সংবাদ শিরোনাম
Home / সারাদেশ / ফরিদগঞ্জের রনির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ!

ফরিদগঞ্জের রনির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ!

ক্রাইম প্রতিদিন : এলাকায় এক এক সময় এক এক নামে পরিচয় দেন তিনি। কখনও রাজনীতিবিদ, কখনও ব্যবসায়ী, কখনও ঠিকাদার, কখনো সাংবাদিক হিসেবে নিজের পরিচয় দিচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে। সাধারণ মানুষদের দাবি, তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। ফরিদগঞ্জের ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব গাজীপুর এলাকার সালামত উল্যার ছেলে কামরুল হাসান রনির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ।

ফরিদগঞ্জের ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে সে পুরান ঢাকার অস্থায়ী বাসিন্দা। কিছুদিন পূর্বে ফেসবুকে কামরুল হাসান রনির মাদক জাতীয় কিছু গ্রহণের দৃশ্য ভাইরাল হয়। ফেসবুকে দেখা যায়, রনি নিজে ইয়াবা সেবনের মতো করে কিছু একটা সেবন করছেন। যে ভিডিও ইতিমধ্যেই ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের নজরে এসেছে বলে জানা গেছে।

পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের মোঃ আব্বাস নামে এক প্রবাসী জানান, অর্থলোভী এই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ফাঁদে ফেলে তাঁর জীবনের উপার্জিত অর্থ লোপাট করে নিয়েছে। ঐ প্রবাসী দেশে আসার পর তাঁকে মোবাইল ফোনে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। কিন্তু মামলা দায়ের করে আর থানায় আসেনি।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই. মোবারক হোসেন জানান, অভিযোগ দিয়ে মামলার বাদী একাধিক বার ফোন দেওয়া সত্ত্বেও থানায় আসেনি। ঘটনাটি আমরা তদন্ত করে দেখেছি, হয়রানির উদ্দেশ্যে অভিযোগটি দিয়েছে কামরুল হাসান। তার এক আত্মীয় জানান, তার আচরণের কারণে তারা বিব্রত । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীপুর এলাকার এক রাজনৈতিক নেতা জানান, বস্তুত রনির পরিবারটি বিএনপির সাথে জড়িত। কিন্তু বর্তমানে তাকে সরকার দলীয় বড় বড় নেতাদের সাথে চলতে দেখে তারা হতাশ।

স্থানীয়রা জানান, আনা মিয়া কবিরাজ নামে পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের একজন গ্রাম্য কবিরাজকে সে বস্ন্যাক মেইল করে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কামরুল হাসানের চাচা গাজীপুর বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান জানান, কামরুলসহ তার ভাইপোদের আচরণে তারা অতিষ্ঠ। তার পিতা ছিদ্দিক আলীর মৃত্যুর পূর্বে কামরুল হাসানের বাবা অর্থাৎ তার ভাই সালামত উল্যার মৃত্যু হয়। আবার কামরুলকে ১০ মাসের রেখে তার মা মৃত্যুবরণ করে। সেই থেকে তিনি এবং তার অপর ভাই অলি উল্যা, কামরুলসহ তার অন্য ভাইদের দেখভাল করেছেন। কিন্তু তারা সাবালক হয়েই জমি নিয়ে টানা হেঁচড়া শুরু করেছে। তিনি জানান, তার পিতা ছিদ্দিক আলী মৃত্যুর পূর্বেই তার মৃত ছেলের পুত্র অর্থাৎ নাতিদের জন্য সম্পত্তি দিয়ে যান। কিন্তু কামরুল ও তার ভাইয়েরা তাদের পিতা সালামত উল্যা তার পিতার মৃত্যুর পর মারা গেছেন বলে ভুয়া মৃত্যু সনদ দেখিয়ে তাদের সম্পত্তি অবৈধভাবে খারিজ করে নেয়। পরে তারা জানতে পেরে এই খারিজের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ আলম বলেন, সোস্যাল মিডিয়ায় যে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এই বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম মাহফুজুর রহমান জানান, সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বিষয়টি আমরা থানা পুলিশকে খতিয়ে দেখার জন্যে বলেছি।

এ ব্যাপারে কামরুল হাসান রনিকে তার মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করার পর তিনি ধরেন। পরে তিনি ফেসবুকে ভিডিও ও স্থির চিত্র ভাইরাল হওয়ার বিষয় জানাতে চাইলে তিনি জানান, কোন্টি ইয়াবা তা আগে জানা প্রয়োজন। এ সময় তিনি ছবি ও ভিডিওর বিষয়ে পরিষ্কার বক্তব্য প্রদান করেন নি।

Print Friendly, PDF & Email

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 49
    Shares