Home / হেরোইন উদ্ধারের জেরে কুষ্টিয়ায় চলছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট

হেরোইন উদ্ধারের জেরে কুষ্টিয়ায় চলছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট

ক্রাইম প্রতিদিন : কুষ্টিয়ায় আইন শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক মাদক ব্যবসায় জড়িত মূল হোতা গডফাদারদের না ধরে কেবলমাত্র বহনকারী যাত্রীবাহী বাসসহ শ্রমিকদের আটক ও হয়রানির প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্ম বিরতিসহ পরিবহণ ধর্মঘট চলছে। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় থেকে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি ও পরিবহণ ধর্মঘটের ফলে কুষ্টিয়ার সাথে অন্যান্য জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে। সাধারণ যাত্রীরা ঘর থেকে বের হয়ে চরম দূর্ভোগের কবলে বিপর্যস্ত বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। আন্দোলনকারীরা বলছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সাথে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতী অব্যহত থাকবে। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ জানানো হয় এবিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তাদের সাথে বসে একটা সমাধানে পৌঁছুনো যাবে।

সকালে খুলনা থেকে কুষ্টিয়ার মজমপুর গেইটে এসে নেমেছেন সানজিদা খাতুন, যাবেন দৌলতপুর উপজেলায় স্বামীর কর্মস্থল বাসাতে। কিন্তু পরিবহণ বন্ধ থাকায় সঙ্গে থাকা ভারি ব্যাগেজসহ ছোট্ট বাচ্চাটা নিয়ে মহা বিপদে পড়েছেন। তিনি বলেন, যত ভোগান্তি শুধু পাবলিকের। কারো কোন দায় নেই। আগে জানলে বাড়ি থেকে থেকে বের হতাম না।

কলেজ শিক্ষক রবিউল ইসলাম কুষ্টিয়া শহরের একটি বাসা থেকে খোকসা ডিগ্রী কলেজে যাতায়াত করেন বাসে। কিন্তু বাস বন্ধ থাকায় কুষ্টিয়া থেকে কর্মস্থলে যাতায়াতে ৫০টাকার স্থলে ২৫০ টাকা দিতে হয়েছে সিএনজি ভাড়া। এভাবে চলতে থাকলে যাতায়াত খরচে নাভিশ^াস হয়ে যাবে।

কুষ্টিয়া বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন, মাদক স¤্রাজ্যের গডফাদাররা গোটা কুষ্টিয়া জেলাকে মাদকের অভয়ারণ্যে পরিনত করেছে। প্রশাসনও মাদক নির্মূলে তৎপর আছেন। কিন্তু বরাবরই দেখা যাচ্ছে, আইন শৃংখলা বাহিনী মাদকসহ যাদের ধরছে, তারা সবাইকে দেখানো হচ্ছে বহনকারী হিসেবে। বহনকারীদের যেখানে ধরা হচ্ছে; সেখানে এসব মাদকের মূলহোতাদের ধরতে পারছেন না কেন ? একের পর এক শুধু বহনের দায়ে যাত্রীবাহী বাসসহ চালক, হেলপার-সুপারভাইজারদের আটক করে মামলা দেয়াসহ হয়রানি করছেন আইন শৃংখলা বাহিনী। এর একটা সমাধান হওয়া দরকার। নাহলে কোথায় কে মাদক বহন করে গাড়িতে উঠছেন সেসব দায় নিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালানো সম্ভব নয়।

কুষ্টিয়া জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহবুল আলম বলেন, যাত্রীবাহী বাসের যাত্রীদের দেহ বা সঙ্গীয় লাগেজ চেক করার এখতিয়ার আমাদের নেই। আইনের উর্দ্ধে কেউ নই, মাদক বা অস্ত্র সঙ্গে রাখা বা বহণ করা নি:সন্দেহের বে-আইনী। এসব জিনিষের সাথে যে কেউ জড়িত হোক না কেনো তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হতে হবে। কোটি কোটি টাকার হিরোইন বা যে কোন মাদকই হোক না কেন, এসবের ব্যবসা করার সামর্থ থাকলে কেউ এই মটর শ্রমিকের কাজ করতো না। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, রাস্তায় যখন প্রশাসনের লোক গাড়ি চেক করছে, তখন ঐসব অবৈধ মাল বহনকারী বা মূলহোতারা সেসব গাড়িতে ফেলে রেখে যাত্রীবেশে বেড়িয়ে যাচ্ছে। আর প্রশাসনের লোক তল্লাসি চালিয়ে গাড়ি থেকে উদ্ধারকৃত অবৈধ মাল কখনও বহনের দায়ে আবার কখনও ব্যবসার দায় চাপিয়ে আটকসহ মামলার খড়গ চাপিয়ে দিচ্ছে। স্বল্প আয়ের একজন মটর শ্রমিক এই অবস্থার শিকার হতে থাকলে সে কাজ করবে কিভাবে?

যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনির্দিষ্টকালের এই পরিবহণ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ,সে বিষয়ে র‌্যাব-১২,কুষ্টিয়া ক্যাম্পের ইনচার্জ রবিউল ইসলাম শনিবারই সংবাদ সম্মেলন করে বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়াগামী বিবিএস এক্সøুসিভ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে এক কেজি হিরোইন উদ্ধার ও বহনের দায়ে ঐ পরিবহন সহ তিনজন শ্রমিককে আটক করেছে র‌্যাব-১২,সিপিসি-১ এর অভিযানিক টিম। গত শুক্রবার বিকেলে শহরতলীর বটতৈল থেকে আটককৃত চালক সোহেল রানা(৩২), হেলপার সাগর(২২) ও সুপারভাইজার ঠান্টু(৩৬) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেয়া তথ্যমতে,ঐ পরিবহনের টুলবক্সে বহনকৃত ১কেজি হিরোইন যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি টাকা, তা বহন করে দেয়ার বিনিময়ে তারা ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পেয়ে থাকে। মাদক দ্রব্য বহনের দায়ে তারাও সমান অপরাধে অপরাধী হিসেবে অভিযোগ এনে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের পূর্বক আদালতে সৌপর্দ করা হয়েছে। এসময় তিনি বলেন ধৃত আসামীদের স্বিকারোক্তির সূত্রধরে, এই হিরোইনের প্রকৃত মালিকদের ধরতে র‌্যাবের অভিযান চলছে।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক জহির রায়হান প্রতিবেদককে জানান, মটর শ্রমিকদের ডাকে শুরু হওয়া পরিবহণ ধর্মঘট নিরসনে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। দুই পক্ষ বসে একটা সমাধানে পৌছুনো যাবে।

এম.লিটন-উজ-জামান, কুষ্টিয়া।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 136
    Shares