Home / এক্সক্লুসিভ / রাজধানীর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত যারা

রাজধানীর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত যারা

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : ফেনসিডিল ও ইয়াবারাজধানীর সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজকেন্দ্রিক মাদক সিন্ডিকেটের একটি তালিকা করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এই তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠনের নেতাসহ স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তালিকাটি সংশ্লিষ্ট দফতর ও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর অভিযুক্ত কয়েকজন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাঁপ করছে। তবে তাদের ব্যাপারে কঠোর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এই তালিকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আমাদের কাছেও ওই তালিকার একটি কপি রয়েছে। তালিকা ধরে গত জানুয়ারি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। এসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে মাদক সরবরাহ করে থাকে বলে সম্পৃক্ততা পেয়েছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও এবিষয়ে জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যলয় প্রশাসন এই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি করা ওই তালিকা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক সরবরাহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা হলেন— ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল পাঠান সেতু, সংগঠনটির সাবেক সদস্য ওয়াসিম ভূঁইয়া আলম,বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক দারুস সালাম শাকিল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ সবুর, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বঙ্গবন্ধু হল শাখার সহসম্পাদক (ইভিনিং এমবিএ) কামরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক (মহসিন হল) মোজাহিদুল ইসলাম সোহাগ, উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক (মহসিন হল) মাহাবুবুল ইসলাম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আপ্যায়ন সম্পাদক (সূর্য সেন হল) রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, শহীদুল্লাহ হলের ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মেহেদী হাসান, শহীদুল্লাহ হলের সাবেক সহসভাপতি লিজামুল হক, ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এহতেশামুল আলম রুমি।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল পাঠান সেতু এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য একজন কর্মকর্তা এই তালিকা করেছেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছি। এই তালিকা উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হয়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমাদের যে তালিকা দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছি। যারা মাদক ব্যবসায়ী তাদের বিরুদ্ধে কোনও ছাড় নাই।’
প্রক্টর বলেন, ‘এরা হলে হলেই থাকে। এদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।’

যেসব বহিরাগত ঢাবি ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসায় জড়িত

মশিউল ইলম সোহাগ। সে থাকে কলাবাগান থানার ২৯৮ নম্বর গ্রিনরোডে। মো. জসিম নামে আরেক মাদক ব্যবসায়ী থাকে কলাবাগান থানার ৩১৮ নম্বর ভূতের গলিতে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী ও এক কর্মচারী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য পেয়েছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। তারা হলো— ব্যবস্থাপনা বিভাগের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. পারভেজ, ফিন্যান্স বিভাগের অষ্টম ব্যাচের মো. সৌরভ, অর্থনীতি বিভাগের নবম ব্যাচের মো. তুষন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের মো. জুয়েল এবং সমাজ বিজ্ঞানের দশম ব্যাচের মো.সম্রাট আলম। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটোরিয়ার কর্মচারী আনোয়ার হোসেন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূর মোহাম্মদ বলেন,‘আমাদের কিছু তথ্য দিয়েছিল মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। আমরা সেগুলো খুঁজে পাইনি। যদি বিস্তারিত পেতাম, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেত।’

তিনি বলেন, ‘কর্মচারী আনোয়ারের বিষয়ে আসা অভিযোগের সত্যতা আমরা পাইনি। তাকে কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আমরা পুলিশকে বলেছি, যাকেই পাওয়া যাবে, তাকেই গ্রেফতার করতে। তাদের বিষয়ে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।’

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাজমুল হকের নাম রয়েছে এই তালিকায়।

ঢাকা কলেজের যেসব শিক্ষার্থী মাদক ব্যবসায় জড়িত

ঢাকার কলেজের ছাত্র মামুন ও পলাম কলেজ এলাকায় মাদক সরবরাহ করে। দুজনের মধ্যে মামুন দক্ষিণখানের ফরিদ মার্কেট এলাকায় থাকে। তার বাবার নাম সবুজ আলী প্রধান। আর পলাশ থাকে ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকায়। তবে গোয়েন্দা তালিকায় তার বিস্তারিত ঠিকানা উল্লেখ নেই।

ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় ধানমন্ডি ক্যাম্পাস

ধানমন্ডি থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুজাদ্দিন তুহিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসায় জড়িত। তালিকায় নাম থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে জেনেছি, এই তালিকাটি ভুয়া। এমন কোনও তালিকা হয়নি। আমি কোনও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না।’ বর্তমানে ছাত্রলীগের কোনও কমিটিতে নেই বলে তিনি জানান।

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)

তালিকায় ধানমন্ডি থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশফাক আহমেদেরও নাম রয়েছে। সে ইউআইইউ’তে মাদক ব্যবসা করে বলে তালিকায় তথ্য রয়েছে। আশফাক ধানমন্ডির ২৮ নম্বর সড়কের ‘সোবহানবাগ তেহরি ঘর’ এর পাশে অবস্থান করে। এখান থেকে মাদকসেবীরা মাদক নিয়ে যায়। মাদক ব্যবসায় জড়িত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরা হলো— রাশেদুর রহমান, সে ২৮ নম্বর কাঠাল বাগান লেনে থাকে। মো.পাভেল, ১০৮ নম্বর পান্থপথে মাদক ব্যবসা করে। মো. রিপন মিয়া, তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহেরে ঈশ্বরগঞ্জে। রিপন, উত্তরার পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের ৪ নম্বর সড়কে বেশিরভাগ সময় থাকে।

ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাণ্ড টেকনোলজি, হাজারীবাগ

এই ক্যাম্পাসে যারা মাদক ব্যবসা করে থাকে তারা হলো— মোসাম্মৎ জামিলা। তার স্বামীর নাম সুন্দরবাবু। হাজারীবাগের গণটুলি এলাকায় থাকে। হাজারীবাগ থানা যুবলীগের সদস্য রাইসুল ইসলাম রবিন, কালোন গরের মো. রাজীব, হাজারীবাগের মাজার বটতলার মো. সোহেল এবং গজমহল লেনের মো. আলাউদ্দিন।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

কলাবাগানের মো. রাশেদুর রহমান, ১০৮ নম্বর পান্থপথের মো. পারভেজ, গ্রিন রোডের মশিউর আলম সোহাগ, ভূতের গলির (কলাবাগান) মো.জসিম— এই বিশ্বদ্যিালয়ের ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসা করে থাকে।

উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক সরবরাহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা হলো— মো. রিপন মিয়া, মো. শিবলু ও মো. মামুন। এদের মধ্যে রিপন উত্তরা পূর্ব থানার ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের ৩৪ নম্বর বাসায় থাকে। শিবলু উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের ইশা খাঁ রোডে থাকে। এছাড়া, এই বিশ্ববিদ্যালয় মামুন নামে আরেকজন মাদক ব্যবাসায়ী মাদক সরবরাহ করে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তালিকাটি প্রকাশের পর অন্তর্ভুক্ত অনেকেই সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় গিয়ে তালিকার বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তালিকা থেকে কাউকে বাদ দেওয়া, বা তাদের বিষয়ে তদন্ত করা যাবে না— এমন কোনও নির্দেশনা দেয়নি। তালিকা অনুযায়ী এখনও তদন্ত চলছে । অনেকেই পালিয়েছে।’

এই তালিকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নাম থাকার বিষয়ে এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের হাতে এরকম কোনও মাদকসেবী বা ব্যবসায়ীদের তালিকা আসেনি। কোনও তালিকায় কারও নাম থাকলে এবং তা আমাদের কাছে আসলে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

তবে রাজধানীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর হল, ছাত্রাবাস ও এর আশেপাশে এখনও কোনও অভিযান চালায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যদিও সবগুলো নজরদারিতে আছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যাণ্ড অপারেশসন) মীর রেজাউল আলম।

এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদক ব্যবসায়ীদের কোনও তালিকা আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি তালিকার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। ডিএমপি’র এই কর্মকর্তা বলেন, ‘যেখানেই মাদক ও মাদক ব্যবসায়ী আছে, সেখানে আমাদের অভিযান চলবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 31
    Shares
x

Check Also

নরসিংদীতে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ক্রাইম প্রতিদিন, কে.এইচ.নজরুল ...