Home / সারাদেশ / নওগাঁয় বস্তাবন্দি গৃহবধু উদ্ধার, হাসপাতালে ভর্তি!

নওগাঁয় বস্তাবন্দি গৃহবধু উদ্ধার, হাসপাতালে ভর্তি!

ক্রাইম প্রতিদিন, কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রাণীনগরে চামেলি আক্তার চায়না (৩৬) নামের এক গৃহবধুকে হাত-পা বাধা বস্তা বন্দি অবস্থায় পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে এলাকাবাসি। তাকে মূমুর্শ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এমন ঘটনা তার গর্ভের কথিত সন্তানকে কেন্দ্র করে ঘটেছে নাকি অর্থ-সম্পদই গৃহবধুর জীবনে কাল হয়ে দ্বাড়িয়েছে তা নিয়ে এলাকা বাসীর মধ্যে চলছে নানা রকম জল্পনা-কল্পনা। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার খুব সকালে উপজেলার পারইল ইউনিয়নের রাতলাই গ্রামে।
স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, ওই গ্রামের মৃত দলিল হোসেনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ গত ৯ বছর আগে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার উজ্জলতা গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে গত ৯ বছরেও সন্তান জন্ম দিতে পারেনি চামেলী। এমতবস্থায় চলতি মাসের ১ তারিখে আবুল কালাম আজাদ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। এর মাত্র ৮ দিনের মাথায় আজাদের বাবা দলিল উদ্দীনও মারা যান। বাবা-ছেলের আত্মার মাগফেরাদ কামনায় গত বৃহস্পতিবার মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করে পরিবারের রোকজন। পরিবারের লোকজন জানান,গত ৯ বছরেও চামেলি কোন সন্তান জন্ম দিতে না পারলেও আজাদ মারা যাবার দিনে দাফন-কাফন শেষে হঠাৎ করেই চামেলি জানান,তার গর্ভে দু’মাসের সন্তান রয়েছে । বিষয়টি সবার কাছে অবিস্বাস্য হলে গত বৃহস্পতিবার মিলাদ শেষে চামেলির স্বামী-শ্বশুরের পরিবার থেকে তার গর্ভে আদৌ সন্তান রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়। এতে চামেলির বাবার পরিবার এবং শ্বশুড় পরিবারের লোকজন বসে আলোচনা সাপেক্ষে শনিবার আদমদীঘি গিয়ে গর্ভে সন্তান থাকা না থাকার বিষয়টি পরীক্ষা করার দিন নির্ধারন করেন। এরই মধ্যে ওই বাড়ীতে মিলাদ মাহফিলে অংশ নিতে আসা আত্মীয় স্বজনসহ সবাই শুক্রবার রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরে। শনিবার খুব সকালে মসজিদ থেকে নামায শেষে মসল্লিরা বাড়ী ফেরার সময় বাড়ীর পার্শ্বে পুকুরে চামেলির বস্তার মধ্যে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়। সাথে সাথে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আদমদীঘি হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে অবস্থার অবনতি দেখে নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুপুর নাগাদ বগুড়া হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় ।প্রত্যক্ষ দর্শিরা জানান,চামেলির হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তায় ভরানো থাকলেও গলা থেকে মুখ-মন্ডল বস্তার বাহিরে ছিল। তবে কারা কেন এঘটনা ঘটিয়েছে তা স্পষ্ট করে কেউ বলতে না পারলেও গর্ভে কথিত সন্তান এবং কালামের অর্থ-সম্পদের কারনেই এই পরিনতি হতে পারে বলে এলাকায় নানা রকম জল্পনা-কল্পনা চলছে।
এব্যাপারে চামেলির দেবর আলীম উদ্দীন জানান, চামেলির গর্ভে সন্তান রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য আজ (শনিবার ) দিন নির্ধারণ করা ছিল । রাতে খাবার খেয়ে আত্মীয় স্বজন নিয়ে আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম । খুব সকালে জানতে পেরেছি চামেলিকে বস্তা বন্দি অবস্থায় পুকুর থেকে লোকজন উদ্ধার করেছে। সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি দাবি করে জানান, হাসপাতালে তার বোনসহ স্বজনদের মারপিট করেছে চামেলির স্বজনরা। তবে ওই রাতে চামেলি ও তার মা এক রুমে ঘুমিয়ে ছিল। কেন কি কারনে এমনটা ঘটল তা বলতে পারছেন না তিনি।
এব্যাপারে চামেলির বাবা আব্দুল হামিদের সাথে ফোনে যোগা-যোগ করলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিছইু বলতে পারবেন না বলে জানান তিনি।
এব্যাপারে রাণীনগর থানার ওসি এএসএম সিদ্দিকুর রহমান জানান,খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আলামত হিসেবে বস্তা,দড়ি এবং পায়ের স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে । কারা কেন এঘটনা ঘটিয়েছে বা কারা জড়িত রয়েছে তা গুরুত্বের সাথে ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে ।

Print Friendly, PDF & Email

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 19
    Shares