Home / জাতীয় / বিশেষ প্রতিবেদন / অবশেষে হচ্ছে তিস্তা চুক্তি!

অবশেষে হচ্ছে তিস্তা চুক্তি!

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে সেই বোঝাপড়া অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য সমাধান হচ্ছে। যে বোঝাপড়ার পথে প্রধান আপত্তি তুলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে এই অগ্রগতি হয়েছে। কারণ গত ২৫ মে পশ্চিমবঙ্গ সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই ভারতের পক্ষ থেকে তিস্তা নদীর পানিবণ্টনে অন্তর্বর্তী চুক্তির একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। এটি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত নিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে জানানো হয়। বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে শেখ হাসিনার কাছে বিষয়টি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খোলাসাও করেন বলে সরকার ও আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর মে মাসের সফরে ভারতের পক্ষ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে অন্তর্বর্তী ওই চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাত্ক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্মতি না জানানো হলেও তখন বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে নেওয়া হয়। এরপর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখেছেন। সেখানে সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিবেচনায় নিয়ে অন্তর্বর্তী চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক মত এসেছে। ফলে যেকোনো সময় তিস্তা নদীর পানিবণ্টনে অন্তর্বর্তী চুক্তি সই হতে যাচ্ছে।

যদিও তিন বছরের জন্য পরীক্ষামূলক এই অন্তর্বর্তী চুক্তি সই হতে পারে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানা যায়।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য জানান, তিস্তা নদীর পানি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য খুবই প্রয়োজন। এখানে দুটি বিষয় রয়েছে। প্রথমত, রাজনৈতিক মতৈক্য, সেটা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়। যেহেতু পশ্চিমবঙ্গের মানুষেরও প্রয়োজন এই নদীর পানি, তাই তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ আরো কিভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সেটাই টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়। এখন এ বিষয় নিয়ে কাজ চলছে।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই এ চুক্তিতে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। তাঁর যুক্তি, এ চুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ওপর। সর্বশেষ শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফলপ্রসূ আলোচনার পর শর্তসাপেক্ষে তিনি অন্তর্বর্তী এ চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বছর ডিসেম্বরে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই সরকার চাচ্ছে, ডিসেম্বরের আগেই তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সই হোক। তিস্তা চুক্তি বর্তমান সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়। যদি এই চুক্তি সই হয়, তাহলে তা হবে সরকারের কূটনীতির একটি বড় সাফল্য। ২০১৫ সালের ৬ জুন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তিস্তা চুক্তির বিষয়ে এ দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করেছিলেন।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 36
    Shares