন্ট্রাক্ট পেয়ে ঘুষ নিয়ে হাজির। কন্ট্রাক্ট পাওয়ার সে আমাদের সচিবের ঘরে গিয়ে হাজির। বিরাট ধরনের ঘুষ নিয়ে। কিন্তু স্বাভাবিক তাকে আমাদের বিদায় করতে হলো। তাকে বিদায় করে আরেকজনকে পাওয়া কষ্টকর। আমরা এখন ভাবছি নিজেরা করব। তাতেও পরিবর্তন হতে পারে আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরা সেটাই চেষ্টা করব অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানকে পার্টনারশিপ করে কীভাবে রাস্তাটা করা যায়।’

তিনি বলেন, এ অনুষ্ঠানে আসার সময় চিন্তা করলাম যে এখানে এসে খুব বেশি চিন্তা করতে হবে না। বাস্তবে তাই হয়েছে। সিলেটে উন্নয়ন হয়েছে এটা মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশের সরকার হিসেবে মাত্র ১০ বছরে যেটা সম্ভব করতে পেরেছি। সেটা একান্তই সাধারণ। আমার মতে তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ের কারণে। প্রথমটি হচ্ছে অত্যন্ত উপযুক্ত নেতৃত্ব। এটা খুবই জনমুখী এবং প্রগতিশীল। শেখ হাসিনার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এটা গৌরবের বিষয়। তিনি এখন বিশ্ব নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে নেতৃত্ব দেন, তা আমাদের দেশের জন্য মঙ্গলকর।

দ্বিতীয় যে কারণে সম্ভব হয়েছে, সেটি হয়েছে আমাদের দেশের কলাকৌশল কার্যকর হয়েছে। যেমন আমরা ২০০৯ সালে যখন আসলাম, তখন একটা সমস্যা সারা পৃথিবীতে এক্সপোর্ট মার্কেট সিকিং। এক্সপোর্ট মার্কেট সিকিং মানে কী করে গ্রোথ বাড়ানো যাবে। আমরা তখন অল্টারনেটিভ চিন্তা করলাম কীভাবে ডোমেস্টিক ডিমান্ড বাড়ানো যায়। কারণ আমরা বিখ্যাত কৃষিপ্রধান দেশ হলেও নানাভাবে বিভিন্ন কারণে অন্যের মুখাপেক্ষী ছিলাম। আমাদের ডোমেস্টি ডিমান্ড জেনারেশন খুবই কার্যকর হয়েছে।

তৃতীয় যে শক্তি, সেটা আমাদের দেশের মানুষ। লেখাপড়া জানে হয়তো অনেকেই। সেটা ডাজনন্ট মেটার। তাকে একটা কাজ বুঝিয়ে দিলেই তার বুদ্ধটা এত প্রখর যে লেখাপড়ার ওপর তাকে ডিপেন্ড করতে হয় না। আপনার দেখেন শিক্ষিতের হার আমাদের অনেক নিচে। এটা এমন কিছু নয়। আমাদের বয়স কত বেড়েছে। যখন বাংলাদেশ হয় তখন গড় বয়স ৪৮ বছর। এখন ৭১। কোথায় ৪৮ কোথায় ৭১।

দেশের উন্নয়ন নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে উন্নয়ন কার্যক্রম সেটা সর্বব্যাপী, সারা দেশে। যখন উড়োজাহাজে চড়ি তখন বাংলাদেশে দেখা যায় হাইরেইজ বাড়ি। কৈশোরে যখন দেশের বাইরে থেকে বাংলাদেশে আসতাম তখন দেখতাম অন্ধকার একটি দেশ। সাড়ে সাত কোটি, আট কোটি এত মানুষের দেশ কোথাও আলোটালো নেই। এখন রাতের বেলায় যদি দেখি প্রত্যেক জায়গায় কিছু না কিছু আলো আছে। বিদ্যুৎটা মানুষের উন্নয়নের শক্তি।

সিলেটের উন্নয়ন বিষয়ে বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী পুরাতন একটি ঘটনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ঢাকা-সিলেট এক্সপ্রেসওয়ে করার জন্য একটি কন্ট্রাক্ট করেছিলাম। তারপরে ছেলেটা অসম্ভব বাজে লোক। চাইনজি। সে কন্ট্রাক্ট পেয়ে ঘুষ নিয়ে হাজির। কন্ট্রাক্ট পাওয়ার সে আমাদের সচিবের ঘরে গিয়ে হাজির। বিরাট ধরনের ঘুষ নিয়ে। কিন্তু স্বাভাবিক তাকে আমাদের বিদায় করতে হল। তাকে বিদায় করে আরেকজনকে পাওয়া কষ্টকর। আমরা এখন ভাবছি নিজেরা করব। তাতেও পরিবর্তন হতে পারে আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরা সেটাই চেষ্টা করব অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানকে পার্টনারশিপ করে কীভাবে রাস্তাটা করা যায়।

অর্থমন্ত্রী সিলেটে ডাবল রেললাইন, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগের কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, এবার হয়তো ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারব। এবার আইনটা পাস হবে। তারপর একমাত্র যেটা করা যেতে পারে সেটা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।

সরাসরি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘এখন সিলেটের অগ্রগতিতে সুসংহত করতে হবে। আমাদের চেষ্টা করতে হবে বিনিয়োগ বাড়ে।’

সিলেটসহ সারা দেশের উন্নয়নে মানসম্মত শিক্ষার দিকে নজর দেয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানসম্মত শিক্ষা না দিতে পারলে দক্ষতা উন্নয়ন হবে না। দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।’

টেকসই উন্নয়নের জন্য সব সেক্টরে উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে খলীকুজ্জমান বলেন, টেকসই উন্নয়নে কাউকে বাদ দেয়া যাবে না।

নাট্যব্যক্তিত্ব পিযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সিলেট নগরী হওয়া উচিত ছিল বিশ্বমানের। কিন্তু হয়নি নানা রকম চক্রান্তে, ষড়যন্ত্রে। এক কুচক্রীমহল এ লক্ষ্যে কাজ করেছে। তবে হচ্ছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কারণে।’

Print Friendly, PDF & Email

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 15
    Shares
x

Check Also

সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ

ক্রাইম প্রতিদিন : সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার ...