কোন্দলে জর্জর আ’লীগ, আসন উদ্ধার চায় বিএনপি

ক্রাইম প্রতিদিন : কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনটি ২০০১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে ছিল বিএনপির কব্জায়। এখানে আওয়ামী লীগে রয়েছে ব্যাপক কোন্দল। আর যোগ্য প্রার্থী দিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি। নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই দলের একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

এ আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের সোহরাব উদ্দিন। ২০১৪ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখলেও দলে গ্রুপিং ও কোন্দলের কারণে তার প্রতি অনেক নেতা-কর্মীই নাখোশ। গ্রুপিংয়ের কারণে অনেক নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার বিষয়েও তার বিরুদ্ধে স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধা ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দিয়েছেন। এ নিয়ে দলের ভিতরে ও বাইরে ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, স্বার্থান্বেষী মহল তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।

এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক এম এ আফজল। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারী হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে। আওয়ামী লীগের অপর সম্ভাব্য প্রার্থী পাকুন্দিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেণু। এ আসনে তার রয়েছে আলাদা ইমেজ। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে হাজারও নেতা-কর্মীর সম্মিলন ঘটাতে পারেন। এ কারণে অনেকেই তাকে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা বলে সম্বোধন করেন।

এ ছাড়া পুলিশের সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদ এক বছর ধরে এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মীকে তার সঙ্গে দেখা গেছে। নম্র্র, ভদ্র, মিষ্টভাষী ও মিশুক স্বভাবের অধিকারী হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তবে তিনি কোন দল থেকে প্রার্থী হবেন, তা স্পষ্ট করেননি। তিনি জানান, সময় হলেই সবকিছুই স্পষ্ট হবে।

এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য অপর প্রার্থীরা হলেন, কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লায়ন আলী আকবর, মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক দীন মোহাম্মদ নূরুল হক, মঈনুজ্জামান অপু, তারিকুল মোস্তাক রানা, এম এ মান্নান ও জায়েদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। বিএনপি থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। পরবর্তীতে দল থেকে তিনি বহিষ্কার হন। তবে তিনি অব্যহতভাবে দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

দলীয় বৃত্তের বাইরেও এলাকায় তার রয়েছে আলাদা বলয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে পরাজিত হন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইদ্রিস আলী ভূঁইয়া। আগামী নির্বাচনে তিনি আবারও মনোনয়ন চাইবেন। সম্ভাব্য অপর প্রার্থীরা হলেন পাকুন্দিয়া পৌরসভার মেয়র আক্তারুজামান খোকন, সাবেক মেয়র জালাল উদ্দিন, জেলা বিএনপিরসহ সভাপতি রুহুল আমিন আকিল ও আশফাক আহমেদ জুন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান কাকন। জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তৎপরতা চালাচ্ছেন কটিয়াদী উপজেলার সহ সভাপতি সৈয়দ সাদরুল্লা মাজু।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 7
    Shares