Home / বাংলাদেশ / সারাদেশ / রাজশাহীতে এ বছর আম পাকতে বিলম্ব হচ্ছে!

রাজশাহীতে এ বছর আম পাকতে বিলম্ব হচ্ছে!

ক্রাইম প্রতিদিন, শিমুল জাহিদ, রাজশাহী : রাজশাহীতে এ বছর গাছে আম পাকতে বিলম্ব হচ্ছে। এখন আমের ভরামৌসুম চললেও বাজারে আমের সরবরাহ কম। তবে সরবরাহ কম হলেও দামও খুব বেশি নয়। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, রোজার কারণে আম বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। আম ওঠার সঙ্গে সঙ্গে যে দাম ছিল, এখন সেটাও নেই। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কমে গেছে আমের দাম।

রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের হাট জেলার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে। রোববার দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, এখনও জমে ওঠেনি হাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি কম। অথচ আগের বছর গুলোতে ঠিক এই সময় ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় জমজমাট হয়ে উঠতো হাট। গতকাল ফাকা দেখা গেছে হাটের বেশিরভাগ এলাকা। অল্প সংখ্যক বিক্রেতা ভ্যানের ওপর ঝুড়ি সাজিয়ে আম বিক্রি করছিলেন।

কেন জমেনি আমের বাজার? ব্যবসায়ী আবদুল জাব্বার বলেন, গাছে আম পাকছে দেরিতে। তাই বাজারে প্রচুর আম আসছে না। ইদানিং গাছে গোপালভোগ পাকতে শুরু করেছে। চাষিরা চাইছেন, যতোটা সম্ভব দেরি করে আম পাড়তে। কারণ, এখন বাজারে আমের প্রত্যাশিত দাম নেই। তবে গাছে আম পেকে গেলে রাখার কোনো সুযোগ নেই। তখন হাটে আনতেই হবে।

এ বছর আম পাকতে দেরি হওয়ার কারণ কী, জানতে চাইলে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন জানান, এ বছর গরম অপেক্ষাকৃত কম। রাজশাহীতে বছরের সবচেয়ে উষ্ণ মাস থাকে এপ্রিল মাস। অথচ এ বছর এপ্রিল মাসেও রাতে হালকা কাঁথা গায়ে দিয়ে থাকতে হয়েছে। মে মাসেও অন্যান্য বছরের মতো গরম পড়েনি।

তিনি বলেন, যে বছর যত তাড়াতাড়ি গরম পড়ে, সে বছর আম তত আগে পাকে। আম পাকার সঙ্গে আবহাওয়ার সম্পর্ক অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। এ ছাড়া এ বছর আমের মুকুলও এসেছিল স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরিতে। আম দেরিতে পাকার এটিও একটি কারণ, জানান ড. আলীম উদ্দিন।

বানেশ্বরের আম বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন জানান, এখন শুধু গোপালভোগ, লক্ষণভোগ ও হিমসাগর জাতের আম বাজারে উঠেছে। দুটি জাতেরই আম প্রতিকেজি ৩৫ টাকা থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কয়েকদিন আগে আমের দাম বেশি ছিল। তখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরেও বিক্রি হয়েছে গোপালভোগ আম। হঠাৎ করে কয়েকদিন থেকে আমের দাম কমে গেছে। তাই চাষিদের কাছ থেকে আরও কম দামে আম কিনছেন ব্যবসায়ীরা।

আরেক আম ব্যবসায়ী হাসিবুল ইসলাম বলেন, গুটি আমের দাম অনেক কম। এর তুলনায় উন্নতজাত গোপালভোগ আর হিমসাগরের দামও বেশি নয়। কিন্তু কম হলেও বিক্রি বাড়ছে না। কারণ, রোজার কারণে আমের বিক্রি কম। তবে ঈদের পরপরই বিক্রি বাড়বে। ফলে দাম বাড়বে। কিন্তু তখন আবার গাছে গাছে বেশি পরিমাণে আম পাকতে শুরু করবে। এতে বাজারে আমের সরবরাহও বাড়বে। এ কারণে আবার দাম কমে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

বানেশ্বর হাটে দেখা যায়, এখন অল্প পরিসরে আম কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে পাঠাচ্ছেন মানুষ। কেনার পর হাটেই শ্রমিকরা আমের কার্টুন করে দিচ্ছেন। ভ্যানে করে পৌঁছে দিচ্ছেন কুরিয়ার সার্ভিসের স্থানীয় অফিস পর্যন্ত। তারপর সেই আম চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

বানেশ্বর হাটে ভ্যানে করে তিন ঝুড়ি আম নিয়ে যান ঝলমলিয়া এলাকার চাষি শাহাদত হোসেন। তার দিকে এগিয়ে যান এক ব্যবসায়ী। শুরু হয় দরদাম। ক্রেতা অনেকটা জোর করেই প্রতিমণ ১ হাজার ২০০ টাকা দরে টাকা গুজে দিতে চাইছেন শাহাদতের পকেটে। কিন্তু শাহাদত কিছুতেই ১ হাজার ৪০০ টাকার নিচে বিক্রি করবেন না।

শেষ পর্যন্ত আরও ৫০ টাকা বেশি নিয়ে আম বিক্রি করতে দেখা যায় ওই চাষিকে। এই আমই এবার ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করতে শুরু করেন মহররম আলী নামের ওই ব্যবসায়ী। তবে এই দামও আগের চেয়ে কম বলে জানালেন তিনি। আর আম চাষি শাহাদত বললেন, যে দরে আম বিক্রি করলেন, তাতে খুব একটা লাভ হলো না।

অবশ্য বানেশ্বর হাটের তুলনায় রাজশাহী নগরীতে একটু বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে আম। নগরীর সাহেবজারের আম ব্যবসায়ী মারুফ হোসেন বলেন, এখন বাজারে গোপালভোগ ও হিমসাগর আম এসেছে। প্রতি মণ আম তিনি দুই হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। আম নামানোর সময় বেঁধে দেওয়া থাকায় চাষিরা অন্য জাতের আম নিয়ে আসতে পারছেন না। আবার দাম কিছুটা কম থাকায় চাষিরাও চাইছেন ঈদের পর আম নামাতে।

প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময় মতে, গত ২০ মে থেকে গোপালভোগ জাতের আম পাড়তে পারছেন চাষিরা। হিমসাগর ও লক্ষণভোগ নামানো যাচ্ছে ১ জুন থেকে। ল্যাংড়া নামবে ৬ জুনের পর। এছাড়া আমরুপালি ও ফজলি ১৬ জুন এবং আশ্বিনা জাতের আম ১ জুলাইয়ের আগে চাষিরা গাছ থেকে পাড়তে পারবেন না।

জেলায় এ বছর ১৭ হাজার ৪৬৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। গাছের সংখ্যা ২৪ লাখ ২৬ হাজার ১৮৯টি। সেসব গাছ থেকে এবার ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন আমের ফলন হবে বলে আশা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 53
    Shares
x

Check Also

দুই মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করব : সিইসি

ক্রাইম প্রতিদিন ...