Home / জাতীয় / বিশেষ প্রতিবেদন / ঈদের আগে যতো অভিযান!

ঈদের আগে যতো অভিযান!

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য, খাবারের দোকান, কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত এসব অভিযান পরিচালনা করে দোষীদের শাস্তিও দিচ্ছেন। রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নেমেছে অভিযানে। প্রতিবছর ঈদকে সামনে রেখে এসব অভিযান শুরু হয়। তবে অভিযান পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান আসলে নয়, পুরো বছরই তারা অনিয়ম ও ভেজালের বিরুদ্ধে তৎপর থাকেন তারা। রমজানে এসব বিষয় প্রচারে গণমাধ্যম বেশি আন্তরিক হয় বলে এর প্রচারণাটা বেশি হয়। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা মনে করেন, ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এতে তারা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

প্রতি বছরই রমজানে বিভিন্ন কাঁচা বাজার, হোটেল-রেস্তোঁরায়, ইফতারির দোকানে, বিপণী বিতান, মুড়ি ও সেমাই কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন সংস্থা। তাদের নির্ধারিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে নানা অভিযোগে জেল-জরিমানা করা হয়ে থাকে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম নয়। সাধারণত পুলিশ, র‍্যাব, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ), শুল্ক গোয়েন্দা ও স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ কয়েকটি সরকারি সংস্থা। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুলিশ, বিআরটিএ, বিএসটিআই, র‍্যাবসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথ অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
ভেজাল ও অনিয়ম প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট।

প্রতি বছরের মতো এবারও রমজান শুরুর আগে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ‘পবিত্র রমজানে খাদ্যদ্রব্যে নিরাপত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকিসমূহ মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে গণবিজ্ঞপ্তি’ প্রচার করে। বিজ্ঞপ্তিতে খাদ্য বিরোধী কার্যকলাপের জন্য কী শাস্তি সেটাও প্রকাশ করা হয়।

গত ২১ মে বাসি, পঁচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রয় করায় রাজধানীর তোপখানা রোডের বৈশাখী ,মোঘল দরবার এবং ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্টকে জরিমানা করেন র‌্যাব ও বিএসটিআই’র যৌথভাবে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।। এ সময় জব্দ করা হয় পঁচা মাংস, চারদিন আগে বানানো গ্রিল করা মাংসসহ অন্যান্য বাসি খাবার।

ভ্রাম্যমাণ আদালতগুলোর কোনোটি হোটেল-রেস্তোঁরায়, কোনোটি কাঁচা বাজারে বিভিন্ন মাছ, মাংস ও মসলাসহ বিভিন্ন পণ্যের মান ঠিক আছে কিনা সেটা দেখতে অভিযান চালায়। মৌসুমী ফলের বাজারেও অভিযান চালিয়ে থাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতগুলো।

এছাড়া বাজার মনিটর করে থাকে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মোবাইল ফোন বিক্রির অভিযোগে গত ১৯ মে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর অভিযান চালায়। প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা শুল্ক গোয়েন্দাদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখে ও সড়ক অবরোধ করে। মার্কেটের অ্যাপল জোন নামের একটি মোবাইল ফোনের দোকানের কর্মচারী ফাহাদ বলেন, ‘প্রতিবারই কোনও কথাবার্তা ছাড়া তারা মোবাইল নিয়ে যায়। এর আগেও এরকম মোবাইল নিয়ে গেছে তারা। আমরা কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার পরেও ফেরত দেয় না।’

শ্যামবাজারের মুদি দোকানদার সততা ট্রেডার্সের মালিক এম এ খালেক জানিয়েছেন, ‘আমরা পাইকারি বাজার থেকে পণ্য কিনি। খুচরা দরে বিক্রি করি। কোথায় পণ্যের প্যাকেট হয়, কোথায় পণ্যের দাম লেখা হয়, কে লেখেন, আমরা তা কিছুই জানি না। যা করে কোম্পানি করে। কোথাও কোনও ত্রুটি হলে তা করছে কোম্পানি বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করছে আমাদের।’

রমজানে অভিযান চালানো ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ‘হয়রানীর উদ্দেশ্যে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি, এটা ঠিক নয়। ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের কোনও ভিত্তি নাই। রমজান আসলেই পণ্যমূল্য বাড়িয়ে দেয় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। দুনিয়ার যতো নষ্ট মাল আছে সেগুলো বাজারে ছাড়া হয়। শুধু রমজানে নয়, আমরা সারা বছরই এসব অনিয়ম ও ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে থাকি।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমান বলেন, ‘সারা বছরই আমাদের অভিযান চলে। কিন্তু ঈদ, রমজান বা স্পেশাল দিনগুলোতে আমাদের গণমাধ্যম জনগণকে সাবধান করার জন্য আন্তরিকভাবে বেশি প্রচার করে থাকে। এতে মনে হয় রমজানের সময় আমরা বেশি তৎপর। আসলে অভিযানটা সারা বছর একই পরিমাণ চলে। কিন্তু গণমাধ্যমে এগুলো রমজানে বেশি প্রচার হয়।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ‘শুধু রোজার সময়েই নয়, সারাবছরই প্রতিদিন দুটো করে অভিযান আমরা পরিচালনা করে থাকি। রমজান আসলে হয়তো মিডিয়া তৎপর হয় বলে এটার প্রচার বেশি পায়। আমাদের দুটি করে টিম সবসময় যায়। আজকেও (বৃহস্পতিবার) চকবাজারে ছোট কাটারা ও বড় কাটারায় প্রায় আড়াই হাজার দোকান ও ব্যবসায়ী রয়েছে। এখানে ব্যবসায়ী সমিতি আছে। তাদের সঙ্গে আমরা মিটিং করেছি। আমরা প্রথমে সবাইকে সাবধান করে আইন অনুযায়ী ব্যবসা করার জন্য অনুরোধ করি। সেটা যারা না করেন, তখন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। ঢাকার বাইরে সকল জেলায় একটি টিম নিয়মিত অভিযান চালিয়ে থাকে।’

শুধু রমজানেই কেন গণবিজ্ঞপ্তি ও অভিযান- জানতে চাইলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, ‘রমজানে তো ধর্মীয়ভাবে আমরা খুব নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে থাকি। আর এ সময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এটা করা দরকার। আর এ অভিযান শুধু ঈদের আগে নয়, সারাবছরই চলে। রমজানে হয়তো গ্রাহকদের সুবিধার্থে এটা জোরদার করা হয়। তারা যাতে ভালো জিনিসটা পান সেজন্য।’

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 6
    Shares