Home / সারাদেশ / ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে ইলিশের আড়তগুলো এখন তরমুজের দখলে

ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে ইলিশের আড়তগুলো এখন তরমুজের দখলে

ক্রাইম প্রতিদিন, চাঁদপুর : গত বছরের তুলনায় এবার তরমুজের উৎপাদন কমায়, খুচরা বাজারে এর দাম কমেনি। এদিকে প্রতিবছরের মতো বরিশালের পোর্টরোডের ইলিশ মাছের আড়তগুলো এখন তরমুজের দখলে চলে গেছে। এখানকার ব্যবসায়ীরা প্রতিবছরই মার্চ ও এপ্রিল মাসের জন্য তরমুজের পেছনে টাকা খাটান। তাই আড়তগুলোতে এখন মাছের বদলে চলছে তরমুজের বেচাবিক্রি।

দিন যতো যাচ্ছে পাইকারি বাজারে তরমুজের আমদানি তত বাড়ছে, শ্রমিকরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন, ট্রলার থেকে আনলোডিং করা আর ট্রাকে লোডিং করা নিয়ে।

শ্রমিক আবদুর রশিদ জানান, আগে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় অলস সময় পার করতে হতো। তখন জমানো টাকা ভেঙে, না হয় ধার দেনা করে চলতে হতো। এখন দখিনের জনপদে তরমুজ চাষ বাড়ায় বাজারগুলোতে আমদানি বাড়ছে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও হচ্ছে।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চাষী হোসেন আলী বলেন, ‘প্রতি বছর তরমুজ চাষির সংখ্যা বাড়লেও, এবারে গতবারের তুলনায় আবাদের পরিমাণ কম। এ বছর ফলন বেশি হলেও প্রাকৃতিক কারণে তরমুজের আকার-আকৃতি ভালো হয়নি।’

তিনি আরও বলেন,‘গত ১০/১২ দিন আগে যখন বাজারে প্রথম তরমুজ আসে তখন প্রতি শ’ তরমুজ ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এখন বাজারে প্রচুর তরমুজের আমদানি হওয়ায় সেই দাম কমে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় নেমে গেছে। সামনে দাম আরও কমবে। এরকম হতে থাকলে তরমুজ চাষিদের লোকসানে পড়তে হবে।’

তবে খুচরা বাজারের ক্রেতা হানিফ হাওলাদার বলেন,‘গত সপ্তাহে যে তরমুজ কিনেছেন ৮০ টাকায় সেই তরমুজ আজ কিনছেন ১২০ টাকায়। পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে এর বিপরীত অবস্থা চলছে।’

পোর্টরোডের আড়তদার রশিদ মিয়া জানান, দেরিতে হলেও পোর্টরোডের ফলের ও মাছের আড়তগুলো তরমুজের বাজারে পরিণত হয়েছে। এখানে চাষি, আড়তদার, পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের আনাগোনা ও কর্মব্যস্ততা বেড়েছে।

ইলিশের আড়ৎ এখন তরমুজের দখলে

আমদানি বাড়লে দাম কমে যাওয়া স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে এ বাজারে ওয়ার্ল্ডকুইন, জাম্বু জাগুয়া, ড্রাগন, বিট ফ্যামিলি প্রভৃতি জাতের তরমুজই বেশি আসছে।

আড়তদার গণেশ সাহা জানান, প্রতিবছর এমন সময় বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ, টুঙ্গিবাড়িয়া, বুখাইনগর, ভোলার চরফ্যাশন, চরকাজী, লালমোহন, পটুয়াখালীর গলাচিপা, রাঙাবালিসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রচুর তরমুজ আসে। গত বছর এ সময় শিলা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় তরমুজ চাষিদের লোকসান হয়েছে। ফলে এবার তরমুজ চাষ কমে গেছে। তবে এ বছর ঝড়-বৃষ্টি কম হওয়ায়, ফলন বেশি হয়েছে। তাই বাজারেও আমদানি অনেক ভালো।

বরিশাল নগরের পোর্টরোড ঘুরে দেখা গেছে, এখানকার একমাত্র সচল ও বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটির বেশিরভাগ আড়তের সামনের জায়গা মাছের বদলে তরমুজের দখলে চলে গেছে। যেখান দিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড় অনেক নৌকায় করে মাছ আসতো সেখানে এখন প্রতিদিন ফিসিংবোটসহ বিভিন্ন নৌ-যানে করে বেপারি ও চাষিরা এ তরমুজ নিয়ে আসছেন।

এসব তরমুজ আড়তদারদের কাছে থেকে পাইকাররা সড়ক ও নৌ-পথে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বরিশালের স্থানীয় ও খুচরা বাজারেও এসব তরমুজ বিক্রি হচ্ছে।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 56
    Shares