Home / সম্পাদকীয় / স্বাগত ১৪২৫ সন : উৎসবে মেতে উঠুক দেশ

স্বাগত ১৪২৫ সন : উৎসবে মেতে উঠুক দেশ

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : উষার আলোয় পাখির কলতান জানিয়ে দিয়েছে আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। স্বাগত ১৪২৫ সন। গানে, কবিতায়, চিত্রকলায়, আচারে, প্রথায় দেশব্যাপী বরণ করা হবে নতুন বছরকে। মঙ্গলের প্রত্যাশায়, সব মানুষের কল্যাণ কামনায় বেরোবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। শহর-নগর-গ্রামগঞ্জে বসবে বৈশাখী মেলা। প্রভাতের প্রথম কিরণে কোটি বাঙালির কণ্ঠ থেকে নিঃসৃত হবে সেই উজ্জীবনী আবাহন, ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’। কামনা করা হবে জীর্ণ-পুরনোকে দূরে সরিয়ে আনন্দের ডালি নিয়ে আসুক নতুন বছর।

নববর্ষ বরণের সংস্কৃতি চিরন্তন, সর্বব্যাপী। বাংলা নববর্ষেও তাই চলে আসছে হাজার বছর ধরে। মেলা-উৎসবের আয়োজন, হালখাতা তৈরি, মিষ্টান্ন বিতরণ, ভালো ভালো খাবার পরিবেশন—এসব বাংলার লোকায়ত ঐতিহ্যেরই অংশ। এই একটি দিনে বাংলার মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। নববর্ষের উৎসব হয়ে ওঠে সর্বজনীন। আজ কিছু ধর্মান্ধ মানুষ বাঙালির সুপ্রাচীন এই ঐতিহ্য অস্বীকার করতে চাইছে। সাম্প্রদায়িক বিভেদের দেয়াল তুলে দিতে চাইছে বর্ষবরণের উৎসবে। বাংলার মানুষ, বাঙালি জাতি কোনো দিনই তা মেনে নেবে না। তাই সব ভ্রুকুটি উপেক্ষা করেই বাংলার প্রতিটি প্রান্তে, প্রতিটি ঘরে উদ্যাপিত হচ্ছে নববর্ষের উৎসব। একইভাবে পৃথিবীর যেখানেই বাঙালির বসবাস রয়েছে, সেখানেই দৃশ্যমান হবে এমন আয়োজন। প্রকাশ ঘটবে নিজের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি এক অকৃত্রিম ভালোবাসার।

বাঙালির সংস্কৃতি ধ্বংসের যে অপচেষ্টা তদানীন্তন পাকিস্তানে শুরু হয়েছিল, তার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ১৯৬৭ সালে রমনার বটমূলে যে আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল ছায়ানট, তা আজও বাঙালির এক অমলিন ঐতিহ্য হয়ে টিকে আছে। রাজধানীতে দিন শুরু হবে রমনায় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। ধর্মীয় অপশক্তির বোমা হামলাও ছায়ানটের এই যাত্রাকে থামাতে পারেনি। অন্যদিকে বাঙালির যে ঐতিহ্য আজ বিশ্বঐতিহ্যের অংশ হয়ে গেছে, সেই মঙ্গল শোভাযাত্রাও রয়েছে আরো বেশি বর্ণাঢ্য আয়োজনে। রমনায় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যেমন লাখো মানুষের ঢল নামবে, একই চিত্র দেখা যাবে চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রায়ও। রাজধানীজুড়েই থাকবে উৎসবের আমেজ। থাকবে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, সিলেটসহ সারা দেশেই। বলা যায় না, হয়তো অন্ধকারের শক্তি আবারও আঘাত করতে পারে। তাই অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সর্বোচ্চ পেশাদারির পরিচয় দিতে হবে। আমরা আশা করি, বর্ষবরণ উৎসব উদ্‌যাপন নির্বিঘ্ন হবে। বাঙালির প্রাণের এই উৎসবে কালিমা লেপনের কোনো চেষ্টাই সার্থক হবে না।

আজকের এই বিশেষ দিনে সবার একটাই চাওয়া—‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’। নববর্ষে আমাদের অগণিত পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই নতুন বছরের আন্তরিক শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 1
    Share
x

Check Also

জনতার হাতে ৬ ভুয়া ডিবি পুলিশ আটক

ক্রাইম প্রতিদিন ...