Home / খেলাধুলা / ‘প্রতারণা নয়, সততা নিয়ে জিততে হবে’

‘প্রতারণা নয়, সততা নিয়ে জিততে হবে’

ক্রাইম প্রতিদিন: নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব পালন করেন কোর্টনি ওয়ালশ। জেন্টেলম্যান গেম নিয়ে যার বিশ্বব্যাপী একটা সুনাম আছে। কোনো প্রতারণা নয়, ক্রিকেটকে উপভোগ করেছেন সততা দিয়ে। তাই স্মিথ-ওয়ার্নারদের অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ ও হতাশ তিনি। ছুটিতে থাকা ওয়ালশ শ্রীলঙ্কা থেকে কলকাতাভিত্তিক একটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন কোর্টনি ওয়ালশ।

স্মিথ-ওয়ার্নারদের বল টেম্পারিংয়ের সংবাদে রীতিমতো ক্ষুব্ধ ওয়ালশ। তিনি বলেন, আমরা জেতার জন্য খেলেছি, কিন্তু স্পিরিটকে জলাঞ্জলি দিয়ে নয়। ছোটবেলা থেকে আমাকে শেখানো হয়েছে, প্রতারণা করাটা কোন রাস্তা হতে পারে না। সততা নিয়ে জিততে হবে। অনেক ব্যাটসম্যান আহত হয়েছে আমাদের বোলিংয়ে। কিন্তু ক্রিকেটের আইন বা স্পিরিটকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কখনও কিছু করিনি। হয়তো সেই কারণেই পুরো ক্রিকেট বিশ্বের ভালবাসাও পেয়েছি।
তবে নিজেদের সময়েও যে বল বিকৃতির কথা শুনতেন তা স্বীকার করেছেন। তবে বাইরে থেকে অন্য দ্রব্য নিয়ে বলের গুণাগুণ পরিবর্তনের সংবাদে বিস্মিত তিনি। ওয়ালশ বলেন, রিভার্স সুইং করাতে বলের একটা দিক ভারী করে তুলতে হয়। সেটার জন্য থুতু বা আঠালো কিছু লাগানো প্রয়োজন। আমরা খেলার সময়েও শুনেছি যে, লোশন বা স্কিনক্রিম ব্যবহার করা হচ্ছে বলকে তৈরি করার জন্য। মুখ থেকে ক্রিম বলেও লাগানো হচ্ছে, অনেকেই এমন কথা বলত। এখন তো দেখছি, বাইরে থেকে অন্য দ্রব্য নিয়েও মাঠে ঢুকছে ক্রিকেটারেরা বল বিকৃতি ঘটাবে বলে। এটা নিশ্চয়ই ক্রিকেট নয়।
এখন পর্যন্ত আইসিসি বিধি হচ্ছে, বল বিকৃতির ঘটনায় ধরা পড়লে একটি টেস্টে নিষেধাজ্ঞার শাস্তি হয়। সঙ্গে ম্যাচ-ফির পুরোটা জরিমানা হতে পারে। এই শাস্তি আরও কঠোর করার পক্ষেও মত দেন তিনি।
কোর্টনি ওয়ালশ এমন একজন ক্রিকেটার যিনি বিশ্বকাপের ম্যাচ জেতার সুযোগ উপেক্ষা করে ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট’-এর বাইরে যাননি। ১৯৮৭ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শেষ ওভারে ওয়ালশ পাকিস্তানের শেষ ব্যাটসম্যান সেলিম জাফর নন স্ট্রাইকার এন্ড থেকে বেরিয়ে গেলেও রান আউট করেননি। ছিটকে গিয়েছিল ওয়ালশের দল। তবে এই নিয়ে আজও পর্যন্ত কোনো আঁফসোস নেই।
নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশ ফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছে। তবে এরপরও দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরেছে বলে মনে করেন তিনি। শেষ বলে ছক্কায় হারের পর ছেলেদের কী বললেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়ালশ বলেন, ওদের বলেছি তোমাদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছ। তারপরও হয়নি কারণ প্রতিপক্ষের এক ক্রিকেটার অসম্ভবকে সম্ভব করে দিয়েছে। ছেলেদের বলেছিলাম, এই হারে লজ্জার কোনও ব্যাপার নেই। ওরা সকলেই খুব হতাশ ছিল। কিন্তু হতাশার মধ্যেও লুকিয়ে আছে আশার আলো। সেটাই বুঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। বাংলাদেশের হেড কোচ হিসেবে এটাই আমার প্রথম টুর্নামেন্ট ছিল। টুর্নামেন্ট না জিতলেও আমরা বিশ্বাসটা নিয়ে ফিরতে পেরেছি, যে কোনও দলকে আমরা হারাতে পারব। সেটা ছেলেদের আত্মবিশ্বাসকে অনেক বাড়িয়ে তুলবে।

Print Friendly, PDF & Email

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 5
    Shares
x

Check Also

ফারুক খানের জন্মদিন পালন করেছেন ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদ

ক্রাইম প্রতিদিন : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক ...