Home / সারাদেশ / কাউন্সিলর ইয়াবা সম্রাট শাহ আলম এখনো অধরা!

কাউন্সিলর ইয়াবা সম্রাট শাহ আলম এখনো অধরা!

ক্রাইম প্রতিদিন, খাঁন মাহমুদ আইউব কক্সবাজার : কক্সবাজার’র টেকনাফ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইয়াবা সম্রাট শাহ আলম এখনো অধরা।তিনি একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাগালের বাহিরে থেকে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে নির্ভিগ্নে।মিয়ানমার আদম ঘাটের আড়ালে ইয়াবা
আমদানীর ট্রাঞ্জিট পয়েন্ট নাইট্যংপাড়া থেকে হেচ্ছারখাল এবং বড়ইতলী এলাকা।ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে বার্মায়া আনোয়ারের পারিবারিক সিন্ডিকেট ও আব্দুল হক মিস্ত্রী।

চলমান মাদক বিরোধী অভিযানেও থেমে নেই পাগলা ঘোড়ার দৌড়।সুযোগ বুঝে ক্ষ্যাপ মেরে বসছে তালিকা বহির্ভূত কারবারীরা।স্থানীয়দের অভিযোগ পৌরসভার হেচ্ছার খাল এলাকা দিয়ে প্রতি রাত্রে আসছে ইয়াবা আর স্বর্ণ চোরাচালান।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শাহ আলমের নেতৃত্বে অন্তত ৫ টি পয়েন্ট দিয়ে আদম ব্যবসা সক্রিয় রয়েছে।পরিচালনা করছে নাইট্যং পাড়ার বার্মায়া আনোয়ার সহ লাল মিয়ার চার পুত্র।অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে আদম ঘাটের আড়ালে কাউন্সিলর শাহ আলমের নেতৃত্বে ইয়াবা ব্যবসার মূল রহস্য।কিন্তু কৌশলে পিতার নাম পাল্টিয়ে যত দোষ নন্দ ঘোষ অপর শাহ আলমের উপর চাপিয়ে কাউন্সিলর শাহ আলম পার পেয়ে গেছে বছরের পর বছর।গেলো বছর ৫০ হাজার ইয়াবা আটক হওয়ার ঘটনায় ২ জন পাচারকারী কাঊন্সিলর শাহ আলমের নাম স্বীকার করে।উক্ত ঘটনায় কাউন্সিলর শাহ আলমকে প্রধান আসামী করে উখিয়া থানায় মামলা হয়।উক্ত মামলায় এখনো পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়ন্দাদের সাথে সখ্যতা থাকার কারনে সে পারপেয়ে যাচ্ছে বলে দাবী তুলেছে সূত্রটি।বিগত সময়ে ফাইভ ষ্টার সিণ্ডিকেটের নামে বাস টার্মিনাল ও আর এম ফিসারীজ কেন্দ্রীক ইয়াবা সম্রাজ্য গড়ে তুলে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,হেচ্ছারকার খাল ব্রীজ এলাকা,আরএম ফিশারীজ প্রজেক্ট এলাকার উভয় পাশ,ফরেষ্ট রেস্ট হাউজের উত্তর পাশের ব্রীজ,সওজ বাংলোর কেয়ারটেকার ছৈয়দের বাড়ি সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশ,বড়ইতলী হাফেজের আদম ঘাট,১৪ নং ব্রীজ এলাকা দিয়ে ইয়াবার চালান খালাস করে থাকে।টাকার পাহাড় বানিয়ে আপন ভাই সাবেক কাউন্সিলর হাজী ইউনুছ কে টক্কর দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা গড়ে তুলে অঢেল টাকার মালিক বনেছে।নামে বেনামে টেকনাফ,কক্সবাজারে কয়েকটি জমি,বাড়ি ও সিএনজি ও নোহা গাড়ী রয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার ওয়ার্ডের এক প্রবীন মুরব্বী যিনি নিজেকে এক সময় তার লেবার হিসেবে ছিলেন দাবী করে জানান,ইয়াবার টাকায় তিনি এতোটা বেপরোয়া হয়ে গেছে যে তার বাহিনী দিয়ে নিজ বাড়ী থেকে তার কিশোরী মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে নির্যাতন করেছেন।বিষয়টি তিনি জেলা পুলিশ সুপার কে লিখিত ভাবে অবগত করা হয়েছে বলে জানান।

অপরদিকে স্থানীয় একটি শালিসে ৫০ হাজার টাকা ঘূষ নিয়ে পরবর্তিতে ভাগের ২০ হাজার টাকা মহিলা কাউন্সিলর কে দিতে গিয়ে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়।তবে উক্ত ২০ হাজার টাকা মহিলা কাঊন্সিলর ক্ষতিপূরন দাতা মহিলাকে ফেরত করার সত্যতা পাওয়া গেছে।এইভাবে একজন সামান্য ওয়ার্ড কাউন্সিরলরে নেতৃত্বে যদি সমস্ত ভয়ংকর অপরাধের কারনে সমাজ ক্ষতি গ্রস্থ হয়,তা হলে এই সব জনপ্রতিনিধের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক।বিষয়গুলো স্থানীয় প্রশাসন,এমপি,মেয়র সহ সবার জানা রয়েছে।জনপ্রতিনিধি হয়েও এমন কোন অপকর্ম নেই যেটাতে এই শাহ আলমের সম্পৃক্ততা নেই।

স্থানী সূত্রে জানা গেছে,রোহিঙ্গা ডাকার আব্দুল হাকিমের সাথে তার সখ্যতা অত্যান্ত গভীর।গত দু’বছর আগে নাফ নদী থেকে ২০ কার্ড (দুই লক্ষ)পিস ইয়াবা ডাকাতি করে স্থানী ইউনিয়ন ও পৌর জনপ্রতিনিধিদের সাথে ভাটোয়ারা করে হজম করে নিয়েছিল।সেই ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে প্রতিবেদকের সাথে থাকা স্থানীয় পত্রিকার এক সাংবাদিক কে মারতে তেড়ে আসেন।এদিকে চলমান ইয়াবা বিরোধী অভিযানে অত্বগুপনে থাকলেও থেমে নেই তার অবৈধ ব্যবসা।বর্তমান তার প্রধান চামচা আব্দুসালামের পুত্র আব্দুল হক মিস্ত্রী তার ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রনের সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে।অনুসন্ধানে পাওয়া উপাত্ত মতে কাউন্সিলর শাহ আলমের অপরাধ জগত গুড়িয়ে দিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনা জরুরী বলে স্থানীয় সুশীল সমাজ দাবী তুলেছেন।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 10
    Shares