Home / লিড নিউজ / সিলেট সিটি নির্বাচনে দ্বন্দ্বে বিএনপি-জামায়াত

সিলেট সিটি নির্বাচনে দ্বন্দ্বে বিএনপি-জামায়াত

ক্রাইম প্রতিদিন : মাঝপথে এসে কেন্দ্রের চাপে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম। বিদ্রোহী সেলিমের হঠাৎ ‘রণভঙ্গ’ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, নিজ দলের বাইরে ২০ দলে এখনো কর্তৃত্ব নিতে পারছে না বিএনপি।

অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন নাগরিক ফোরামের প্রার্থী ও মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। জামায়াত দাবি করেছে- সিদ্ধান্ত নিয়েই তারা নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে। কারো চাপে সরে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শুরু থেকেই এমন নাটকীয়তা চলছে। আর এই নাটকীয়তার খোঁড়াক একাই যোগাচ্ছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ সহ মহাজোটের পক্ষ থেকে সিলেট আওয়ামী লীগের একক মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। তার সাথে সিলেট আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। এরই মধ্যে ১০ দলীয় জোট তার পক্ষে ভোট প্রচারনায় নেমেছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান জানিয়েছেন- একক প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগ কিংবা নেতৃত্বাধীন জোটে কোনো বিভক্তি নেই। যা বিভক্তি, যা নাটক সব হচ্ছে বিএনপি সহ ২০ দলীয় জোটে। তাদের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব ও বিভক্তির কারনে সিলেটের ভোটাররা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে

নির্বাচনের শুরু থেকেই সিলেট বিএনপিতে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এমনকি মনোনয়ন দ্বন্দ্ব গড়ায় প্রার্থীতা পর্যন্ত। বিএনপির কেন্দ্র থেকে সিলেটের প্রার্থী করা হয় সদ্য সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে। তার সাথে দলে বিদ্রোহী ছিলেন মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম ও জোটে বিদ্রোহী মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) ঢাকা থেকে সিলেটে গিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, আমানউল্লাহ আমান সহ সিনিয়র নেতারা সেলিমকে বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নেন। এরই মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষণাও দিয়েছেন সেলিম।

নির্বাচন থেকে সেলিম সরে যাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনেই দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান জানিয়েছেন- সিলেট বিএনপিতে ধানের শীষ মার্কায় আর কোনো সংকট নেই। বিএনপির সবাই এখন সিলেটের আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। আর নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ায় বদরুজ্জামান সেলিমের বহিস্কারাদেশ দ্রুত তুলে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে- বদরুজ্জামান সেলিম নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পর সিলেটে জামায়াত তার গতি বাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে জামায়াতের সাবেক কয়েকজন সংসদ সদস্য নাগরিক ফোরামের মেয়র প্রার্থী এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের পক্ষে নগরীতে প্রচারনা চালিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী সিলেট সিটি নির্বাচনে ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে। প্রার্থীতা নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিএনপির সাথে দুরত্বের সৃষ্টি হওয়ায় বদরুজ্জামান সেলিমের মতো নির্বাচন থেকে হঠাৎ সরে যাওয়ার কোনো পথই খোলা নেই জামায়াতে। ফলে তাদের শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে হবে। আর তাদের লড়াইয়ের মুল টার্গেট হচ্ছে বিএনপি। তারা বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হককে টক্কর দিয়ে সিলেটে তাদের ভোট বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

নাগরিক ফোরাম সিলেটের সদস্য সচিব ও মহানগর জামায়াতের নায়েবের আমীর মো. ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন- জামায়াতে ইসলামী সিদ্ধান্ত নিয়ে নাগরিক ফোরামের ব্যানারে এবার নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের প্রার্থী সবার সেরা। বিএনপির সাথে জোট হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্রিক। স্থানীয় নির্বাচনে জোটের কার্যকারিতা তেমনটি নেই। এরপর জামায়াতে ইসলামী দেশের ১১টি সিটিতে বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপিকে ছাড় দিয়েছে। কিন্তু সিলেটে জামায়াত এখনো আশা করছে বিএনপি তাদের প্রার্থী এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে ২০ দলের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেবে।

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 11
    Shares