সংবাদ শিরোনাম
Home / জাতীয় / বিশেষ প্রতিবেদন / রথীশের লাশ মেঝেতে পুঁতে কোচিং সেন্টার চালুর পরিকল্পনা!

রথীশের লাশ মেঝেতে পুঁতে কোচিং সেন্টার চালুর পরিকল্পনা!

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : পুলিশের কাছে রিমান্ডে রংপুরের আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে তার স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলাম জাফরি।

এটি ছিল ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যাকাণ্ডের পর রথীশের লাশ গুম করার জন্য স্টিলের আলমারি বানানো হয়। শুধু তাই নয়; লাশ ঘরের মেঝেতে পুঁতে পাকা করে কোচিং সেন্টার চালুর পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছিল।

রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত, হত্যার পরে ও আগে পরিকল্পনা সব অকপটে স্বীকার করেছে কামরুল। হত্যাকাণ্ডের পর লাশ মাটিতে পুঁতে রাখার কাজে গ্রেফতারকৃত তার ২ ছাত্রকে সে ব্যবহার করেছিল তা-ও পুলিশকে নিশ্চিত করেছেন কামরুল।

এদিকে শনিবার পুলিশের বিশেষ প্রহরায় গ্রেফতারকৃত ২ ছাত্রকে যশোর শিশু ও কিশোর সংশোধনাগার (কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র) পাঠানো হয়েছে।

রংপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কামরুল হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানিয়েছেন। তবে কামরুল কিছু ঘটনা লুকানোর চেষ্টা করছেন। এই হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত কিনা সে সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিচ্ছেন না তিনি। ফলে তাকে আরও রিমান্ডে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, যে ঘরের মেঝের মধ্যে পুঁতে রাখা রথীশের লাশ র‌্যাব উদ্ধার করেছে ঘটনার পরের দিন সে ঘরের মেঝে পাকা ও দেয়াল পলেস্টার করে একটি কোচিং সেন্টার চালু করার পরিকল্পনা ছিল রথীশের স্ত্রী স্নিগ্ধা ও তার পরকীয়া প্রেমিক কামরুলের। সেই কোচিং সেন্টারের কথাও কামরুল তার সহকর্মী ও ছাত্রদের জানিয়েছিলেন।

এ জন্য তিনি মাহিগঞ্জের একজন রাজমিস্ত্রির সঙ্গে কাজ করার জন্য চূড়ান্ত করেন। কিন্তু ওই মিস্ত্রি অসুস্থ হওয়ায় কাজটি পিছিয়ে যায়। কিন্তু তার আগেই রথীশের স্ত্রী র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য প্রকাশ হলে ওই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

কামরুল পুলিশের কাছে এ সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে বলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোতোয়ালি পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

হত্যাকাণ্ডের রাতের পরদিন শুক্রবার সকালে কামরুল ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে আবার সকাল সাড়ে ৯টায় নিহত রথীশের লাশ স্টিলের আলমারিতে করে রিকশাভ্যানযোগে লোকজনের সহায়তায় নিয়ে যান কামরুল। ওই সময় কামরুল লাল রঙের (ভিক্টর-আর, রংপুর-হ-১৩-৫৮১২) মোটরসাইকেলটি নিয়ে যাওয়া-আসা করছিলেন। নিহত রথীশের পরিবারে ভাই বোনসহ প্রায় ১২ জন সদস্য ওই বাড়িতে থাকেন। এসব ঘটনা কেন পুলিশকে পরিবার থেকে জানানো হয়নি? পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গোয়েন্দার সংস্থার কাছে এসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তাই পুলিশের পক্ষ থেকে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত স্টিলের আলমারিটি শনিবার পুলিশ তাজহাট মোল্লাপাড়া থেকে উদ্ধার করেছে। রথীশের লাশ মাটিতে পুঁতে রাখার পর কামরুল তার বোন সিদ্দিকা বেগমের বাসায় আলমারিটি রেখে আসেন। সেখান থেকে উদ্ধারের পর খুনের আলামত হিসেবে আলমারিটি উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে।

ওই আলমারিটি শুধু লাশ বহনের জন্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয়। যাতে খুব সহজে লাশটি সেখানে ঢোকানো যায়। সে কারণে আলমারিটি হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে রথীশের শোয়ার ঘরে রাখা হয়েছিল। হত্যার পর লাশটি ওই আলমারিতে ঢুকিয়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে তাজহাট মোল্লাপাড়ার পরিত্যক্ত নির্মাণাধীন তার ভাইয়ের বাড়ির ঘরের মেঝেতে পঁতে রাখা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আল মামুন জানান, আসামি কামরুল ইসলামকে ১০ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য জানানো যাচ্ছে না। তবে পুলিশ এ মামলাটি নিয়ে সতর্কভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে অনেক আলামত হিসেবে স্টিলের আলমারিটি পুলিশ উদ্ধার করেছে।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর লাশ ঘরের মেঝেতে মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখার কাজে ব্যবহৃত দুই ছাত্র সবুজ ইসলাম (১৭) ও রোকনুজ্জামানকে (১৭) শনিবার আদালতের নির্দেশে যশোর শিশু ও কিশোর সংশোধনাগার (কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র) পাঠানো হয়েছে।

রংপুর পুলিশের এএসপি (সার্কেল-১) সাইফুর রহমান সাইফ বলেন, পুলিশ হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি কামরুল ইসলাম জাফরিকে সতর্কভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও হত্যার পর লাশ গুমের ঘটনার বিষয়ে নানা তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 2
    Shares