Home / লিড নিউজ / বিমান দুর্ঘটনায় নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ বন্ধু

বিমান দুর্ঘটনায় নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ বন্ধু

ক্রাইম প্রতিদিন, মোঃ আখতার রহমান, রাজশাহী : একসঙ্গে নেপাল ভ্রমনে যাচ্ছিলেন চারবন্ধু। ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব হাসান ইমাম দুই বন্ধু। আর নজরুলের স্ত্রী মহিলা কলেজের শিক্ষিকা আক্তারা বেগম ও হাসান ইমামের স্ত্রী অবসর প্রাপ্ত কলেজ শিক্ষিকা নুরুন নাহার বিলকিস বানু। স্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে দুই বন্ধু গত বুধবার (০৭/০৩/২০১৮) নেপাল ভ্রমনের জন্য রাজশাহী থেকে ঢাকায় যান।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় চারজনেই নিহত হয়েছেন। নজরুলের বাড়ি রাজশাহীর উপশহর ও হাসান ইমামের বাড়ি শিরোইল এলাকায়। পারিবারিকভাবে জানা যায় নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ ডেভলোপম্যান্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি অবসরে যান। তাঁর স্ত্রী আক্তারা বেগম রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষিকা ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে তিনিও অবসরে যান। হাসান ইমাম ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ছিলেন। তিনি শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। তিন বছর আগে তিনি অবসরে যান। আর হাসান ইমামের স্ত্রী বিলকিস বানু নাটোরের গোপালপুর কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। সকলেই রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে লেখাপড়া করেছেন।

নিহত বিলকিস আরা ভাইবোন দের মধ্যে পঞ্চম ছিলেন। তাঁর ভাই রাজশাহী বরেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর মালেক জানান, নিহত বোনের দুই ছেলে। তারা ক্যানাডায় থাকে। তার বোন উড়োজাহাজে চড়তে ভয় পেতেন। এ কারণে তিনি কোনদিনই উড়োজাহাজে চড়তেন না। তার দুই ছেলে মাকে একাধিকবার ক্যানাডায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু উড়োজাহাজে উঠার ভয়ে তিনি ছেলের কাছে যাননি। এই প্রথম আমার বোন বিলকিস আরা উড়োজাহাজে চড়ে নেপাল বেড়াতে যাচ্ছিলেন বলে জানান নিহতের ভাই আলমগীর মালেক। নিহত আক্তারা বেগমের বোনের ছেলে তরিকুল ইসলাম জানান, তাঁর খালা আক্তারা বেগমের দুই মেয়ে কাকন ও কনক। দুইজনেই ঢাকায় থাকেন। এদের মধ্যে কাকন স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকেন। আর কনক লেখাপাড়া করছে।

গত বুধবার তার খালা আক্তারা বেগম ও খালু নজরুল ইসলাম নেপাল বেড়াতে যাওয়ার উদ্যেশ্যে ঢাকায় গিয়ে মেয়ে কাকনের বাসায় উঠেছিলেন। যাওয়ার সময় ভাগ্নে তরিকু কে বাড়ি দেখাশোনা করার জন্য বলে গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। সোমবার দুপুরে ৭১ জন আরোহী নিয়ে নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটি। ওই ফ্লাইটের মোট ৬৭ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ৩২ জনই বাংলাদেশের। আর ৩৩ জন নেপালের, একজন মালদ্বীপ ও একজন চীনের নাগরিক ছিলেন।ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ জানায়, ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের ওই উড়োজাহাজে ৭১ জন আরোহীর মধ্যে ৬৭ জন ছিলেন যাত্রী, বাকিরা ক্রু। বিমানটি অবতরণের সময় পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারালে বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫০ জন।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 53
    Shares