Home / এক্সক্লুসিভ / ১২ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ ইউজিসির

১২ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ ইউজিসির

ক্রাইম প্রতিদিন : এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের পর এবার শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিকে পুঁজি করে চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলছে, নানা অনিয়ম আর অভিযোগ নিয়ে চলা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তিতে সতর্ক থাকতে হবে ছাত্রছাত্রীদের। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ইউজিসি।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে ফাঁদে পড়ে অননুমোদিত কোনো ক্যাম্পাস বা কোর্সে ভর্তি না হয় এজন্যই সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ইউজিসির ওয়েবসাইট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা জেনেশুনে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

গণবিজ্ঞপ্তি থেকে দেখা গেছে, আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে ইবাইস ইউনিভার্সিটি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টি নিয়ে রয়েছে দ্বন্দ্ব। ট্রাস্টির এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। প্রগতি সরণিতে আমেরিকা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন থাকলেও ইউজিসি বলছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মতো কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা ২০০৬ সালে বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। একটি রিট দায়েরের পর আদালত ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেয়। চট্টগ্রামে সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেহেদীবাগ ও শহীদ মির্জা লেনের দুই ক্যাম্পাস ছাড়া সব ক্যাম্পাস অবৈধ। গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্র ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে রিট পিটিশন করেছে। আদালত ছয় মাসের জন্য এ নির্দেশনায় স্থগিতাদেশ দেয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টি নিয়ে দুটি মামলা আছে।

তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় অননুমোদিত ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। এগুলো হচ্ছে ধানমন্ডির সেন্ট্রাল রোডে ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগাং, আবদুল্লাহপুরে দি পিপলস্ ইউনিভার্সিটি ও বনানীর সি ব্লকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া। বোর্ড অব ট্রাস্টি নিয়ে দ্বন্দ্ব ও আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে কুমিল্লার ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের, চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ও সিলেট ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের। কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়কে ২০১৫ সালে এক বছরের জন্য সাময়িকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দিলেও নির্ধারিত সময়ে সেটি তারা শুরু করতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকার কর্তৃক বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া সরকার দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আউটার বা শাখা ক্যাম্পাস বন্ধ করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেওয়া হলেও ১০টি ক্যাম্পাস শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেনি। এর মধ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জে রূপায়ণ এ কে এম শামসুজ্জোহা বিশ্ববিদ্যালয়, আনোয়ার খান মডার্ন ইউনিভার্সিটি, জেড এন আর এফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস, আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহীতে শাহ মখদুম ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি, খুলনায় খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়, বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশালে ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি ও ন্যাশনাল স্টান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি রয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেকটি উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসি বলছে, শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী ৯১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬টিতে উপাচার্য, ২০টিতে উপ-উপাচার্য ও ৪১টিতে কোষাধ্যক্ষ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের অর্জিত সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করবেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য। উপাচার্যের স্বাক্ষর না থাকলে সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান আরও বলেন, দারুল ইহসান দীর্ঘদিন আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে চললেও শেষ পর্যন্ত সরকার তা বন্ধ করে দিয়েছে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে দারুল ইহসানের মতো পরিস্থিতিতে পড়লে যাতে বিপাকের সম্মুখীন না হতে হয় তাই সতর্ক থাকতে হবে ছাত্রছাত্রীদের।

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 20
    Shares