Home / সারাদেশ / দেড় শত বছরের পুরনো ম্যাকলিউড স্মৃতি ধ্বংসের মুখে

দেড় শত বছরের পুরনো ম্যাকলিউড স্মৃতি ধ্বংসের মুখে

ক্রাইম প্রতিদিন, এস,এম রায়হান উদ্দীন, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর শহরে অবস্থিত পূরাকীর্তির নিদর্শন ইংরেজ ব্যবসায়ী মি.ম্যাকলিউডের বাড়িটি প্রায় দেড়শ’ বছরের পুরানো। কোটচাঁদপুরের সাহেব বাড়ি হিসাবে পরিচিত বাড়িটি এখনও ম্যাকলিউড পরিবারের স্মৃতি বহন করে চলেছে। কালের সাক্ষী এ বাড়িটি এখনও পর্যন্ত সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেই।
এদিকে সংস্কারের অভাবে ইতিহাস ও ঐতিহ্যে বহনকারী এ বাড়িটি এখন ধ্বংসের মূখে। ফলে নতুন প্রজন্ম এসব বিষয়ে কোন কিছুই জানতে পারছে না।

জানা যায়, ১৮ খ্রিষ্ঠাব্দের মাঝামাঝি সময় ব্যবসায়িক কারনে কোটচাঁদপুর শহরে আসেন মি. ম্যাকলিউড। কপোতাক্ষ নদের পারে বিশাল বাড়ি নির্মাণ করে তিনি এখানে বসবাস শুরু করেন। বাড়িটি বর্তমানে কোটচাঁদপুর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ভবন হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে।

অষ্ঠাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে নীল চাষ ও চিনির ব্যবসার সুবাদে কোটচাঁদপুর এলাকায় সাহেবদের আগমণ ঘটে। বর্তমানে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে স্কুলের প্রশাসনিক ও পাঠ দানের কাজ।

ইংরেজ সাহেবরা অত্যাচারী নির্যাতনকারী বলে মানুষের স্মৃতিতে ভেসে উঠলেও এদের মধ্যে অনেকে ছিলেন একটু ব্যাতিক্রম। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কোটচাঁপুরের ম্যাকলিউড পরিবার। ব্যবসায়ী সুবাদে তারা আয়ারল্যান্ড থেকে এদেশে আসলেও এখানে তারা স্থায়ী বসতি স্থাপনা গড়ে তোলেন। এদের মধ্যে তিন ভাই ছিলেন উচ্চ শিক্ষিত। ১৮৬৯ সালে কোটচাঁদপুর পৌরসভা স্থাপনা থেকে শুরু করে কোটচাঁদপুরের উন্নয়নে তাদের অবদান ছিল অবিস্মরনীয়।

পরবর্তিতে ১৮৯২-১৯০৪ সাল পর্যন্ত তিনি পৌরসভার মনোনীত প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন। তাইতো স্রদ্ধাভরে কোটচাঁদপুরের মানুষ আজও স্বরণ করে ম্যাকলিউড পরিবারকে। বড় সাহেব বাড়ি অনেক আগে ধ্বংস হয়ে গেলেও ছোট সাহেব বাড়ি এখনো টিকে আছে। পরে কোটচাঁদপুর হাইস্কুল এ ভবনে স্থানান্তর করা হয়।

দ্বিতল এ ভবনটির ১৪টি কক্ষ রয়েছে। বর্তমানে ভবনের মূল কাঠামো এখনো ঠিক থাকলেও সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংস হতে চলেছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে কাঠের সিঁড়ি ক্ষয় হয়ে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বাহিরে গায়ের মূল নকসা নষ্ঠ হয়ে পড়ে আছে। ১৫একর জমির উপর স্থাপিত এ বাড়ির চারপাশে আম ও লিচু বাগানে ঘেরা ছিল। বড় ও ছোট সাহেব বাড়ির মাঝখানে পারিবারিক কবর স্থান যা লোহার গ্রীলে ঘেরাছিল। কবর গুলো এখন অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। রাতের আঁধারে দুর্বত্তরা কবরগুলো ভেঙ্গেচুরে খুড়ে লুকানো ধন-সম্পদের সন্ধান করেছে। এক সময় বাড়ির মালিকানা বদল হয়ে ঘোষ জমিদারদের হাতে চলে যায়। পরবর্তিতে ১৯৫৭ সালে সাহেব বাড়িটিতে কোটচাঁদপুর হাইস্কুলে স্থনান্তরিত হয়।

কোটচাঁদপুর এলাকার নাগরিক সমাজ মনে করেন, সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে প্রায় ২০০ বছরের পুরাতন একটি স্মৃতি প্রতœতাত্বিক নিদর্শন ধ্বংস হতে বসেছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দাতাসদস্য , আলহাজ আশরাফ আলী মন্ডলের ছেলে মোঃ আতাউর রহমান জানান, প্রতœতত্ব বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে ভবনটি রক্ষা করা সম্ভব। কোটচাঁদপুর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মফিজ উদ্দীন জানান, অনেক চেষ্টা করেও এখনো পর্যন্ত ইতিহাসের পূরাকীর্তির নিদর্শন এই ভবনটিতে কোন প্রকার সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। সেই সাথে নতুন কোন ভবন না থাকার কারনে, অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও পাঠদানের কাজ জরাজীর্ণ এই ভবনটিতে করতে হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 4
    Shares