Home / উপ-সম্পাদকীয় / হাতুড়ির নিচে জীবন ও প্রভু ভক্ত প্রাণী!

হাতুড়ির নিচে জীবন ও প্রভু ভক্ত প্রাণী!

ক্রাইম প্রতিদিন, মোঃ ইসমত দ্দোহা : কবি রফিক আজাদের কবিতা হতে নেওয়া শিরোনামের প্রথমাংশ, “হাতুড়ির নিচে জীবন,” দ্বিতীয়াংশে আমার নিজের দেওয়া কিছুটা বিব্রতকর তুবুও লেখা।

আমাদের গ্রাম্য ভাষায় একটা প্রবাদ আছে, “ভাশুরের নাম সবাই জানে লাজে সরমে মুখে নেয়না”।

অস্থির এক সময় পার করছি আমরা। বিশ্ব যেখানে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে আনন্দে মাতোয়ারা, থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া একদল কিশোর ফুটবল দলের উদ্ধার অভিযান ও উদ্ধারের সফলতায় স্বত্বির নিঃশ্বাস ফেলছে। সেখানে আমাদের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে চলছে হাতুড়ি দিয়ে কোমর ভাঙ্গার উৎসব, আর নির্যাতনের মুখে উদ্ধার কারীর ভূমিকায় একটি অসহায় কুরের আর্তনাদ, অবশেষে ভয়ে পলায়ন।

দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্সকে অভিনন্দন ও তরুন তুর্কি ক্রোশিয়া দলকে আগামীর জন্য শুভ কামনা। যেখানে নিজ দলের খেলোয়ারদের উৎসাহ উদ্দীপনা দেওয়ার জন্য দেশের প্রেসিডেন্ট খেলার মাঠে, সেখানে আমাদের বিদ্যাপিঠে একজন শিক্ষকের দু’পায়ের মাঝে মাথা গুজে আক্রমের লাথি হতে জীবন বাঁচানোর আকুতি এক ছাত্রের। অন্য দিকে বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ দায়িত্ব প্রাপ্ত ভিসি বলেন, কিছুই হয়নি আমি কিছুই জানিনা কেউ আমার কাছে কোন অভিযোগ করেনি, বড়ই নির্লজ্জ অস্বীকার।

“মিডিয়াকে ধমকালে কার কি আসে যায়” নাঈম, নিজাম, সম্পাদক বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৫ই জুলাই ২০১৮। “অনাবিল আনন্দের বিশ্বকাপ” বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বীর উত্তম, নিয়মিত কলাম লেখক বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৭ই জুলাই ২০১৮, “বিশ্বকাপ ফুটবলে বাংলাদেশ কেন নেই”? পীর হাবিবুর রহমান নির্বাহী সম্পাদক বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৮ই জুলাই ২০১৮।
“বহুল প্রচারিত বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত খ্যাতিমান তিনজন ব্যক্তির চলতি সপ্তাহের প্রকাশিত কলামের তিনটা শিরোনাম তুলে ধরলাম। যে সকল পাঠক নিয়মিত বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা পড়েন স্বাভাবিকভাবে এই লেখাগুলো তাদের চোখ এড়িয়ে যায়নি। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরও, কারণ সকাল বেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে পত্রিকার কাতারে “বাংলাদেশ প্রতিদিনই” থাকে সবার উপরে।

উল্লেখিত তিনজন ব্যক্তির তিন জনই সরাসরি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাথে যুক্ত ছিলেন, আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। লেখা-লেখি, সভা-সেমিনার, আড্ডা সব খানেই ওনাদের মুখে দলের প্রশংসা, নেত্রীর প্রশংসা ও জাতির জনকের অকুন্ঠ সমর্থন ও প্রশংসা করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে কর্ম-ব্যস্থতায় দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার না করলেও দূর থেকে নিয়মিতই দল ও সরকারের সমালোচনা করে থাকেন। তবে ওনাদের ধ্যান-ধারনা, যুক্তি বর্তমান ডিজিটাল নেতাকর্মীদের কাছে বড়ই বেমানান, বড়ই সেকেলে, যার সর্বশেষ উদাহরণ হাতুড়ি থেরাপী।

শুরুতেই বলেছিলাম ভাশুরের নাম জানলেও সবাই লাজে শরমে মুখে নেয়না, এই তিন জন মহান ব্যক্তিই তাদের লেখার শিরোনামের আড়ালে সেটা উল্লেখ করে গেছেন। ক্ষমতায় থাকলে সবাই নেতা, সবাই বুদ্ধিজীবি, বিশেষ করে কোটা সংস্কার আন্দোলনের ইস্যুতে গত কয়েক মাসে যে অরাজ‣নতিক ও প্রশাসনিক শক্তি অপব্যবহার হয়েছে তার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে ওনাদের লেখায়। কিন্তু ওনাদের লেখায় যে কিছু হবেনা সেটা ওনারাও জানেন। শুধু দেখে যাওয়া ছাড়া কিছুই করার নেই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ভিসির বাসভবনে হামলাকারী সবাইকে ভিডিও দেখে দেখে ধরা হচ্ছে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা। অথচ শিক্ষকের দু’পায়ে জড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের, হামলাকারী কিংবা “হাতুড়ি” পেটা করা হামলাকারীদের ভিডিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চোখে হয়তো এখনো পড়েনি, তাই তাদের ধরার বিষয় এখনো বলেননি।

কোটা সংস্কার, কোটা পরিবর্তন এ বিষয়টা সাংবিধানিক বিষয়, তার ওপরে যদি মহামান্য হাইকোর্টের কোন আদেশ থাকে তাহলে অবশ্যই বিষয়টিকে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা করে প্রশাসনিক ভাবে সমাধান করতে হবে। বিষয়টা সময় সাপেক্ষ্য, উভয় পক্ষকেই ক্সধর্য্য ধরে সমাধানের পথে এগুতে হবে। তবে এই ক্ষেত্রে সরকারকেই অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক হচ্ছেন শিক্ষকরা কিন্তু শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরাও কেন জানি দলকানা হয়ে গেলো, শিক্ষকতা ছেড়ে, যেটা সত্যি দুঃখ জনক।

আমাদের রাজ‣নতিক দলগুলো যে ভাবে মানুষের সূক্ষ্ম অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছে তারা হয়তো ভুলেই যাচ্ছে সেই জনগনের কাছেই আবার তাদের ফিরে যেতে হবে।

চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বহিস্কার হতে হয়েছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বুকে লাথি, হাতুড়ির আঘাত আর সরকারি ভাতের খোটা দেওয়া সত্যিই অবাক হওয়ার মতো।

১৯৯১ সালে স্বাধীনতা লাভ করা ক্রোশিয়া ১৯৯৮ তে সেমি ফাইনাল আর ২০১৮ তে ফাইনাল খেললেও আমাদের বাংলাদেশ কবে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলতে পারবে তা আমরা বলতে পারি না ?

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 2
    Shares
x

Check Also

‘ক্যাম্পাসগুলোতে আগ্রাসী শক্তিতে পরিণত হয়েছে ছাত্রলীগ’

ক্রাইম প্রতিদিন ...