Home / এক্সক্লুসিভ / এফবিআইর তালিকায় বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে তারেক রহমানের নাম

এফবিআইর তালিকায় বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে তারেক রহমানের নাম

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই (ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)। বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যক্তি তারেক রহমান যাকে এফবিআই বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর আগে শীর্ষ জঙ্গী নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলাভাইকে এফবিআই বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। ২০০৩ সালে শায়খ রহমান ও বাংলা ভাই সম্পর্কে বাংলাদেশকে বিশেষ বার্তাও দিয়েছিল এফবিআই। কিন্তু সেই বার্তা আমলে নেয়নি তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। তার পরেই দেশে জঙ্গীবাদে ভয়াবহ উত্থান ঘটে।

রাজনীতিতে নামার পর থেকেই নজরদারিতে থাকা তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত এফবিআইয়ের বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেন। তার সম্পর্কে সতর্ক থাকতে তাকে আশ্রয়দানকারী দেশ যুক্তরাজ্যকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে এফবিআইয়ের তরফ থেকে। তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের জন্যও বিপজ্জনক হতে পারে বলে সেই বার্তায় বলা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে তারেক রহমান বাংলাদেশে বড় ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটাতে পারে বলে এফবিআই আভাস দিয়েছে। সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে বিএনপি নেতা তারেক রহমান সম্পর্কে একটি বিশেষ গোপন বার্তা পাঠিয়েছে। সেই বার্তায় যুক্তরাজ্যকে তারেক রহমান সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দেশটিতে তারেক রহমান রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন।

সতর্ক থাকার কারণ হিসেবে এফবিআই বলেছে, দীর্ঘদিন ধরেই তারা বাংলাদেশের তারেক রহমানের ওপর নজর রাখছিল। নানা কারণেই তার ওপর নজরদারি অব্যাহত আছে। দীর্ঘ নজরদারির পর অন্তত দশ বছর আগে তারেক রহমান বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে তাদের তদন্তে ধরা পড়ে। সেই হিসাব অনুযায়ী তারেক রহমান এফবিআইয়ের বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়। তাকে দশ বছর আগেই বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে এফবিআই চিহ্নিত করেছে। দিন যত যাচ্ছে তারেক রহমান আরও বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। তারেক রহমানের নাম এফবিআইয়ের লাল তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের নামে যুক্ত হয়েছে। বিশ্বের যে কোন দেশেই লাল তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা থাকেন, তাদের ওপর এফবিআই নজরদারি করে থাকে। শুধু এফবিআই নয়, বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের ওপর তীক্ষè নজরদারি করে থাকে। অন্যান্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এ সম্পর্কে তথ্য আদান প্রদান করে থাকে।

বার্তায় আরও জানানো হয়েছে, তারেক রহমান হচ্ছেন বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি এফবিআইয়ের লাল তালিকাভুক্ত বা বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হলেন। লাল তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা যে দেশেই অবস্থান করুন না কেন, এফবিআই তাদের সম্পর্কে সেই দেশকে এবং যে দেশের নাগরিক সেই দেশকেও পাশাপাশি অবহিত করে থাকে। এটি এফবিআই বিশ্বের সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গীবাদ যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, এজন্য আগাম সতর্ক করে থাকে।

এর আগে এফবিআই বাংলাদেশের আরও দুই ব্যক্তি সম্পর্কে সতর্ক বার্তা দিয়েছিল। তারাও এফবিআইয়ের লাল তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ছিলেন। তারা হচ্ছেনÑ শীর্ষ জঙ্গী নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলাভাই। ২০০৩ সালে এফবিআই তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারকে এ দুই ব্যক্তি সম্পর্কে আগাম সতর্ক করে বিশেষ গোপন বার্তা দিয়েছিল।

এছাড়া এফবিআই ভারতের মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিম ও পাকিস্তানের পারভেজ মোশাররফকে বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে বার্তা দিয়েছে।

