Home / সারাদেশ / ইভটিজিংয়ের জরিমানার টাকা মাতব্বরদের পকেটে

ইভটিজিংয়ের জরিমানার টাকা মাতব্বরদের পকেটে

ক্রাইম প্রতিদিন, আবু রায়হান (বর্ষন),শরীয়তপুর : শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার চরসেনসাস ইউনিয়নের বেড়াচাক্কি গ্রামে হানিফ শেখ নামে এক যুবককে ইভটিজিংয়ের অপবাদ দিয়ে সালিশ বৈঠক ডেকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানাসহ ১০০ বার কানে ধরে ওঠবোস করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মেম্বার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থালে যান সংবাদকর্মীরা। এ ব্যাপারে সখিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী হানিফ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সখিপুর থানার চরসেনসাস ইউনিয়নের বেড়াচাক্কি গ্রামের সড়ক দিয়ে মান্নান দর্জির মেয়ে আনোয়ারা তার তিন সঙ্গী নিয়ে নুরুদ্দি বাজার থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। তখন নাকি চরসেনসাস ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড লক্ষ্মীপুর গ্রামের সেকান্দার শেখের ছেলে হানিফ শেখ ও সফিক মাঝির ছেলে হাবিব মাঝি ওই মেয়েদের ইভটিজিং করেন। ইভটিজিংয়ের অপবাদ দিয়ে পরের দিন শুক্রবার বিকেলে নুরুউদ্দি বাজারে সালিশ বৈঠক ডাকেন স্থানীয় মেম্বার ও তার সহযোগীরা। তখন সালিশ বৈঠকে বসে চরসেনসাস ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য সৈয়দ মাঝি, মোতালেব ছৈয়াল, ভাসানী বৈদ্ধ, আলমগীর শেখ, রাজ্জাক মুন্সী, কাঞ্চন ঢালী ও রহিম ছৈয়াল মিলে হানিফ শেখকে ১০০ বার কানে ধরে ওঠবোস করান। এ ছাড়া আনোয়ারার পারিবারকে দেওয়ার জন্য ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেন হানিফকে। আর হাবিব মাঝি মেম্বারের আত্মীয় হওয়ায় ক্ষমা করে দেন।হানিফ সম্মানের ভয়ে ওই দিনই পালের গরু বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকা দেন মেম্বার ও তার সহযোগীদের। আর বাকি টাকা জানুয়ারি মাসের মধ্যেই দেওয়ার ধার্য করেন। কিন্তু আজও হানিফ শেখের ৪০ হাজার টাকা আনোয়ারার পরিবারকে না দিয়ে মেম্বার ও তার সহযোগীরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়ে যান। স্থানীয় নাজমুল হাওলাদার ও কামাল ঢালী বলেন, চরসেনসাস ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মাতব্বররা বিভিন্ন ঘটনার অজুহাতে সালিশ বৈঠক ডেকে নিরীহ মানুষদের জরিমানা করে চাঁদাবাজি করেন। হানিফ শেখ গরিব মানুষ, তার সঙ্গে এমনটা করেছেন ওই মাতব্বররা। শুধু তাই নয়, হানিফকে ১০০ বার কান ধরে ওঠবোস করিয়েছেন মাতব্বররা। হানিফ শেখের মা সাহিদা বেগম জানান, হানিফ কখনোই এমনটা করতে পারে না। হানিফ নির্দোষ। টাকার খাওয়ার জন্য মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার ছেলেকে সালিশে ডেকে জরিমানা করেছে। কানে ধরে ওঠবোস ও মারধর করেছে। অভিযুক্ত চরসেনসাস ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য সৈয়দ মাঝি সালিশের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মেয়েদের মানহানি নষ্ট হয়েছে তাই হানিফকে ১০০ বার কান ধরে ওঠবোস করানো হয়েছে এবং টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু হানিফ আমাদের কাছে এখনও কোনো টাকা দেয়নি।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 25
    Shares