Home / ক্রাইম প্রতিদিন / *শার্শায় ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায়

*শার্শায় ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায়

আল মামুন যশোর প্রতিনিধি: ক্রাইমপ্রতিদিন:* শার্শায় ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় করলেন এসআই কবির-রফিক-কামালসহ কয়েক পুলিশ সদস্য * শার্শা থানার কতিপয় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্রস ফায়ারের হুমকি দিয়ে অসহায় এক যুবকের কাছ থেকে ২লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। রবিবার (১০ জুন) বেলা ১২টার সময় সাগর (ছদ্মনাম) নামে এক চকলেট ব্যবসায়ীকে আটকের পর নির্দয়ভাবে পিস্তল ঠেকিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে বিকাল ৫ টার সময় মুক্তিপণ আদায় করেন উক্ত থানার এসআই কবির, রফিক, কামালসহ ৫/৬ জন পুলিশ সদস্য। এনিয়ে শার্শা থানার পুলিশ পাড়াসহ বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় জল্পনা কল্পনা চলছে। নির্ভরযোগ্য সুত্রসহ পুলিশ সুত্রে জানা যায়, বেনাপোল পোর্ট থানার বড় আঁচড়া গ্রামের সাগর নামের এক যুবক শার্শা থানার সিলিপ বিক্রেতা আলীর কাছ থেকে সিলিপ ক্রয় করে ভারতীয় কিটকাট চকলেটসহ বিভিন্ন প্রকার চকলেটের চালান নিয়ে নাভারন এলাকায় বিক্রি করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। সে মোতাবেক রবিবার বেলা সাড়ে এগারোটার সময় দুই পাসপোর্ট যাত্রীসহ কথিত যুবকটি শার্শা থানার মোড় এলাকায় গেলে এসআই কবির, রফিক ও কামাল একটি চকলেট ভর্তি কার্টুন নিয়ে ৫’শ টাকা দাম দেয় তাকে। খুবই গরীব মানুষ এবং চকলেটের কার্টুনটি তার ৩ হাজার টাকায় কেনা পড়েছে বলে অনুনয় বিনয় করে সে। পরে ক্ষমতার বহরে নির্দয় এই দারোগাগণ পাসপোর্ট যাত্রীদ্বয়কে চকলেটসহ ছেড়ে দিয়ে ওসি স্যার ডাকছে বলে মটর সাইকেলযোগে থানার ভিতর নিয়ে যায় কথিত যুবককে। পরে কসাইয়ের মতো চারদিক থেকে পিস্তল ধরে ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়। বলে ১০ মিনিটের মধ্যে ২ লক্ষ টাকা না দিলে আজকেই ক্রস ফায়ার দিয়ে মেরে ফেলা হবে না হয় এমন মামলা দেবো জীবনে বাড়ি আসতে পারবি না। এমতাবস্থায় তার বাড়িতে ফোন করতে বলে। অসহায় মা ছেলের কান্না জড়িত ফোন পেয়ে হাতের চুড়ি, কানের, গলার চেইনসহ হাঁস, মুরগি বিক্রি করে ও ধার দেনা করে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে হাজির হয় শার্শা থানায়। পরে পুলিশের তান্ডবে শরীরের পেশার উঠে গিয়ে নিজেই মৃত্যুমুখী হয়ে যায় মৃত্যুর মুখযাত্রী সন্তানকে বাঁচাতে ছুটে যাওয়া অসহায় মা। শরীরে রক্ত থাকা কয়েক পুলিশ সদস্য উক্ত নারীর শারীরিক বর্ণণা দেওয়ায় এসআইস কবির ও রফিক রেগে গিয়ে বলে ওই বুড়ি মরে মরুক! লাত্থি মেরে টাকা আদায় কর। যার লোম হর্ষক বিদারক কাহিনী শুনলে প্রত্যেক মানুষের লোম শিহরে উঠবে। কথা হয় ভিকটিমের মা আলেয়ার সাথে (ছদ্মনাম)। বলেন, তোমরা সাংবাদিক করেন। দয়া করে লেখবেন না। তালি ওরা আমার ছেলিরে মেরে ফেলবি না হয় অনেক বড় মামলা দেবি। কয়েছে কেউ যানতি পালি আর এ নিয়ে কিছু হলি তোর ছেলিরে আবার ধরে এনে ক্রস দিয়ে মেরি ফেলব, না হয় এমন মামল দেব জীবনে মা বলি ডাকবি না। আমার একমাত্র ছেলে। বাবাডা অস্বুস্থ্য। ছেলেডার যদি কিছু হয়ে যায়, তালি আমরা বাঁচপ না। এ বিষয়ে ভিকটিমের সাথে কথা হলে যুবকটি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, দয়া করে লিখবেন না। তারি ওরা আমারে মেরে ফেলবে না হয় বড় ধরণের কোন মামলা দিয়ে আমারে ফাঁসিয়ে দেবে। আমি বাড়ির একমাত্র উপার্যন করি। আমার কিছু হয়ে গেলে আমার পঙ্গু বাবা আর অসহায় মা বাঁচবে না। বিষয়টি জানতে কথা হয় শার্শা থানার এসআই কবিরের সাথে। বলেন, ছেলেটি আমাদের থানার সিলিপ বিক্রেতা আলীর কাছ থেকে সিলিপ কিনে সামান্য কিছু চকলেটের ব্যবসা করে। কাকতালীয়ভাবে রফিক দারোগা এক কার্টুন চকলেট নিয়ে তাকে ৫’শ টাকা দিলে বলে ৩ হাজার টাকায় কেনা। তাই শালারে আটক করে কিছু সেলামী আদায় করলাম। কিছু টাকার পরিমাণ জানতে বলে মাত্র ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি সংবাদটি পরিবেশন না করার জন্য সাফ জানিয়ে দেন এ প্রতিবেদককে। এ বিষয়ে কথা হয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে শার্শা থানার কয়েক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে। বলেন, ঘটনাটি সত্য। কিন্তু কবির, রফিক, কামাল দারোগাসহ এ থানার কয়েক দারোগা আছে এরা প্রতিনিয়ত এহেন কাজ করে যাচ্ছে। যাদের লাগাম টেনে ধরার মতো ক্ষমতা এখানে কারো নেই। বলে লাভ নেই। এরা উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের আর্শিবাদপুষ্ট হয়ে যা খুশি তাই করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 4
    Shares