Home / জাতীয় / বিশেষ প্রতিবেদন / সিআইপি কার্ড পেলেন ৩৫ অনাবাসী বাংলাদেশি

সিআইপি কার্ড পেলেন ৩৫ অনাবাসী বাংলাদেশি

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৫ অনাবাসী বাংলাদেশিকে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) নির্বাচন করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে ২৯ জন বৈধ চ্যানেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী শাখায় এবং ছয়জন বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য আমদানির জন্য এই সম্মাননা পেয়েছেন। ২০১৬ সালের জন্য এঁরা সিআইপি নির্বাচিত হন।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সিআইপিদের কাছে সম্মাননা কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

এঁদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১৩ জন, ওমান থেকে ছয়জন, যুক্তরাজ্য ও কাতার থেকে তিনজন করে এবং অস্ট্রেলিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর ও হংকং থেকে একজন করে সর্বাধিক বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী অনাবাসী বাংলাদেশি সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন।

বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য আমদানিকারক অনাবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুজন এবং ওমান, রাশিয়া, কুয়েত ও কাতার থেকে একজন করে নির্বাচিত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিদেশে কর্মী পাঠানো নির্বিঘ্ন করতে অসাধু প্রবাসীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘প্রবাসে যেসব বাংলাদেশি থাকেন, তাঁরাই বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। কিন্তু আমি দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই, কিছু প্রবাসী আছেন, যাঁরা অনৈতিক কাজ করেন। তাঁদের কারণেই আমাদের প্রবাসীরা সমস্যা পড়েন। তাঁদের চিহ্নিত করতে পারলেই সব পরিষ্কার হবে।’

সিআইপিদের উদ্দেশে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আপনারা বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন। আর খেয়াল রাখবেন, কেউ যেন দেশের বদনাম করতে না পারে। দেশের অপপ্রচার যেন কেউ না করতে পারে। যাঁরা সিআইপি নির্বাচিত হলেন, তাঁদের অনেক দায়িত্ব বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ নিয়ে যেন বিদেশে কোনো অপপ্রচার না হয় এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

শাহরিয়ার আলম আরও বলেন, ‘একটা সময় বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গেলে আমাদের লোকজন হীনম্মন্যতায় ভুগতেন। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে এখন আর কেউ হীনম্মন্যতায় ভোগেন না।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীরা আপনারা যেন বিনা মাশুলে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি অর্থমন্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন। পুরোটা না হলেও যেন আংশিক ছাড় পাওয়া যায়, সে ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন তিনি।

সিআইপি কার্ড পেলেন যাঁরা

‘বাংলাদেশে বৈধ চ্যানেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী অনাবাসী বাংলাদেশি’ ক্যাটাগরিতে সিআইপি কার্ড পেয়েছেন দুবাইপ্রবাসী কুমিল্লার মোসাম্মাৎ জেসমিন আক্তার, সিলেটের মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান, কক্সবাজারের মোহাম্মদ ইসমাইল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মৌলভীবাজারের মোহাম্মদ হাশিম, কুমিল্লার আবুল কালাম, ঢাকার আবদুল গণি চৌধুরী।

আবুধাবিপ্রবাসী চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের নুরুল আলম ও ঢাকার গুলশানের এ এইচ এম তাজুল ইসলাম, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রামের রাউজানের মোরশেদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ফরিদ আহমেদ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহপ্রবাসী হবিগঞ্জের রাখাল কুমার গোপ সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী শ্রেণিতে সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন ওমানপ্রবাসী চট্টগ্রামের আনোয়ারার মোহাম্মদ মোসাদ্দেক চৌধুরী, চট্টগ্রামের রাউজানের মোহাম্মদ আশরাফুর রহমান, মোহাম্মদ শামসুল আজিম ও মোহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরী। এ ছাড়া ওমানপ্রবাসী চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার হাফেজ মোহাম্মদ ইদ্রিস, লক্ষ্মীপুর সদরের আবদুল জলিল।

যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মৌলভীবাজারের মোহাম্মদ আবদুল রহিম, ঢাকার গুলশানের মোহাম্মদ আদনান ইমাম, ঢাকার বনানীর মোহাম্মদ মহসীন আলম, সিঙ্গাপুরপ্রবাসী ঢাকার রামপুরার মো. সাজ্জাদ হোসেন, কাতারপ্রবাসী ঢাকার গুলশানের আহম্মদ আল জামান, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ আবু তালেব, পাবনার ঈশ্বরদীর আবদুল আজিজ খান, অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী ঢাকার ধানমন্ডির শহীদ হোসেন জাহাঙ্গীর, হংকংপ্রবাসী নোয়াখালীর সেনবাগের মো. আহমুদুর রহমান ও জাপানপ্রবাসী ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কাজী সারওয়ার হাবিব সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন।

‘বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিকারক অনাবাসী বাংলাদেশি’ শ্রেণিতে সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহপ্রবাসী মোহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের দুবাইপ্রবাসী নুরুল আলম, চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের ওমানপ্রবাসী এ এইচ বদর উদ্দিন, ঝিনাইদহের রাশিয়াপ্রবাসী মো. ফিরোজ উল আলম, চট্টগ্রামের হাটহাজারীর কুয়েতপ্রবাসী আবুল কাশেম ও চট্টগ্রামের চাটগাঁওয়ের কাতারপ্রবাসী মোহাম্মদ আবু তালেব।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আরও একটি শাখায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সিআইপি নির্বাচনের সুযোগ ছিল। কিন্তু শিল্পক্ষেত্রে সরাসরি বিনিয়োগ শাখায় কেউ আবেদন না করায় কাউকে সিআইপি সম্মাননা দেওয়া হয়নি।

তিনটি শাখার মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী হিসেবে ২০ জন, বৈধ চ্যানেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী শাখায় ৫০ জন এবং বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য আমদানিকারক শাখায় ২০ জনকে সিআইপি নির্বাচন করার সুযোগ রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 21
    Shares