সূত্র বলছে, কিন্তু এফবিআইয়ের সেই বার্তা আমলে নেয়নি তৎকালীন সরকার। উল্টো শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলাভাইকে ‘সর্বহারা’ নিধনের নামে সহযোগিতা করা হয়। তৎকালীন সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে দেশে জঙ্গীবাদ ভয়াবহভাবে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। হুজি, জেএমবিসহ নামে বেনামে অসংখ্য গোষ্ঠী দেশে তা-ব চালাতে থাকে। একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটতে থাকে।

তারই ধারাবাহিকতায় উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলা থেকে শুরু করে ২০০৪ সালে শেখ হাসিনাকে হত্যা এবং আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মী নিহত হন। আহত হন অন্তত পাঁচ শতাধিক। দুনিয়া কাঁপানো এমন ঘটনায় শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের জড়িত থাকার তথ্য বেরিয়ে আসে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় (মুন্সীগঞ্জ বাদে) সিরিজ বোমা হামলা করে জেএমবি। তাতে দেশে ইসলামী শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে বলা হয়। অন্যথায় বিচারকদের হত্যার হুমকি দেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় জেএমবি বরিশালে দুই বিচারককে বোমা মেরে হত্যা করে। শেষ পর্যন্ত তৎকালীন বিএনপি সরকারই জেএমবি ও হুজিকে নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়। জঙ্গীবাদ নির্মূল করতে গঠন করে র‌্যাব। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সারাদেশে ৯৮ হামলার ঘটনা ঘটে। এসব মামলায় নিহত হন আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও পরবর্তীতে বাংলাদেশে ব্রিটেনের হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলা হয়। আনোয়ার চৌধুরী মারাত্মক আহত হন।

দায়িত্বশীল ওই সূত্র বলছে, এফবিআইয়ের পাঠানো সেই বার্তায় আরও বলা হয়েছে. তারেক জিয়া উগ্রবাদী জঙ্গীদের পৃষ্ঠপোষক এবং মদদদাতা। তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্যের উচিত সর্বোচ্চ নজরদারিতে রাখা। কারণ তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের জন্যও যে কোন সময় বড় ধরনের হুমকি হতে পারে।

এফবিআই মনে করে, একটি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রধানকে হত্যার চিন্তা কোন সুস্থ রাজনৈতিক চিন্তা হতে পারে না। প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। সেই হামলার সঙ্গে তারেক রহমানের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য বেরিয়েছে। এ মামলার অন্যতম আসামি তারেক রহমান।

এফবিআইয়ের বার্তায় আরও জানানো হয়েছে, সম্প্রতি তারেক রহমান ঘৃণ্য পরিকল্পনায় তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ব্যয় করছেন। লন্ডন থেকে তারেক রহমান এমন কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং মদদ দিচ্ছেন, যারা সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক। অবিলম্বে এই তৎপরতা বন্ধ না হলে সন্ত্রাসবাদই লাভবান হবে। বাংলাদেশসহ ওই অঞ্চলের সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি বাড়বে। এজন্য যুক্তরাজ্যকে এমন তৎপরতা বন্ধে এখনই মনোযোগী হওয়া উচিত।

বার্তায় আরও জানানো হয়েছে, তারেক রহমান পলিটিক্যাল টেররিস্ট। অর্থাৎ রাজনৈতিক সন্ত্রাসী। তারেক রহমান রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য বলপ্রয়োগেই বিশ্বাস করেন। তিনি আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশে বড় ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটানোর জন্য পরিকল্পনা করছেন। ওই পরিকল্পনার কিছু নমুনাও এফবিআই যুক্তরাজ্যের কাছে হস্তান্তর করেছে।

বার্তাটিতে বলা হয়েছে, বিএনপির কিছু শীর্ষ নেতা রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে তারেক রহমানকে বাদ দেয়ার জন্য কথা দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথাবার্তা বলেছেন। এমনকি দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিকে এ ব্যাপারে অনুরোধ করেছেন শীর্ষ নেতারা। কিন্তু শীর্ষ নেতাদের কোন অনুরোধই দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রাখা হয়নি।

