Home / সারাদেশ / এমপি মোজাম্মেলের পক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মারকলিপি

এমপি মোজাম্মেলের পক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মারকলিপি

ক্রাইম প্রতিদিন, শরীয়তপুর : মুক্তিযোদ্ধাকে কটূক্তির অভিযোগের আলোচনায় থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও শরীয়তপুর ১এর এমপি,বিএম মোজাম্মেল হকের পক্ষে স্মারক লিপি দিয়েছে শরীয়তপুরের স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।
তাদের দাবি-মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সাংসদ মোজাম্মেদ হকের ভুল বোঝাবুঝির নিরসন হয়েছে। এখন আর তাদের কোনো অভিযোগ নেই।
বুধবার বিকেলে জাজিরা উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামসুল হক খান ও মুক্তিযোদ্ধা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তনাই মোল্যার নেতৃত্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহিদুজ্জামান, সামসুল হক খান, নুর মোহাম্মদ মালত, ঈমাম হোসেন সরদার, প্রফুল্ল কুমার, সোরহাব হোসেন বেপারী, ফজলুল হক বেপারী, আ: রহমান আকন, গিয়াস উদ্দিন মাদবর, আ: রাজ্জাক মুন্সি, আমির হোসেন মাষ্টার, মিয়াচান সিকদার, এহসান চৌকিদার, মোকলেছুর রহমান, স.ম মালেক ও জাজিরা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জিএম নুরুল হক,সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চকিদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত সোমবার জেলার জাজিরা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএম মোজাম্মেল হক।
বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, সাংসদ মোজাম্মেল হক সবসময়ই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক। তিনি প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার । তিনি বঙ্গবন্ধুর আর্দশের একজন পরীক্ষিত নেতা। তিনি এমপি হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে অনেক কাজ করেছেন। অথচ একজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ফয়দা হাসিলের জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ওই বৈঠকে সাংসদ বিএম মোজাম্মেল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক সরদার, জাজিরা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামসুল হক খান, মুক্তিযোদ্ধা ও জাজিরা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তনাই মোল্লাসহ প্রায় ২ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বক্তারা দাবি করেন- ইতোমধ্যে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতিতে ওই মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে সাংসদ মোজাম্মেদ হকের ভুল বোঝাবুঝির নিরসন হয়েছে। একটি পাবলিক প্রোগ্রামে সাংসদকে উত্তেজিতমূলক কথা-বার্তা বলায় তিনি দু:খ প্রকাশ করেন। মোজাম্মেলক হকও উত্তেজিক মাথায় অসদাচারণের জন্য দু:খ প্রকাশ করেন।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক সরদার বলেন, আজ জেলা ও জাজিরার মুক্তিযোদ্ধারা বি.এম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে আলোচনা সভা করে সকল সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির অবসান করেছি। আমরা সকল মুক্তিযোদ্ধারা তার সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। মুক্তিযোদ্ধাকে হাতিয়ার করে কাউকে ফায়দা লুটে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

সাংসদ মোজাম্মেল হক বলেন, ওই দিনের অনাকাঙ্খিত ঘটনাকে আমার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা করছে। তাই আজ সবাইকে নিয়ে বসে ভুল বোঝাবুঝির নিরসন করেছি।

তিনি বলেন, আমি সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আর্দশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছি, যত দিন বাঁচব করে যাব।

২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানায় বিজয় দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় এক মুক্তিযোদ্ধাকে সাংসদ বি এম মোজাম্মেল হক কটূক্তি করে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এসময়ে ধারণকৃত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এর প্রতিবাদে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দাবি করে-স্থানীয় কিছু মুক্তিযোদ্ধা ও সাংসদ মোজাম্মেল হকের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 34
    Shares