শিরোনাম

দুদকে অভিযুক্ত আসামি মৎস্য অধিদফতরের নতুন ডিজি

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযুক্ত আসামিকে মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি)-এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গত ১৫ মার্চ সাবেক ডিজি সৈয়দ আরিফ আজাদ অবসরে যান। এর পরই নতুন ডিজি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এবং দুদকের তলবকৃত কর্মকর্তা মো. গোলজার হোসেনকে। এতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছেন অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রমতে, ডিজি সৈয়দ আরিফ আজাদ অবসরে যাওয়ার পর কে হচ্ছেন মৎস্য অধিদফতরের নতুন ডিজি- এ নিয়ে বেশ কিছুদিন আলোচনা-পর্যালোচনা চলছিল সংশ্লিষ্ট মহলে। অধিদফতরে জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে এক নম্বরে ছিলেন মো. আমিনুল হক। যিনি বর্তমানে পরিচালক (মেরিন) পদে কর্মরত। কিন্তু জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ও দুদকে অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মো. গোলজার হোসেনকে নতুন ডিজি করা হয়েছে। সর্বশেষ তিনি দায়িত্বপালন করেন পরিচালক (রিজার্ভ) পদে। তার পরে রয়েছেন প্রকল্প পরিচালক (ডিডি) জোয়ার্দার মো. আনোয়ারুল হক। ধারাবাহিকভাবে ৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকতার মধ্যে এর পরে আছেন মো. মনোয়ার হোসেন, চলতি দায়িত্বে পরিচালক (ট্রেনিং) এবং ঢাকা বিভাগের ডিডি কাজী ইকবাল আজম।

মৎস্য অধিদফতর এবং এ খাতসংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন চাকরির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা অনুসরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাতে প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করলে ড. একেএম আমিনুল হকই ডিজি পদে নিয়োগ পেতেন। তবে এর বাইরে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় জোয়ার্দার মো. আনোয়ারুল হকও যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত। তাকে দায়িত্ব দেয়ার পক্ষে ছিলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ। এদের যুক্তি হচ্ছে, যেহেতু জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করাই হলো- তবে কেন একজন সৎ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব না দিয়ে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত দুদকের আসামিকে দায়িত্ব দেয়া হবে? এ ক্ষেত্রে মন্ত্রীর দফতরের একটি দুর্নীতিবাজচক্র গোলজার হোসেনের পক্ষে কাজ করেছে বলে তথ্য মিলেছে। এমনকি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা গোলজার ডিজি পদে নিয়োগ পেতে মন্ত্রীর দফতরের ওই দুর্নীতিবাজ চক্রটিকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব বিষয়ে মৎস্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত একটি অভিযোগও দেয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে মো. রমজান আলী স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগপত্র গত ১২ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়। যার অনুলিপি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী এবং সচিবকেও দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নতুন ডিজি গোলজারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার তদন্ত চলছে। তাকে ইতিমধ্যে দুদকে তলবও করা হয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিগত দিনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকালে কাজের বিপরীতে আর্থিক দুর্নীতি এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তথ্য মিলেছে গোলজারের বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে তথ্য ও সম্পদের হিসাব চেয়ে তাকে ও মৎস্য অধিদফতরে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দুদক থেকে মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের সহযোগিতা চেয়ে তার কাছে এই নোটিশ পাঠানো হয়। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এসএম রাশেদুর রেজা নোটিশে স্বাক্ষর করেন। যার স্মারক নং ৫৬৮৬।

দুদকের ওই নোটিশে আরো বলা হয়, গোলজার হোসেনের বিরুদ্ধে মৎস্য খাদ্য, প্রসেসড ফিসমিল, ফিস প্রসেস প্রোটিন, প্রোটিন মিল, হাস-মুরগীর খাদ্য, পশু খাদ্য, এমবিএম (মিট এন্ড বোন মিল, আমদানি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ প্রসেস প্রোটিন, প্রোটিন মিল), ফিস মিলের রাসায়নিক বিশ্লেষণ এবং পরীক্ষায় প্রতিবেদন দাখিল, মতামত, অনাপত্তিপত্র প্রদানে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ সব অভিযোগ তদন্ত ও সঠিক অনুসন্ধানের স্বার্থে মৎস্য অধিদফতর হতে প্রোটিন মিল আমদানির ব্যাপারে অনাপত্তিপত্র প্রদান সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র/কাগজপত্র ও তথ্যাদি প্রয়োজন। ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার মধ্যে চাহিদা মোতাবেক রেকর্ডপত্র/কাগজপত্র/তথ্যাদি চাওয়া হয়। যার ভিত্তিতে গোলজারের বিরুদ্ধে তদন্তাধীন। এ অবস্থায় একজন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধান করায় দুদকের মামলা তদন্তেও প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আর মৎস্য অধিদফতরের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী বলছেন, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্তি প্রশাসন গড়তে স্বাভাবিক দাবি হচ্ছে- দুদকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চলতি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া। যাতে তদন্তে প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে হয়েছে সম্পূর্ণ উল্টো। মামলার আসামি ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে পদায়ন নিয়ে দফতরের প্রধান হয়েছেন, এমন অভিযোগ উঠেছে। ফলে দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত এতে বাধাগ্রস্ত হবে। সেই সাথে মৎস্য অধিদফতরের দীর্ঘদিনের অর্জিত সাফল্য ও সুনাম দ্রুতই ধ্বংসের মুখে পড়বে। এটা দুর্নীতিকে পৃষ্ঠপোষকতা করাও বটে। যা দফতরটির সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।- সাপ্তাহকি শীর্ষকাগজ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 13
    Shares
x

Check Also

সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি প্রবেশ করছে : প্রধান বিচারপতি

ক্রাইম প্রতিদিন, ঢাকা : প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ ...