ফাইল ফটো

মহুর্তেই চাঁদাবাজি বন্ধ শ্রীপুরে!

ক্রাইম প্রতিদিন, ইকবাল হোসেন, শ্রীপুর : গাজীপুরের শ্রীপুরে যে সকল সড়কের মোড়ে মোড়ে চাঁদা আদায় হয়েছিল শ্রীপুরে আঞ্চলিক সড়ক গুলোতে চলাচল কারী হালকা যানবাহন থেকে শুরু করে ভারী যানবাহনের কাছ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১৫-২০ লক্ষ্য টাকা আদায় করা হতো। সবাই ভুক্তভোগী কিন্তু মুখ খোলার সাহস কারো ছিল না। এ সব চাঁদা পরিবহনের সাথে জড়িত শ্রমিকদের কোন কল্যানে আসছিল না। অনেক শ্রমিক মনে করেছিলেন চাঁদার অর্থ সরকারের কোন ফান্ডে হয়ত জমা হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এ বিপুল অর্থ যা, রিক্সা চালাক, ভ্যান চালক, ঠেলাগাড়ী চালক, অটোরিক্সা চালক, সি.এন.জি চালাক অতি দরিদ্র সামান্য আয়ের মানুষের রক্তের কামাই অর্থ কোথায়, কি ভাবে, কেমন করে গেল কেউ বলতে পারে না। শ্রীপুর পৌর কর্তৃপক্ষ যানবাহন ভেদে স্ট্যান্ড ইজারা দিয়ে রশিদের মাধ্যমে এ সব চাঁদা হাতিয়ে নিয়েছিল। পৌরসভার থেকে কোন নির্দিষ্ট স্ট্যন্ড নেই পৌর এলাকায় শ্রমিক রাজনীতির সাথে জড়িতরা এলাকা ভেদে এসব চাঁদা আদায় করেছিল।

শ্রীপুর পরিবহন নাম তালিকা ভুক্ত করেছিলেন, সি.এন.জি চালিত অটোরিক্সা চালক আমির হোসেন ক্রাইম প্রতিদিনকে বলেন বেশ কয়েক বছর যাবত তিনি ভাড়ায় অটোরিক্সা চালাচ্ছেন। তিনি শ্রীপুর থেকে মাওনা চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রতিদিন যাত্রী আনা নেওয়া করেন। এ জন্য প্রতিদিন তাকে শ্রীপুর পৌরসভার রশিদের মাধ্যমে ১০ টাকা চাঁদা দিতে হতো। রশিদ ছাড়া প্রতিদিন শ্রীপুর বাস স্ট্যান্ডে ৪০ এবং মাওনা চৌরাস্তায় ৫০ টাকা চাঁদা দিতে হইত। কোন কারণে এক দিনের চাঁদার টাকা ফাঁকি দিলে পরের দিন বকেয়া সহ জরিমানা আদায় করে নিত। শ্রীপুর থেকে মাওনা চৌরাস্তা দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার, এ সড়কে তালিকা ভুক্ত কমপক্ষে ১৭০টি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা চলাচল করে। তার মতো প্রত্যেক চালকেরই সমপরিমান চাঁদা দিযে যাত্রী আনা নেওয়া করা হইত।

তিনি আরো জানান, শ্রীপুর উপজেলা আঞ্চলিক শ্রমিকলীগ কমিটির নেতৃবৃন্দের তত্বাবধানে বিভিন্ন স্ট্যান্ডে এসব চাঁদ উত্তোলন করা হত। অটোরিক্সা মালিককে প্রতিদিন ভাড়া ছাড়াও নানা স্থানে চাঁদা দিতে হত। সড়কে দেওয়া দ্রুত গতিতে বা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর টেন্ডেন্সি থাকে। তা না হলে ভাড়া ও চাঁদা দিয়ে নিজের উপার্জন কিছুই থাকত না।

ব্যাটারীচালিত অটোরিক্সা চালক শাখাওয়াত হোসেন, ক্রাইম প্রতিদিনকে জানান, এক সপ্তাহ যাবৎ চাঁদা নিতে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। যে সমস্ত জায়গায় চাঁদা দিতে হত, শ্রীপুর রেল গেইট, শ্রীপুর চৌরাস্তা, মাওনা চৌরাস্তা, মাষ্টার বাড়ী বাজার, নয়নপুর বাজার, জৈনাবাজার, বরমী সহ সকল চৌরাস্তা ও বাজার কোথায় বাদ পড়ত না।

বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা ক্রাইম প্রতিদিনকে বলেন যখনই ইকবাল হোসেন সবুজ মনোনয়ন পেয়ে গেছেন তখনই চাঁদাবাজী বন্ধ হয়ে গেছে। কি এক জাদু নিয়ে এলো আমাদের ইকাবল হোসেন সবুজ ভাই।

আপনার মন্তব্য লিখুন
শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 543
    Shares
x

Check Also

ঠাকুরগাঁওয়ে ইউ’পি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

ক্রাইম প্রতিদিন : ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় আদিবাসিদের ...