< html lang=”en-us”> < PropellerAds
Breaking News

অটোরিকশার আয়ে এখন হজে যাওয়ার স্বপ্ন হানিফার

ক্রাইম প্রতিদিন : জীবনের ঘানি টেনেছেন সত্তর বছর। কবে রিকশার প্যাডেলে পা রেখেছেন, তা ঠিক মনে নেই। তবে জীবনের হিসাব মেলাতে যে তাকে বহু কাঠখড়ি পোড়াতে হয়েছে, তা দেহের গঠনেই প্রমাণ মিলছে। বয়সের ভারে একেবারেই নুয়েপড়া। যে বয়সে ঘরে বসে শেষবেলার সুখ ছুঁবেন, সে বয়সে রিকশায় যাত্রী তুলে প্যাডেল মারছেন।

রিকশাচালক হানিফা। জীবন নামের খাতায় যার ফলাফল শূন্য। শরীর ছিল যতদিন, রিকশায় জোর খাটিয়েছেন ততদিন। এখন আর শরীর চলে না আগের মতো। কিন্তু বেঁচে থাকার তাগিদে রিকশা নিয়ে বের হতে রাস্তায়। তবে সে মনোবলে সাড়া দেয় না যাত্রীরা। হয়ত করুণা নতুবা সম্মানে বৃদ্ধকে এড়িয়ে চলেন তারা। বাঁচার তাগিদেই স্বপ্ন দেখতে হয়। স্বপ্ন দেখেছেন হানিফাও। রিকশা ছেড়ে একটি অটোরিকশার স্বপ্ন। জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে সে স্বপ্ন আজ পূরণ হলো। এক হৃদয়বান মানুষের অনুগ্রহে অটোরিকশার মালিক হলেন হানিফা।

জানা গেছে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা হানিফা প্রায় দুই যুগ ধরে ঢাকায় রিকশা চালান। থাকেন হাজারীবাগে।
প্রতিবেদককে হানিফা বলেন, বুড়ো বয়সে রিকশার প্যাডেল টানতে খুব কষ্ট হয়। তাই স্বপ্ন দেখি মৃত্যুর আগে একটা সিএনজিচালিত অটোরিকশা কেনার। প্রতিবেদক হানিফা ইচ্ছার কথা তুলে ধরেন। এতে করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে হানিফার ইচ্ছার কথা। সহযোগিতায় এগিয়ে আসে অনেক হৃদয়বান ব্যক্তি। আর তাদের অনুদানের টাকাই ইচ্ছে পূরণ হয় হানিফার। এখন নতুন স্বপ্ন বেঁধেছে হানিফার মনে। অটোর বাড়তি আয় জমিয়ে হজে যাবেন তিনি।

বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের পিএস শামীম আহমেদ রিকশাচালক হানিফাকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি বুঝিয়ে দেন। তিনি বলেন, ফেসবুক দিয়ে অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে থেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন মামুন বিশ্বাস নামের এক সমাজসেবক। প্রতিবেদনটি দেখার পর হানিফার ইচ্ছার কথা তুলে ধরে ফেসবুকে পোস্ট দেয়া হয়। এরপর বিভিন্ন ফেসবুক ফ্রেন্ডের সহায়তায় টাকা দিয়ে অটোরিকশা কিনে দেয়া হলো। আশা করছি কিছুটা হলেও এই বৃদ্ধা রিকশাচালকের উপকার হবে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পেয়ে সত্তরোর্ধ্ব রিকশাচালক হানিফা বলেন, আগে শরীরে শক্তি ছিল। রিকশা চালাইছি গায়ে লাগে নাই। বয়স হইছে সারাদিন চালাইতে পারি না। হয়রান হয়ে যায়। টানতে পাড়ুম না মনে কইরা বুড়া মানুষের রিকশায় কেউ উঠতেও চায় না। এখন সুন্দর অটোরিকশা চালামু। সবাই উঠবো। ইনকামও ভালো হবে। আর টাকা জমাইয়া হজে যামু। মরার আগে এটাই আমার ইচ্ছা। আল্লার কাছে দোয়া করি মরার আগে যেন আমারে হজ করার তৌফিক দেয়।

হানিফা জানান, স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ছিল তার সংসার। বড় ছেলেটা মারা গেছে আর ছোট ছেলেটা মানসিক ভারসাম্যহীন। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে নিয়ে স্ত্রী গ্রামের বাড়ি থাকেন। তিনি হাজারীবাগের পশ্চিমে ঝাউচর এলাকায় মেসবাড়িতে থাকেন।

এদিকে ফেসবুকে হানিফার ইচ্ছার কথা জেনে এগিয়ে এসেছেন সুজানা। তিনি বলেন, আমার দাদা নেই। বৃদ্ধ লোকটিকে দেখে দাদার কথা মনে পরে গেল। তাই সাধ্যমতো সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছি। আমাদের মতো সবাই এগিয়ে আসা প্রয়োজন। বিশেষ করে এরকম সহজ-সরল খেটে খাওয়া মানুষের জন্য।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
x

Check Also

প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ, ধর্ষক আটক

ক্রাইম প্রতিদিন, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরায় এক মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুকে (৯) ...