Home / বাংলাদেশ / সারাদেশ / পাকা বাড়িতে থাকা সবাইকে করের নোটিশ : অর্থমন্ত্রী

পাকা বাড়িতে থাকা সবাইকে করের নোটিশ : অর্থমন্ত্রী

ক্রাইম প্রতিদিন : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ঢাকা শহরকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে ট্যাক্স টিম পাঠানো হবে। তারা যত পাকা বাড়ি আছে তার তালিকা করে আনবে। এদের সবার কাছে কর প্রদানের নোটিশ যাবে।

সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রাক বাজেট আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

মুহিত বলেন, ১৬ কোটি মানুষের দেশে এক কোটি করদাতা হওয়া উচিত। আমি জানি না কখন আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাবো। তবে ইয়াং পিপলরা (নতুন প্রজন্ম) কর দেয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ইন্টারেস্ট (আগ্রহী) হয়েছে। আমাদের করদাতার সংখ্যা ১৪ লাখ ছিল। এই মুহূর্তে রেজিস্ট্রেশন বেড়ে ২৮ লাখ হয়েছে। সুতরাং ২০১৯ সালের মধ্যে লক্ষ্য থাকবে এক কোটি করা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দোকানদাররা ভ্যাট আদায় করেন, কিন্তু এটা রাজকোষে জমা হয় না। এটার জন্য কিছু করার প্রস্তাব এসেছে। এ বিষয়ে আলোচনা থেকে প্রস্তাব এসেছে কর অফিস উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। এই মুহূর্তে ৮১টি আছে। দ্রুত গতিতে সব উপজেলা কাভার করার জন্য প্রস্তাব এসেছে।

বাংলাদেশে আয়কর দেয়ার উপযুক্ত কতজন আছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মুহিত বলেন, সে রকম কোনো জরিপ আমরা করিনি। সুতরাং আন্দাজে বলা যাবে না। আমি এবার যেটা করবো ঠিক করেছি, ঢাকাকে কয়েকটি জোনে ভাগ করবো এবং প্রত্যেক জোনে আমার ইনকাম ট্যাক্স (আয়কর) টিম যাবে। তারা যত পাকা বাড়ি ইত্যাদি ইত্যাদি লিস্টি (তালিকা) করে আনবে। এদের সবাইকে করের নোটিশ দেব।

আগামী বাজেটে তামাকের ওপর ট্যাক্স বাড়ানো হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার লক্ষ্য দুই বছরের মধ্যে দেশ থেকে তামাক বিতাড়িত করা। এই মুহূর্তে পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশে তামাকের ওপর সব থেকে কম ট্যাক্স বসানো হয়েছে। তামাকের ওপর এবার বাজেটে ট্যাক্স বাড়ানো হবে।

‘রাস্তা-ঘাটে পলিথিনের ব্যবহার চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে সারা বাংলাদেশ পলিথিনময় হয়ে যাবে। এ জন্য হাসান মাহমুদ প্রস্তাব করেছেন পলিথিনের ওপর এক শতাংশ ইকো ট্যাক্স বসানোর জন্য। এটি ভালো প্রস্তাব’ বলেন মুহিত।

স্কুলফিডিং উৎসাহিত করার পদক্ষেপ নেয়া হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা ব্যক্তি উদ্যোগে অথবা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে স্কুলফিডিং করাবেন তাদের ট্যাক্স রিলিফ দেয়া যেতে পারে।

এছাড়া আলোচনায় কৃষি পণ্য আলু, সবজি, ফল, পেয়াজ, রসুন এসব সংরক্ষণের ব্যবস্থার জন্য কিছু করা, ঢাকা চিড়িয়াখানার জন্য বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে মুহিত বলেন, ঢাকা চিড়িয়াখানার জন্য কোনো একবার বরাদ্দ হয়েছিল। তারপর ৮-৯ বছরের মধ্যে আর বরাদ্দ হয়নি।

‘সব থেকে মজার বিষয় আমরা যে হালদা নদীতে পোনা ছাড়ি তার জন্য বার্ষিক বরাদ্দ মাত্র এক লাখ টাকা। আমি ভাবছি সামনের বছর পাঁচ লাখ টাকা আমি নিজের থেকেই দিয়ে দেব’ বলেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আলোচনায় কারিগরি শিক্ষাকে উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং তার ধারণাটা এমন হবে যাতে হাতে-কলমে কিছু শেখানো যায় তার ব্যবস্থা করার। সোলার প্যানেল প্রচুর আমদানি হয় উল্লেখ করে মুহিত বলেন, সোলার প্যানেল আমদানির ওপর শুল্ক বাড়িয়ে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন সাবের চৌধুরী, মো. মকবুল হোসেন, শওকত হোসেন, ফজলুল করিম চৌধুরী, তাজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, ফজলে কবির প্রমুখ।

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন