Home / লিড নিউজ / আ’লীগ নেতা খুন, এমপির গাড়ি থেকে গ্রেফতার ৪

আ’লীগ নেতা খুন, এমপির গাড়ি থেকে গ্রেফতার ৪

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় সরকারি খাস পুকুর দখল করাকে কেন্দ্র করে নিহত আজিম উদ্দিনের জানাজায় স্থানীয় এমপি ইসরাফিল আলমকে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।

তিনি জানাজায় অংশগ্রহণ করতে গেলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা তাকে বাধা দিলে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন। এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পাশাপাশি স্থানীয় এমপির গাড়ি থেকে চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, দুর্বৃত্তদের লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও হাতুড়ের আঘাতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে থাকা আজিম উদ্দিনকে রাণীনগর হাসপাতালে চিকিৎসাও করতে দেয়া হয়নি। পরবর্তীতে আদমদিঘী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

সেখানে থেকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠাতে অনেক দেরি হওয়ায় পথের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত আজিম উদ্দিন রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি।

নওগাঁ জেলা পুলিশের মিডিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ডিএসবি ফারজানা হোসেন বলেন, রাণীনগর উপজেলার করজগ্রাম সখিনপাড়া মসজিদের খাস পুকুরটি মসজিদের কাছ থেকে লিজ নিয়ে প্রায় ১৪-১৫ বছর থেকে মাছ চাষ করে আসছিলেন নিহত আজিম উদ্দিনের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম। কিন্তু হঠাৎ করে রোববার দুপুর অনুমান ২টায় মো. সাহাদত সায়েম, নাজমুল হক মাসুম, আব্দুল আজিজ, রহিমসহ ৩০-৩৫ জন মোটরসাইকেলযোগে ওই পুরকুরপাড়ে গিয়ে স্থানীয় এমপির নাম ভাঙিয়ে বলে যে এই পুকুর তারা লিজ নিয়েছে এখন সেখানে মাছ ছাড়বে।

এই ঘটনায় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সায়েম ও তার দলবল লাঠিসোঁটা, লোহার রড, হাতুড়ি দিয়ে আক্রমণ করে। এতে আজিম উদ্দিনসহ তার ভাই শহিদ, জালাল ও তাদের মা মানিকজান বেওয়াসহ বেশ কয়েকজন মারাত্মকভাবে গুরুতর আহত হয়।

এদের মধ্যে আজিম উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রথমে রাণীনগর হাসপাতালে ভর্তি করতে ব্যর্থ হলে তাকে পরে আদমদিঘী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় রোববার গভীর রাতে নিহতের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী সায়েমকে প্রধান আসামি করে ৪০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল আকতার, সহকারী পুলিশ সুপার সদর দফতর মতিয়ার রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সূত্র আরও জানায়, রাত সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের গাড়ি থেকে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযুক্ত সাহাদত হোসেন সায়েম, মো. নাজমুল হক মাসুম, আবদুল আজিজ ও মো. রহিমকে এবং অন্যত্র থেকে আমিনুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পরে রাণীনগরে সায়েমের অফিস তল্লাশি করে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র এবং বিভিন্ন রকমের মদ উদ্ধার করা হয়েছে। আবার সোমবার বিভিন্ন সময়ে মো. সোহেব খন্দকার, মো. নয়ন ও মিল্টন খন্দকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 38
    Shares