বার্তায় জানানো হয়েছে, ২০০৭ সালে তারেক রহমান আর রাজনীতি করবেন না, এই মুচলেকা দিয়েই দেশত্যাগ করেন। কিন্তু কার্যত তিনিই এখন দলের শীর্ষ নেতা। তাকে বাদ দিয়ে কোন রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথা চিন্তাও করতে পারছে না দল। অথচ তারেক রহমানের চিন্তুাগুলো রাজনীতিমনস্ক নয়, সন্ত্রাসমনস্ক।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জারিকৃত ইন্টারপোলের রেড নোটিস প্রত্যাহার হয়। কেন প্রত্যাহার করা হয়েছিল সে সম্পর্কে পরবর্তীতে গভীর অনুসন্ধান হয়েছে। এক দায়িত্বশীল শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রেড নোটিস প্রত্যাহার করার বিষয়টি ছিল কৌশলমাত্র। প্রত্যাহার করার পর তারেক রহমান ও দলের তরফ থেকে তারেক রহমান বিপজ্জনক নয় বলে প্রচার পায়।

বিশ্বের সন্ত্রাসবাদ পর্যবেক্ষকরা কৌশলগত কারণে সেটি প্রত্যাহার করে তারেক রহমানের কর্মকা-ের ওপর তীক্ষè নজর রাখছিল। তাতে দেখা গেছে, তারেক রহমানের চিন্তা-চেতনায় কোন পরিবর্তন আসেনি।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ মোট ১৩ মামলায় চার্জশীটভুক্ত আসামি হওয়ায় ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের অনুমতিসাপেক্ষে রেড নোটিস জারির অনুমতি চাওয়া হয়। বিচারাধীন পলাতক আসামিকে ইন্টারপোল রেড নোটিস জারির মাধ্যমে গ্রেফতার করে আদাালতে হাজির করা সম্পূর্ণ বিধিসম্মত এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয়। ইন্টারপোল সচিবালয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বার্থে রেড নোটিস জারি করেছিল।

দুর্নীতি দমন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে তারেক রহমানের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। অত্যন্ত গোপনে চলছে সেই কার্যক্রম। ওই বছরের জানুয়ারিতে কমিশনের এক গোপনে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। লন্ডনে অবস্থানকালে তারেক রহমানের ব্যয় ও আয়ের উৎস সম্পর্কে তদন্তকারী কর্মকর্তা অনুসন্ধান করে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট ওই সূত্রে জানা গেছে, আয় না থাকলেও তারেক রহমান পরিবার নিয়ে লন্ডনে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। প্রতি মাসে খরচ হচ্ছে কমপক্ষে ৪ হাজার পাউন্ড, বাংলাদেশী টাকায় যা প্রায় ৫ লাখ টাকার সমান। কিনেছেন দুটি বিলাসবহুল দামি গাড়ি।

সূত্র বলছে, যেখানে পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক ইস্কান্দার মির্জাকে ক্ষমতাচ্যূত হয়ে লন্ডনেই হোটেলের ম্যানেজার, উগান্ডার ইদি আমিনকে সৌদি আরবে ঝাড়ুদার, ইরানের রেজা শাহ পাহলভীকে প্রচ- অর্থকষ্টে জীবনযাপন করেছেন, সেখানে বিনা রোজগারে তারেক রহমান কিভাবে বিলাসী জীবনযাপন করছেন তা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা সমালোচনা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাপ্তাহিক জনমত ম্যাগাজিনের ৪৬ সংখ্যায় প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে মোট ২৫ মামলা রয়েছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৪ মামলা। ২০০৭ সালে এসব মামলা দায়ের হয়। ২০০৯ সালে একটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়। চারটি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। জীবনে আর রাজনীতি করবেন না এমন মুচলেকা দিয়ে তারেক রহমান চিকিৎসা সেবা গ্রহণের জন্য প্যারোলে মুক্তি পান। ২০০৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তারেক রহমান লন্ডনে যান। চিকিৎসা নিতে থাকেন লন্ডনের ওয়েলিংটন হসপিটাল থেকে। বসবাস শুরু করেন লন্ডনেই।

