Home / সারাদেশ / সীমান্ত দিয়ে অভিনব পন্থায় আসছে মাদক

সীমান্ত দিয়ে অভিনব পন্থায় আসছে মাদক

ক্রাইম প্রতিদিন, কুমিল্লা : কুমিল্লাসহ সীমান্তের আশপাশের সকল জেলাগুলোতে মাদকাসক্তদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে দিনদিন। বাড়ছে মাদকের চোরাচালানও এবং অবৈধ মাদকের ব্যবসায়ী বিশেষ করে কোশোর এবং শিশুরা জড়িয়ে পরছে চোরাচালান ও মাদকের সাথে। সারাদেশের মত কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে অপ্রতিরোধ্য গতিতে দেশে ঢুকছে বিপুল পরিমাণ মাদক।

মাদক চোরাচালন অব্যাহত রাখতে প্রতিনিয়তই কৌশল পরিবর্তন করা হচ্ছে। ব্যবহার করা হচ্ছে অভিনব কৌশল। মাদক চোরাচালান দমনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ ও র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করলেও চোরালানীদের থামানো যাচ্ছে না।

মাদক চোরাচালান দমনে কুমিল্লা সীমান্তে ১০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন ডগ স্কোয়াড কাজে লাগাচ্ছে। প্রশিক্ষিত তিনটি কুকুরের এ স্কোয়াডও কাজ করছে। কুমিল্লায় মাদক চোরাচালানীরা মাদক চোরাচালান করতে গিয়ে প্রতিনিয়মতই পাল্টাচ্ছে তাদের কৌশল। মৌসুমী ফল তরমুজ, কাঁঠাল, লাউ, কুমড়ার ভেতর ঢুকিয়ে ভারত থেকে আনা হচ্ছে ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য।

মিষ্টি ও শাড়ির প্যাকেট, স্কুল ব্যাগ, গিফট বক্স, দুধের কলসী, পানির কলসি, পানির বদনায় করেও পাচার হয়ে আসছে বিভিন্ন ধরনের মাদক। সিএনজি, অটোরিক্সা, বেবী টেক্সি, ছোট যানবাহনের ইঞ্জিনের নিচে, মোটর সাইকেলের সিটের নিচে ও যানবাহনের টুল বাক্স, ট্রাকের পাটাতন, ট্রাক ও বাসের চালকের সিটের নিচের বাক্স করে ভারত থেকে পাচার হয়ে আসছে এ সব মাদক।

বিভিন্ন পথে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এ ছাড়াও লম্বা বাঁশকে মাঝখানে চিরে দুই ফালি করে এর ভেতর ফেনসিডিল, রিকোডেক্স সিরাপ, মদ, হুইস্কি, বিয়ার বোতল ঢুকিয়ে আনা হচ্ছে। লেপ, তোষক ও বালিশের ভেতর করে আসছে গাঁজা ও অন্যান্য মাদক। পুরুষের মাথায় পড়া টুপির ভেতরে আনা হচ্ছে ছোট আকারের নেশা জাতীয় দ্রব্য।

পুরুষ ও মহিলাদের কাপড়ের নিচে, শরীরে বাঁধা (চোরাচালানের ভাষায় বডি ফিটিং) অবস্থায় মহিলাদের বোরখা, পেটিকোটের ভেতর বিশেষ পকেটে করে আসছে মাদক। এ ছাড়াও বাজারের ব্যাগে করেও আসছে এ সব দ্রব্য। প্রতিদিনই পরিবর্তিত হচ্ছে মাদক পাচারের ধরণ।

সীমান্ত প্রহরী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র‌্যাব, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের হাতে কৌশলে বিভিন্ন পন্থায় পাচার হয়ে আসা এসব মাদকের চালান হরহামেশাই ধরা পড়ছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মাদক আটক হচ্ছে না। এ সব এর পেছনের কুশলীরা ধরা পড়ছে কমই। তবে মাদকসহ ধরা পড়াদের অধিকাংশই বহনকারী বা কেরিয়ার। যারা নেহায়েত পেটের দায়ে সামান্য টাকার বিনিময়ে বহন করছে এসব সর্বনাশা মাদক।

কিন্তু এ ব্যবসায় জড়িত হোতারা থাকছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। আইনের লম্বা হাতও তাদের ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে। কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল, হুইস্কি, বিয়ার, বিভিন্ন ধরনের মদ, রিকোডেক্স সিরাপ, ইয়াবা, সেনেগ্রাসহ নানা প্রকার মাদক ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট এবং বিভিন্ন ধরনের নেশা জাতীয় ইনজেকশন।

আটক করা মাদক প্রায়ই ধ্বংস করা হচ্ছে। চোরাকারবারীরা নতুন নতুন কৌশলও অবলম্বন করছে। প্রতিনিয়তই তারা কৌশল পাল্টাচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিজিবি ১০ ব্যাটেলিয়নের লেঃ কর্নেল খন্দকার গোলাম সরোয়ার বলেন, চোর কারবারীরা প্রতিনিয়তই অবলম্বন করছে নতুন নতুন কৌশল। এ সব কৌশল মোকাবেলায় আমরাও প্রতিনিয়তই মেধা খাটিয়ে প্রতিহত করছি। আমরা আমাদের জালে তাদেরকে আটক করছি।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আমরা সীমন্তবর্তী এলাকায় জনপ্রতিনিধি, সুধী সমাজ এবং সাধারণ জনগণকে নিয়ে চোরাচালান রোধে কাজ করছি। চোরাকারবারের গডফাদাররা দরিদ্র ও অসহায় লোকদেরকে মাদক ও চোরাচালানী দ্রব্য পাচারে ব্যবহার করছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদেরকে ভয়ভীতিও দেখানো হয়। এ সকল দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করতে পারলে তারা এমন ঘৃণিত কাজে ব্যবহার হবে না। তাদের জন্য আমরা কুমিল্লার বিবির বাজার সীমান্ত এলাকায় সীমান্ত ব্যাংকের শাখা খোলা হয়েছে।

এ ব্যাংক থেকে সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষক ও দরিদ্রকে ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হবে। যাতে তারা এ ঋণ ব্যবহার করে কৃষিক কাজ, হাঁস মুরগি পালন, গবাদি পশু পালন করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলন্বী হতে পারে। স্বাবলন্বী হতে পারলে তারা পয়সার বিনিময়ে চোরাচালানী মালামাল বহন করবে না।

Print Friendly, PDF & Email

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 14
    Shares
x

Check Also

টেকনাফে ইয়াবাসহ ৪বাস যাত্রী আটক

ক্রাইম প্রতিদিন, খাঁন মাহমুদ আআইউব, কক্সবাজার : সাড়ে ...