Home / সারাদেশ / কুড়িগ্রামে জ্বীনের বাদশার দাপটে বাড়ি ছাড়া অসহায় ব্যবসায়ী

কুড়িগ্রামে জ্বীনের বাদশার দাপটে বাড়ি ছাড়া অসহায় ব্যবসায়ী

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে জ্বীনের বাদশার দাপটে দুই মাস থেকে নিজ বাড়ি থেকে উৎখাত হয়ে পরবাসী হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অসহায় ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম। থানা পুলিশ ওই ব্যবসায়ীর নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলেও জাদুকরি জ্বীনের বাদশা আলতাফ হোসেনের দাপটে বাড়িতে থাকতে পারছে না অসহায় পরিবারটি। বাড়িতে তালা ঝুঁলিয়ে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে, জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার আলপের তেপতি গ্রামের মৃত আঃ করিমের পুত্র ব্যবসায়ী মফিজুলের ভালোই চলছিল দিনকাল। এরই এক পর্যায়ে ২০০৬ইং সালে সন্তানদের ভবিষ্যত চিন্তা করে একই এলাকার আনছার, আফসার ও আব্বাস আলীদের নিকট হতে মফিজুল ইসলাম তিন দফায় ২৪ শতক জমি ক্রয় করে ১৭ বছর ধরে ভোগদখল করছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পরে একই এলাকার সাবেক খাদ্য কর্মকর্তা আালতাফ হোসেন (জ্বীনের বাদশা)’র দৃষ্টি পড়ে মফিজুল ইসলাম’র ক্রয়কৃত জমির উপর। তিনি বিক্রেতাকে প্ররোচনা দিয়ে কথিত জমির মালিক দাবিকারী মজিবর রহমান গংদের লেলিয়ে দিয়ে গত ১৫/০১/২০১৮ইং রাতের আধারে আকস্মিকভাবে ২৪ শতক জমির উপর টিনশেড ৫টি পাকা দোকান ঘর এবং সুপারি বাগান দখল করে নেন। এর প্রতিবাদে নাগেশ্বরী থানায় অভিযোগ করলে থানা কর্তৃপক্ষ দু’দফায় সালিশ বৈঠকে বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে মফিজুল ইসলামের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু এতে বাঁধ সাধে জ্বীনের বাদশা আলতাফ হোসেন। বৈঠক ত্যাগ করে ওসিকে চ্যালেঞ্জ করে মজিবর গংদের ইন্ধন জোগাতে থাকেন। পাশপাশি তার জাদুবিদ্যা দিয়ে গত এক মাস আগে মফিজুল ইসলামের পরিবারকে রোগে আক্রান্ত করেন। এতে তার ভগ্নিপতি আফসার আলী কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে মৃত্যু বরন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নিজের জমি সংরক্ষণের জন্য বিজ্ঞ কোর্টে একটি মামলা করেন মফিজুল ইসলাম। যাহার নং-৬৭৪, তাং-১০/০৪/১৮ইং। বিজ্ঞ কোর্ট পরবর্তীতে দখলকৃত জমি যাতে কেউ অবৈধভাবে দখল না নেয় এজন্য ১৪৪ ধারা জারি করেন। এতে পিছপা হননি জ্বীনের বাদশা আলতাফ হোসেন ও মজিবর রহমান গং। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মফিজুল ইসলামের বাড়ির গেট এবং টিনশেড ৫টি দোকান ঘরে তালা ঝুলছে। স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন- আমি ১৭/১৮ বছর যাত এই জমি মফিজুলকে ভোগদখল করতে দেখেছি। কিন্তু এখন যারা বেদখল করেছে আমি তাদেরকে চিনি না। স্থানীয় রায়গঞ্জ ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক জমি বিক্রেতা মোঃ আব্বাস আলী জানান-আমরা মফিজুল ইসলামের নিকট বৈধভাবে জমি বিক্রি করেছি। তিনিই ওই জমির বৈধ মালিক। নাগেশ্বরী পৌর মেয়র মোঃ আব্দুর রহমান জানান-আমি যতটুকু জানি ক্রয়সূত্রে ওই জমির প্রকৃত মালিক মফিজুল ইসলাম। দুই পক্ষের বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। এ বাপারে কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাকির হোসেন বলেন-ঘটনাটি জমিজমা সংক্রান্ত। আমার পক্ষ থেকে নিরপেক্ষভাবে যতটুকু সহযোগিতা করার তা করেছি। বিষয়টি আদালতের।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 29
    Shares