এদিকে বিভিন্ন মামলার শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় আদালত তারেক রহমানকে পলাতক বিবেচনা করে তার জামিন বাতিল করে দেন। বর্তমানে তারেক রহমান পলাতক আসামি।

তারেক রহমান লন্ডনে যাওয়ার পর থেকেই এনফিল্ড টাউন ও সাউথ গেট নামক এলাকা দুটির মাঝামাঝি যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রভাবশালী নেতা কমরউদ্দিনের কেনা একটি বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। লন্ডনে দীর্ঘ সময় বসবাসের সুযোগ করে নিতে তারেক রহমান ২০০৮ সালেই লন্ডন থেকে বার এট ল ডিগ্রী (ব্যারিস্টার) সম্পাদনের উদ্যোগ নেন। তারেক রহমান বাংলাদেশী গ্রাজুয়েট। যে কারণে ব্রিটেনের নিয়মানুযায়ী তাকে প্রথমেই লন্ডনের কোন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জন করতে হবে। তিনি ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এক্ষেত্রে কোন রাজনৈতিক সুবিধাও পাননি তিনি। সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটি এবং কুইন মেরী ইউনিভার্সিটিতে তারেক রহমান লন্ডনের ব্যাচেলর ডিগ্রী ছাড়াই বার এট ল করার উদ্যোগ নিলে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ তারেক রহমানকে সরাসরি ফিরিয়ে দেয়।

এরপর থেকে অনেকটা স্থায়ীভাবেই কমর উদ্দিনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। কমরউদ্দিন বাড়িটি ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে কিনে নেন। বাড়িটির মাসিক মরগেজ দিতে হতো ৩৩৫ পাউন্ড। যা বর্তমানে ২২০ পাউন্ডে নেমে এসেছে। মরগেজের টাকাও তারেক রহমানকে দিতে হয় না। কমরউদ্দিন উল্টো তারেক রহমানের বাড়ির খরচও চালাতেন। লন্ডনে যাওয়ার পর কমরউদ্দিন তাঁর ব্যক্তিগত জাগুয়ার গাড়িটি তারেক রহমানকে দিয়ে দেন। মাসিক ৮শ’ পাউন্ড বেতনে গাড়িটির চালক হিসেবে নিয়োগ পান শরীফুল ইসলাম। পরে তারেক রহমান কেমব্রিজ হিথ রোড থেকে দুটি গাড়ি কেনেন। এর মধ্যে একটি বিএমডব্লিউ সেভেন সিরিজের। অপরটি অডি।

তারেক রহমান নিজের গাড়িতে করে প্রায়ই মেয়ে জাইমাকে স্কুল থেকে আনার জন্য গাড়ির চালকের সঙ্গে স্কুলে যেতেন। মাঝে মধ্যেই তিনি পরিবার নিয়ে বাসার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করতেন পন্ডার্স এ্যান্ডের টেসকো দোকান থেকে। কেনাকাটায় সহায়তা করতেন কমরউদ্দিনের রেস্টুরেন্টের কয়েক বিশ্বস্ত কর্মচারী। প্রায় প্রতিদিনই রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার আসত তারেক রহমানের পরিবারের জন্য। প্রতি মাসে লেক সাইড ও ব্লু ওয়াটার এবং সেন্ট্রাল লন্ডনের সেলফ্রিজেস থেকে শপিং করতেন। এছাড়া সেলফ্রিজেসের হোম এক্সেসরিজেও যেতেন। সেলফ্রিজ ও ব্লু ওয়াটার যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বিলাসবহুল এবং ব্যয়বহুল শপিংমল। মূলত ব্রিটেনের ধনীরাই সেখানে কেনাকাটা করে থাকেন। এছাড়া তারেক রহমান প্রায়ই সপরিবারে উডগ্রীন সিনে ওয়ার্ল্ডে সিনেমা দেখতেন। মাঝেমধ্যে আপ্টন পার্কের বলিনেও সিনেমা দেখতেন। তিনি লন্ডনের বিএনপির প্রাক্তন নেতা কমরউদ্দিনের মেয়ের বিয়েতে হাজির হন। সেখানে তাকে ছড়ি হাতে দেখা যায়।

