Home / সারাদেশ / রাণীনগরে নাটকীয়তার কবলে গরীবের ৪০ বস্তা চাল!

রাণীনগরে নাটকীয়তার কবলে গরীবের ৪০ বস্তা চাল!

ক্রাইম প্রতিদিন, কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রাণীনগরে খাদ্য সহায়তা প্রকল্প (ভিজিএফ) এর আওতায় দুঃস্থ দের জন্য বরাদ্দকৃত ৪০ বস্তা চাল পরেছে নানা নাটোকীয়তার কবলে । চাল গুলো কি কারনে মজুদ রাখা হলো ? আর আদৌ বিতরন করা হবে ? নাকি আবারো ফিরে যাবে খাদ্য গুডাউনে? এমন নানা রকম প্রশ্ন ঘুড়পাক খাচ্ছে রাণীনগর উপজেলার ৭নং একডালা ইউনিয়ন পরিষদের ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে গরীব অসহায় দুঃস্থ মানুষের মাঝে বিতরনের জন্য বরাদ্দকৃত ৪০ বস্তা চালগুলো নিয়ে । এছাড়া চেয়ারম্যান ও চাল বিতরন তদারকি র্কমর্কতার যোগসাজসে এই চালগুলো কালো বাজারে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলেও স্থানীয়রা ধারনা করছেন।

জানা গেছে, উপজেলার একডালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দুঃস্থ খাদ্য সহায়তা প্রকল্প (ভিজিএফ)’র প্রায় ৪ শ’ ৫০ বস্তা (৩০ কেজি হিসেবে) চাল গত ১১ জুন সোমবার রাণীনগর সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে সুবিধা ভোগীদের মাঝে বিতরণের জন্য উত্তোলন করেন । এরপর ১২ জুন মঙ্গলবার যথারীতি সুবিধা ভোগিদের মাঝে বিতরণ শুরু করা হয়। বিতরণের এক পর্যায়ে চাল বিতরন তদারকি কর্মকর্তা রাণীনগরে ফিরে যান। এর পর ওই দিন যথা নিয়নে চাল বিতরন হয়েছে মূলে কার্যক্রম শেষ করেন। এর পর গতকাল বুধবার সকাল থেকেই খবর রটে যায় যে কালো বাজারে বিক্রির জন্য ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিবির চাল জমা রেখেছে। এর পর বেলা বারার সাথে সাথে লোকজন সপরিষদে জরো হতে থাকে। এক পর্যায়ে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,এবং চাল বিতরন তদারকি কর্মকর্তা দুপুর নাগাদ পরিষদে যান। তার পর থেকেই চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম নির্বাহী কর্মকর্তাকে বুঝাতে চেষ্টা করেন “সুবিধাভোগীরা না আসায় চালগুলো বিতরন করা সম্ভব হয়নি”তাই চালগুলো মজুদ রয়েছে। এর পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রায় তিন ঘন্টা পরিষদে বসে থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে চাল বিতরনে জন্য নির্দেশ দিয়ে চলে যান। এছাড়া চালগুলো যথা সময়ে বিতরন না হওয়ায় কোন নীতিমালার আলোকে বিতরন করা হবে তা চেয়ারম্যানের নিকট জানতে চেয়ে চলে আসেন। তবে চালগুলো এভাবে চেয়ারম্যান পরিষদে রাখতে পারেন কিনা,আবার যথা সময়ে চালগুলো বিতরন না করায় সুবিধাভোগীরা চাল পাবেন ? নাকি নীতিমালার ব্যারাজালে আবারো খাদ্য গুদামে ফিরে যাবে চালগুলো তা নিয়ে নানা রকম জল্পনা-কল্পনা চলছে।

এব্যাপারে একডালা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আজিজার রহমান জানান, এবারের ভিজিএফ চাল বিতরণে পুকুর চুরির মত অনিয়ম হয়েছে। আমাদেরকে ৫০ বস্তা করে চাল বিতরণের জন্য দিয়েছে। সেটা যথাযথ ভাবে বিতরণ করা হয়েছে। পরে জানতে পারি পরিষদে আরো ৪০ বস্তা চাল আছে । এই চাল কোথায় থেকে আসলো? কারই বা প্রাপ্য ছিল? বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে চাল বিতরন তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অমল কুমার রায় জানান, আমি কিছু চাল বিতরণ করে, বাকি চাল বিতরণের জন্য চেয়ারম্যানকে কাগজপত্র বুঝিয়ে দিয়ে একটি প্রশিক্ষনের জন্য রাণীনগরে ফিরে আসি।পরের দিন জানতে পারি কিছু চাল এখনো পরিষদে রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪০ বস্তা চাল দেখতে পেয়েছি। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

একডালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম জানান, এখানে চাল বিতরণে কোন অনিয়ম হয়নি। তবে মঙ্গলবার চাল বিতরণ করার পর প্রায় ১২০জন সুবিধাভোগী না আসায় তাদের বরাদ্দকৃত ৪০ বস্তা চাল ছিল, এসব চাল কোন নীতিমালায় বিতরন করা হবে এই অপেক্ষায় আছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, চাল বিতরণে কিছু অনিয়ম হয়েছে। কেন না মঙ্গলবার চাল বিতরণ করার পর যদি কিছু চাল রয়ে যায়, সেটা অবশ্যই ট্যাক অফিসার ও চেয়ারম্যান নীতিমালার আলোকে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত ছিল কিন্তু সেটা চেয়ারম্যান করেননি। তাই আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বুধবার বিকেল ৫ টার মধ্যে চাল বিতরণের কথা বলেছি। অন্যথায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 3
    Shares