Home / সারাদেশ / চেয়ারম্যানের ছেলের ক্ষমতার অপব্যবহারে শ্রমিক নিহত!

চেয়ারম্যানের ছেলের ক্ষমতার অপব্যবহারে শ্রমিক নিহত!

ক্রাইম প্রতিদিন, আবু রায়হান, শরীয়তপুর : শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার দারুল আমান ইউনিয়ন পরিষদের রামরায় কান্দি গ্রামের লতাসিনেমা হল এলাকায় মোস্তফা গান্ধা (৩৫) নামে এক নির্মাণ শ্রমিক দারুল আমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন খানের ছেলে তন্ময় খান, তার চাচাতো ভাই সুজন খান ও তার দুই সহযোগী জীবন সরদার,শাহরুখ কুপিয়ে নিহত করেন।নিহত মোস্তফা গান্ধা একই গ্রামের মৃত. জয়নাল গান্ধার ছেলে। সোমবার (২১ মে) রাত ৮.৩০টায় উপজেলার দারুল আমান ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের আওরঙ্গ খার গোজা নামক স্থানে মোস্তফাকে পিটিয়ে আহত করা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪.৫০টায় মোস্তফা মারা যায় বলে জানায় নিহতের ভাই হানিফ। এই ঘটনায় নিহতের শ্বশুর আলী হোসেন মিয়া বাদি হয়ে ডামুড্যা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ডামুড্যা থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার রামরায় কান্দি গ্রামের মোস্তফা গান্ধা এলাকায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। কিছুদিন আগে একই গ্রামের সুজন খান (৩৪) তার বাড়িতে কাজ কারার কথা বলেন। অন্য জায়গায় কাজ করার কারণে কাজ করে দিতে পারেনি মোস্তফা গান্ধা। সোমবার (২১ মে) বিকেলে তাকে সুজন খান কাজ করে না দেওয়ার বিষয়ে মোস্তফাকে জিজ্ঞাসা করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি ঘটনা ঘটে। তারপর ওই দিনই সন্ধার পরে সিরাজের চায়ের দোকানের সামনে দারুল আমান ইউপি চেয়ারম্যান মোক্তার খানের ছেলে তন্ময় খানের উপস্থিতিতে সুজন খান (৩৪), শাহারুক (২২), জীবন সরদার (২০) অতর্কিতভাবে মোস্তফার ওপর হামলা চালায়। এ সময় মোস্তফা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে ডামুড্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে মঙ্গলবার তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা পাঁচদিন জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে শনিবার বিকেলে মোস্তফা মারা যায়। হামলাকারীরা চেয়ারম্যান মোক্তার খানের ছেলে ও ভাতিজা। প্রত্যক্ষদর্শী চা দোকানদার জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) বলেন, মোস্তফা একজন দিনমজুর রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। মোস্তফা আমার দোকানে চা খাচ্ছিল। তখন সুজন খান মোস্তফাকে কাজ কেন করে না তা জিজ্ঞাসা করেন। পরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। কিছুক্ষণ পর তন্ময় হুন্ডায় করে আসেন। পরে তন্ময় খান আসার পরই তার ক্ষমতার জোরে সুজন, জীবন, শাহরুক মোস্তফাকে বেধড়ক মারেন। এতে মোস্তফা অজ্ঞান হয়ে যায়।নিহতের ভাই হানিফ গান্ধা মুঠোফোনে মোস্তফার মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। এবং তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। তন্ময় ও সুজন আমার ভাইকে মেড়ে ফেলেছে, তারা সমাজের উচ্চ পর্যায়ের ক্ষমতা ধর মানুষ তাদের টাকা আছে আমাদের ক্ষমতাও নেই টাকাও নেই আমাদের আছেন আপনারা সাংবাদিক ভাইরা আর প্রশাসন। আমি তাদের উপযুক্ত শাস্তি চেয়ে ফাসির দাবী জানাচ্ছী। মোস্তফা গান্ধার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে, এলাকার কেউ কেউ বলছে তারা আওয়ামীলীগ এর নাম ভাঙ্গীয়ে অনেকদিন জাবত অপকর্ম করে আসছিলো আবার কেউ কেউ বলছে তার তার চাচাতো ভাই পুলিশ এর এডিশনাল ডিআইজি এর ক্ষমতার জোরেই এগুলো করছে।এ ব্যপারে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার মোস্তফা গান্ধার শ্বশুর ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে গেছেন। মোস্তফা গান্ধার স্বজনদের মাধ্যমে জানতে পারলাম মোস্তফা গান্ধা শনিবার বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 35
    Shares