কমরউদ্দিনের মৃত্যুর পরও বিলাসী জীবনযাপন করছেন তারেক রহমান। বর্তমানে তিনি বসবাস করছেন কিংসটনে। এ এলাকার ৩/৪ বেডরুমের বাসার মাসিক ভাড়া ১২শ’ থেকে ৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত। সি ব্যান্ডের বাসার জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স ১৪৭৪ পাউন্ড ৬৭ পেন্স। বিদ্যুত গ্যাসসহ ইউটিলিটি বিল ন্যূনতম ১৫০ পাউন্ড। পরিবারের যাতায়াত খরচ ন্যূনতম একশ পাউন্ড। এছাড়া লন্ড্রি, পোশাক, সংবাদপত্র, মোবাইল ও টেলিফোন বিলসহ আরও ন্যূনতম ৭ থেকে ৮শ’ পাউন্ড খরচ আছে। সব মিলিয়ে ন্যূনতম ৪ হাজার পাউন্ড খরচ রয়েছে তারেক রহমানের।

বিগত প্রায় ১০ বছর ধরে লন্ডনে বসবাস করছেন তিনি। দীর্ঘ সময়ে তিনি কোন অর্থনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত নন। স্ত্রী ডাঃ জুবাইদা গুলশান আরাও কিছু করেন না। সাধারণত বাইরে বের না হলেও মেয়েকে স্কুল থেকে আনার জন্য প্রায়ই চালকের সঙ্গে বাইরে যান। সম্প্রতি তিনি ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন। এদেশে তারেক রহমান ও তার মা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বেশ কয়েকটি ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা আছে। সে সুবাদে তারেক রহমানের একমাত্র বৈধ রোজগার হিসেবে তার মা খালেদা জিয়ার বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সংসদের বেতন। বেতনের টাকা দিয়ে তারেক রহমানের এমন বিলাসী জীবনযাপনের জন্য ব্যয় হওয়া একাংশ মেটানো সম্ভব নয়।

অথচ পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইস্কান্দার মির্জা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে লন্ডনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। লন্ডনে বসবাসকালে তিনি প্রচ- অর্থকষ্টে পড়েন। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে একটি হোটেলের ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতে হয়েছে। ইস্কান্দার মির্জাকে দারুণ অর্থকষ্টে নিঃস্ব হয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। উগান্ডার ইদি আমিনকে সৌদি আরবে ঝাড়ুদারের চাকরি করে জীবন নির্বাহ করতে হয়েছিল। অথচ তারেক রহমান লন্ডনে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। বিলাসী জীবনযাপনের জন্য ব্যয় হওয়া অর্থ পাচার করা অর্থ বলে অভিযোগ উঠেছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সহযোগিতায় সিঙ্গাপুরে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকা পাচার করেছেন। ইতোমধ্যেই পাচার করা অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে ফেরত আনা হয়েছে। এছাড়া তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ৬ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা পাচার করার অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ পাচারের অভিযোগে তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে ঢাকার বিশেষ আদালতে তথ্য প্রমাণ দাখিল ও সাক্ষীদের জবানবন্দীর ভিত্তিতে চার্জ গঠন হয়েছে। যদিও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সময় আবেদন করেছেন। বিষয়টি বিচারাধীন। তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের অর্থ পাচারের বিষয়টি বিদেশের আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 42
    Shares