সংবাদ শিরোনাম
Home / সারাদেশ / শেরপুরে দুর্ঘটনায় হাত হারানো সুমির পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই

শেরপুরে দুর্ঘটনায় হাত হারানো সুমির পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই

ক্রাইমপ্রতিদিন, শেরপুর (বগুড়া) : বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় হাত বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশু সুমী খাতুনের পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই।  তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত রবিবার বেলা দেড়টার দিকে বাবা দুলাল খাঁ’র হাত ধরে তার খালার বাড়ী পার্শ্ববতী কৃষ্ণপুর যমুনাপাড়া গ্রামে দাওয়াত খেতে যাওয়ার সময় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উপজেলার ধরমোকাম (হোটেল খামখেয়ালী) এলাকায় পৌছিলে ঢাকাগামী পাথর বোঝাই ট্রাক (যার নং ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-১২০৫)এর ধাক্কা খেয়ে  সুমী খাতুন(৮) এর শরীর থেকে বাম হাতের অর্ধেকাংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।  এ সময় তার ডান হাতের তিনটি আংগুল ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতবিক্ষত হয় মুখমন্ডল।

উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামে সুমির বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় হাত হারানো সুমির পরিবারের সকলের মুখ মলিন হয়ে আছে। বাড়িতে থাকা দুই বোন বাবা-মা একত্রে ভাঙ্গা ঘরের টিনের চালের নিচে বসবাস করছে। ভ্যান চালক বাবার ভ্যানটিও ভেঙ্গে পরে আছে আঙ্গিনায়।  তাই রুজি রোজগারের একমাত্র অবলম্বনটি বন্ধ। এমনিভাবে কোন রকমে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে শিশু সুমি’র পরিবারের।

পবিত্র মাহে রমজান  প্রায় শেষের দিকে। সামনে মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর আগত। তাই গ্রামের অন্যান্য পরিবারের মত ঈদের আনন্দকে পরিপূর্ণ করতে নতুন জামা কাপড় কেনা কাটার পাশাপাশি সুমির হাত না থাকলেও বাবার কাছে আবদার নতুন জামা কাপড় কেনার। কিন্তু মেয়ের আবদার বোবা মুখে শুনে যাওয়া ছাড়া করার কিছুই নেই  হতভাগা বাবা দুলাল খাঁর।

তার পরিবারের সাথে কথা বললে কান্না জড়িত কণ্ঠে  সুমির বাবা দুলাল খাঁ জানান, আমার সুমি দুর্ঘটনার পর থেকে আমরা ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করতে পারছি না। আমার মাত্র ৩ শতক বাড়ির জায়গা ছাড়া আর কোন সম্পদ নেই। এর মধ্যে আবার ঢাকায় হাসপাতালে যাওয়া আসা করতে গাড়ী ভাড়ার টাকা জোগান দেওয়া কঠিন ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। আমার সম্পদ (একটি গরু) বিক্রি করে সুমির চিকিৎসা  করেছি।

স্থানীয় এমপি হাবিবর রহমানের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছিলাম সে টাকাও প্রায় শেষ। এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। এর মধ্যে আবার সামনে ঈদ ওদের নতুন জামা কাপড়ের বায়নায় আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি। তিনি আরো বলেন, ঈদে মেয়েদের কিছুই কিনে দিতে পারি নাই। লাচ্ছা চিনিও কিনতে পারিনি। গত কয়েকদিন আগে ভিজিএফ এর ১০ কেজি চাল পেয়েছিলাম তাই এখন খাচ্ছি।

সুমির মা বলেন, পাশের বাড়ির বাচ্চাদের নতুন পোশাক দেখে সুমিরাও কান্নাকাটি করছে কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।  এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, সুমির পরিবারের খোজ খবর রাখছি। তাদের ঈদ আনন্দ বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন
শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 11
    Shares